সেরা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ - চট্টগ্রাম
ক্রিমগুলো যেগুলো পুরোপুরি সারাতে পারল না
বাথরুমের বেসিনের ওপরের তাকে চারটা টিউব সাজানো, একটাও শেষ হয়নি। তাঁর বয়স একচল্লিশ। কয়েক সপ্তাহ ধরে স্রাব আর চুলকানিটা আসে আবার চলে যায়। পাড়ার দোকানের প্রতিটা নতুন টিউব তিন-চার দিন সব শান্ত রাখে। তিনি একটু স্বস্তি পান। তারপর সন্ধ্যা নামলেই চুলকানিটা ফিরে আসে, সপ্তাহশেষে আরেকটা টিউব কিনতে হয়।
পুরো কথাটা তিনি আজ পর্যন্ত কাউকে বলেননি। বোন শোনে ছোট্ট একটা সংস্করণ, এমন কিছু যা নিজে নিজেই সেরে যাবে। আসলে দোকানের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে অনুমান করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে গেছেন। একজন গাইনোকোলজিস্ট পুরো কথাটা মন দিয়ে শোনেন, সঙ্গে আনা রিপোর্ট দেখেন, পরীক্ষা করার পরই পরামর্শ দেন। আপনি চট্টগ্রামে থাকলে শুরুটা করতে পারেন চট্টগ্রামের ডাক্তারদের তালিকা থেকে নিজের সুবিধামতো একজনকে বেছে নিয়ে।
চেম্বারে বসে মুখে বলা আর দোকানে আরেকটা টিউবের দিকে চুপচাপ আঙুল দেখানো এক জিনিস নয়। এই ধরনের গল্প বিশেষজ্ঞ বহুবার শুনেছেন, তাই আপনি যা বলবেন তাতে তিনি চমকাবেন না। বদলে যায় শুধু একটাই ব্যাপার। ওপর ওপর শান্ত করার বদলে এবার কেউ সমস্যাটা সত্যিকারে পরীক্ষা করে দেখবেন।
23 available specialists found
Dr. Syeda Yeasmin Akter
Dr. Shahanaj Akther
Dr. Seema Bhattacharjee
Dr. Farzana Chowdhury
Dr. Rehnuma Tarannum Shumi
ক্রিমগুলো যেগুলো পুরোপুরি সারাতে পারল না
টিউব শেষ হয়, আবার নতুনটা খোলা হয়
ধারাটা প্রতিবার একই। নতুন টিউবটা তাড়াতাড়ি কাজ করে, দুই দিন শান্ত থাকে, তিনি ভাবেন এবার বুঝি শেষ হলো। চতুর্থ দিন গড়াতেই বিছানায় যাওয়ার সময় চুলকানিটা ফিরে আসে। খোলা টিউবটা তখন তাকের আধা-শেষ সারিতে গিয়ে দাঁড়ায়। সপ্তাহের পর সপ্তাহ এভাবে চলতে চলতে একটা কথা তিনি পরিষ্কার বুঝেছেন। ওপরটা শান্ত হয়, কিন্তু ভেতরে কিছুই পরীক্ষা করা হয়নি।
প্রথম ভিজিটে গাইনোকোলজিস্ট জিজ্ঞেস করবেন, কবে থেকে শুরু আর এ পর্যন্ত কী কী ব্যবহার করেছেন। প্রতিটা টিউবের কথা সত্যি করে বলুন, কারণ এই ইতিহাসটা সময় বাঁচায়। তারপর তিনি পরীক্ষা করবেন, করতে করতে বুঝিয়ে বলবেন। চেক শেষ হওয়ার পরই তিনি বলবেন কী করলে উপকার হতে পারে। পরের ধাপের আলোচনার আগেই আপনি জেনে যাবেন তিনি কী পেয়েছেন।
যে কারণে তিনি কথাটা চেপে বলেন
ফার্মেসির কাউন্টারে গেলে নিজের অজান্তেই তাঁর গলা নেমে আসে। বাড়িতে বোন জিজ্ঞেস করলে উত্তরটা ছোট আর নিরাপদ থেকে যায়। এই লজ্জাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এমন অনেকেই আছেন যাঁরা মাসের পর মাস এমন সমস্যা বয়ে বেড়ান, খুলে বলতে পারেন না।
চেম্বারের ঘরটা ঠিক এই ধরনের কথার জন্যই। গাইনোকোলজিস্টরা স্রাব, চুলকানি আর জ্বালাপোড়ার কথা প্রতি সপ্তাহেই শোনেন। ঠিক শব্দটা খুঁজতে গিয়ে সেদিন আপনিই প্রথম আটকাবেন না। আর সেজন্য কেউ আপনাকে বিচারও করবে না।
সমস্যাটায় সার্জনের চোখ লাগলে
তাঁর মতো গল্প নিয়ে আসা বেশিরভাগ নারীর চিকিৎসা গাইনোকোলজিস্টের কাছেই থাকে। তবে মাঝে মাঝে পরীক্ষায় এমন প্রশ্ন ওঠে যার উত্তর সার্জারির দিকে। তখন সাধারণত একজন জেনারেল সার্জনের মতামত নেওয়া হয়। সেই ধাপে কখনো পৌঁছালে চট্টগ্রামের জেনারেল সার্জনদের তালিকা এখানে দেখে নিতে পারবেন কে কাছাকাছি আছেন।
রসিদের পেছনে লেখা নোটগুলো
এক সন্ধ্যায় তিনি একটা দোকানের রসিদ উল্টে পেছনে লিখতে বসলেন। কোন কোন তারিখে চুলকানিটা বেড়েছিল। কোন টিউবটা তখন ব্যবহার করছিলেন। প্রতিটা টিউব কত দিন শান্ত রাখতে পেরেছিল। ছোট্ট এই কাগজের টুকরোটা তাঁর স্মৃতির চেয়ে পরিষ্কার ইতিহাস ধরে রেখেছে, তাই এটা সঙ্গে আনুন। বাড়িতে রাখা পুরনো রিপোর্টগুলোও নিয়ে আসার মতো।
প্রতিদিনের ওষুধগুলোর নামও লিখে রাখুন, কোনটা কীভাবে খান সেটাসহ। প্রতিটা ওষুধ প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হুবহু খেয়ে যান, প্রতিদিন। কোনো ওষুধ বদলাতে পারেন শুধু যিনি সেটা প্রেসক্রিপশনে লিখে দিয়েছেন তিনিই। এই ভিজিটের কারণে নিজে থেকে কিছু বন্ধ করা, বাদ দেওয়া বা বদলানো যাবে না।
স্রাবের সঙ্গে এসব লক্ষণ থাকলে আজই
আসা-যাওয়া করা স্রাব সাধারণত আগে থেকে ঠিক করা অ্যাপয়েন্টমেন্টেই দেখানো যায়। কিন্তু কিছু বদল সেই সুযোগ দেয় না। এর সঙ্গে জ্বর জুটলে সেদিনই দেখাতে হবে। তলপেটে তীব্র ব্যথা হলেও একই কথা। ভারী রক্তপাতও বাড়িতে বসে দেখার বিষয় নয়। এর যেকোনো একটা ঘটলে সেদিনই যান।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ক্রিম লাগালে কয়েক দিন শান্ত থাকে, তারপর আবার ফিরে আসে। তবু কি আসা উচিত?
হ্যাঁ। প্রতিটা টিউবের পর ফিরে আসা সমস্যার দরকার পরীক্ষা, আরেকটা অনুমান নয়।
এসব কথা বলতে লজ্জা লাগে। কীভাবে শুরু করব?
রসিদের নোটগুলো দিয়ে শুরু করুন। সেগুলো এগিয়ে দিন, বাকি প্রশ্ন তিনিই করবেন।
যে টিউবগুলো ব্যবহার করেছি, সেগুলো কি সঙ্গে নিয়ে যাব?
নিয়ে যান, নয়তো নামগুলো লিখে নিন। কী কী কাজ করেনি জানলে তাঁর অনেকটা বোঝা হয়ে যায়।
প্রথম ভিজিটেই কি তিনি আমাকে পরীক্ষা করবেন?
সাধারণত হ্যাঁ, আগে আপনার ইতিহাস শোনার পর। প্রতিটা ধাপ তিনি বুঝিয়ে বলবেন, চাইলে মাঝপথে থামতেও পারবেন।
যেসব ওষুধ নিয়মিত খাই, সেগুলো কি এভাবেই চলবে?
চলবে, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হুবহু। বদলাতে পারেন শুধু যিনি প্রতিটা ওষুধ লিখে দিয়েছেন তিনিই।
আজ রাতে আবার ফিরে এসেছে, সঙ্গে জ্বরও আছে। সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে?
না। জ্বর থাকলে ছবিটাই বদলে যায়, তাই সকালের অপেক্ষা না করে আজই দেখান।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.