সেরা স্ত্রীরোগ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ - বগুড়া

হ্যান্ডব্যাগে রাখা ছোট্ট নোটবুকটা

বয়স আটত্রিশ। বগুড়ায় থাকেন তিনি। তাঁর সমস্যাটা হলো, পিরিয়ডের সময় ছাড়াও মাঝে মাঝে রক্তপাত হয়। পিরিয়ড নিজের নিয়মে আসে, শেষও হয় ঠিকঠাক। তারপর মাঝের শান্ত সপ্তাহগুলোতে হঠাৎ দাগ দেখা দেয়। কখনো এক দিনের হালকা রক্তপাত হয়। কখনো থেমে গিয়ে পরের পিরিয়ডের আগেই আবার ফিরে আসে।

তারিখ লেখার অভ্যাসটা শুরু হয়েছিল প্রায় কাকতালীয়ভাবে। হ্যান্ডব্যাগে একটা ছোট নোটবুক থাকে, বাজারের ফর্দের জন্য কেনা। চাল আর তেলের হিসাবের পাশে তিনি রক্তপাতের দিনগুলোতে ছোট্ট একটা করে দাগ দিতে শুরু করেন। কয়েক মাসে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরে গেছে সেই দাগে। স্মৃতিতে যা ধরাই পড়ছিল না, কাগজে তা পরিষ্কার ছক হয়ে বসে আছে।

শেষ পর্যন্ত এই নোটবুকটাই তাঁকে ডাক্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত পর্যন্ত টেনে এনেছে। গাইনোকোলজিক অনকোলজিস্ট এমন অনিয়মিত রক্তপাতের ধরন নিয়েই কাজ করেন। প্রথম দেখায় নোটবুকটা পুরনো রিপোর্টের পাশে রাখলে তারিখগুলোই আগে কথা বলবে। বিশেষজ্ঞ মন দিয়ে শুনবেন, যত্নে পরীক্ষা করবেন, তারপরই পরের ধাপের কথা উঠবে। বগুড়ার ডাক্তারদের তালিকা দেখে সুবিধামতো একটা দিন ঠিক করে ফেলুন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

হ্যান্ডব্যাগে রাখা ছোট্ট নোটবুকটা

পেনসিলের দাগগুলো আসলে ছিল বাজারের হিসাবের জন্য। শেষে সেগুলোই বলে দিল সেই কথাটা, যেটা স্মৃতি বারবার গুলিয়ে ফেলছিল।

মাসের পর মাস পেনসিলের দাগ

পৃষ্ঠা উল্টালেই তিনি নিজের বছরটা দাগে দাগে পড়তে পারেন। কোনো মাসে তিন দিনের দাগ, কোনো মাসে পাঁচ দিনের। মাঝের ফাঁক এক ঋতুতে লম্বা, আরেক ঋতুতে খাটো। আলাদা করে দেখলে প্রতিটা ঘটনা ছোট মনে হয়েছে। কাগজে পাশাপাশি বসাতেই সেগুলো আর ছোট রইল না।

না বুঝেই লিখে রাখা কাজের তথ্য

প্রতিটা লেখায় শুধু তারিখই নেই। রক্তপাত কত দিন ছিল, হালকাই রইল নাকি পুরোদমে হলো, সেসবও লেখা আছে। যেসব সপ্তাহে কিছুই হয়নি, সেগুলোও তিনি বাদ দেননি। একটা ধরন বুঝতে গেলে বিশেষজ্ঞ ঠিক এই সাধারণ বিবরণগুলোই সবার আগে পড়েন।

নোটবুকটা নিয়ে ঘরে ঢুকলে যা হয়

নোটবুক খোলা থাকলে চাপের মুখে স্মৃতির ওপর ভরসা করতে হবে না। বিশেষজ্ঞ তারিখগুলো পড়ে আরও যা যা জানার জিজ্ঞেস করবেন, তারপর ঠিকমতো পরীক্ষা করবেন। দাগ দেওয়া পৃষ্ঠাগুলোর পাশে পুরনো রিপোর্টও জায়গা পাবে। শুধু গল্প শুনেই কোনো সিদ্ধান্ত হয় না। পরীক্ষা আর কাগজপত্রের পরেই আসে পরিকল্পনা।

বিশেষজ্ঞ বেশি বড় ধাপ মনে হলে

এমন নীরব উদ্বেগ নিয়ে সবাই সরাসরি বিশেষজ্ঞের কাছে ছুটতে পারেন না। একজন বগুড়ার জেনারেল সার্জনও তাঁর সঙ্গে বসে তারিখগুলো শুনে পরীক্ষা করতে পারবেন। চুপচাপ আরও এক মাস ভাবার চেয়ে যেকোনো অভিজ্ঞ ডাক্তারের যত্নে করা প্রথম পরীক্ষাটাই ভালো।

চলতি ওষুধ যেভাবে চলছিল সেভাবেই থাকবে

সকালের ওষুধটা তাঁর সম্পূর্ণ অন্য কারণে দেওয়া, আর সেটা চলবে ঠিক যেভাবে ডাক্তার লিখে দিয়েছেন। অদ্ভুত এই রক্তপাত কোনো ওষুধ ফেলে দেওয়ার বা সময় বদলে ফেলার নির্দেশ নয়। নিজে থেকে প্রেসক্রিপশন বদলানো কারো কাজ নয়। সেই সিদ্ধান্ত একমাত্র ওষুধ যিনি দিয়েছেন, তাঁরই।

যে রক্তপাত আর নোটবুকে লিখে রাখার বিষয় নয়

পেনসিলে দাগ দেওয়ার মতো মৃদু রক্তপাত এক কথা। এক ঘণ্টার মধ্যে সুরক্ষা ভিজিয়ে দেওয়া রক্তপাত সম্পূর্ণ অন্য কথা। এর সঙ্গে মাথা ঘোরা এলে, কিংবা সত্যিই জ্ঞান হারালে, সেদিনই দেখাতে হবে। তলপেটে তীব্র ব্যথাও একই তালিকায় পড়ে।

মুখ ফুটে যা যা জিজ্ঞেস করতে চান

পিরিয়ডের মাঝখানে রক্তপাত মানেই কি সব সময় বড় কিছু?

শুধু তারিখ দেখে কেউ এটা নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। যে বলবেন, তিনি আন্দাজ করছেন মাত্র। এটা বারবার ফিরে আসা একটা বদল, আর এমন বদলের পরীক্ষা হওয়া দরকার। পেছনে কী আছে, পরীক্ষাগুলো সেটা খুঁজতেই করা হয়।

দেখানোর দিন পর্যন্ত তারিখ লিখে যাব তো?

হ্যাঁ, একই সহজ নিয়মে লিখে যান। নতুন তথ্য ধরনটাকে আরও পরিষ্কার করে, পুরনো করে না। অগোছালো প্রথম পৃষ্ঠাগুলোসহ সব পৃষ্ঠাই সঙ্গে নিন।

নোটবুক ছাড়া আর কী কী নিয়ে যাব?

আগের পরীক্ষার রিপোর্ট আর এখন যেসব ওষুধ খাচ্ছেন তার তালিকা নিন। আগের কোনো ডাক্তারের রিপোর্ট থাকলে সেটাও নেওয়া দরকার। স্মৃতি যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না, কাগজ সেগুলোর উত্তর দেয়।

আমার তো কোনো ব্যথাই হয় না। এতে কি জরুরি ভাব কমে?

ব্যথাই শরীরের পাঠানো একমাত্র সংকেত নয়। মাসের পর মাস ফিরে আসা রক্তপাতের ধরন নিজেই যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। তাঁর নোটবুক সেটা ইতিমধ্যে পরিষ্কার দেখিয়ে দিয়েছে।

প্রথম দিনেই কি কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে?

প্রথম দিনটা শোনা, পরীক্ষা আর কাগজপত্র দেখার জন্য রাখা। সেখান থেকেই পরিকল্পনা শুরু হতে পারে, আবার তার আগে আরও পরীক্ষাও আসতে পারে। দুটোই প্রথম দেখার স্বাভাবিক পরিণতি।

কোন ধরনের রক্তপাত হলে অপেক্ষা ছেড়ে আজই যাব?

এক ঘণ্টার মধ্যে ভিজিয়ে দেওয়ার মতো ভারী রক্তপাত হলে। মাথা ঘুরে ঘরটা দুলতে থাকলে, কিংবা একেবারে জ্ঞান হারালে। তলপেটের ব্যথা তীব্র আকার নিলে। সেদিন নোটবুক বাসায় থাকবে, আপনি যাবেন ডাক্তারের কাছে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.