সেরা জেনারেল ফিজিশিয়ান - নোয়াখালী

গাড়ি থেকে নেমে প্রথম মিনিটটা

বয়স সাতচল্লিশ। নোয়াখালীতে পিকআপ ভ্যান চালান তিনি, কোনোদিন মালামাল, কোনোদিন যাত্রী। গাড়ি চালাতে এখনো তার কষ্ট হয় না। কষ্টটা শুরু হয় থামার পর। দরজা খুলে এক পা নামান, তারপর দরজার কাঠামো ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। কোমরটা ছাড় পেতে পুরো এক মিনিট লেগে যায়।

লম্বা পথে বসে থাকলেই সমস্যাটা জমে ওঠে। দুই ঘণ্টা স্টিয়ারিংয়ে থাকলে কোমরের নিচের দিকটা শক্ত হয়ে আসে। বেশিক্ষণ একভাবে বসে থাকলে এক পায়ে ঝিঁঝি ধরে। হাঁটাহাঁটি করলে আবার কমে যায়। প্রায় স্বাভাবিক লাগে তখন। এই কমে যাওয়ার কারণেই ডাক্তারের কাছে যাওয়াটা মাসের পর মাস পেছাচ্ছে।

বারবার ফিরে আসা ধরনকে আরেকটা লম্বা ড্রাইভ দিয়ে পরীক্ষা না করাই ভালো। প্রথমে একজন জেনারেল ফিজিশিয়ানের কাছে যান। তিনি কোমর, পা, কাজের ঘণ্টা আর ঘুমের কথা একসঙ্গে শুনবেন, প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো করবেন। নোয়াখালীতে ডাক্তারদের তালিকা থেকে ছুটির দিনে যাওয়া যায় এমন একজন সাধারণ চিকিৎসক বেছে নিন। কোন ধরনের ড্রাইভে কষ্টটা ওঠে, সেটা আগে থেকে মনে করে রাখলে ডাক্তারের বুঝতে অনেক সুবিধা হবে।

1 available specialists found

গাড়ি থেকে নেমে প্রথম মিনিটটা

স্ট্যান্ডের অন্য চালকেরা ব্যাপারটা খেয়াল করতে শুরু করেছে। সবার আগে নামেন তিনি, কিন্তু হাঁটা শুরু করেন সবার শেষে। নিজেই হেসে বলেন, বয়স হচ্ছে। হাসিটা আজকাল নিজের কাছেই ফাঁকা লাগে।

ছোট পথে কিছু হয় না, লম্বা পথেই ধরা পড়ে

শহরের ভেতরে আধঘণ্টার ট্রিপে শরীর ঠিকঠাক থাকে। গণ্ডগোলটা লম্বা পথের। সিটে একই ভঙ্গিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় সেখানে। দ্বিতীয় ঘণ্টা পেরোলেই কোমর শক্ত হতে থাকে। তৃতীয় ঘণ্টায় পায়ে ঝিঁঝি নামে, সুচ ফোটার মতো অনুভূতি নিয়ে।

নিজে নিজে চেষ্টা কম করেননি তিনি। পেছনে ভাঁজ করা কাপড় গুঁজে দেখেছেন। মাঝপথে চায়ের বিরতি বাড়িয়েছেন। রাতে মলম ঘষেছেন। প্রতিটায় সামান্য আরাম মিলেছে। পরের লম্বা ড্রাইভের ছবিটা বদলায়নি কোনোটাতেই।

গাড়ির গল্প আর শরীরের গল্প একই বসায়

সাধারণ চিকিৎসক শুরু করেন প্রশ্ন দিয়ে। দাঁড়িয়ে থাকার এই মিনিটটা শুরু হলো কবে থেকে? ঝিঁঝি কোন পায়ে নামে, কতটা নিচ পর্যন্ত যায়? কোন কাজে কমে, কোন অবস্থায় নিশ্চিতভাবে ফিরে আসে?

তারপর পরীক্ষা। কোমর আর পা দেখা হবে, নড়াচড়া আর জোর যাচাই হবে। সব শুনে-দেখে ডাক্তার একটা ক্রম ঠিক করবেন। কোনটা আগে দেখা দরকার। কোনটা নজরে রাখলেই চলবে। আর কোনো অংশ বিশেষজ্ঞের বিষয় হলে সেটাও তখনই জানা যাবে।

রাস্তায় থাকা মানুষের জন্য ওষুধের নিয়ম

আগে থেকে কোনো ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ চললে পথের দিন আর ছুটির দিনে নিয়ম একই থাকবে। ঠিক যেভাবে বলা আছে, সেভাবেই খেয়ে যান। ছোট ট্রিপের দিন ভালো গেছে বলে বাদ দেবেন না। ওষুধ বাঁচিয়ে রাখতে ফাঁক বাড়ানোও ঠিক নয়। নিয়ম বদলানোর সিদ্ধান্ত শুধু চিকিৎসারত ডাক্তারের।

নোয়াখালীতে জেনারেল ফিজিশিয়ান বেছে নেওয়া

আপনার ফাঁকা সময় বুকিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে, তাই চেম্বারের সময়টাই এখানে বড় কথা। প্রোফাইলে যোগ্যতা আর রোগী দেখার সময় আগে দেখে নিন। এমন দিনে সময় নিন, যেদিন দেখানোর পর লম্বা ড্রাইভ নেই। সাক্ষাতে পুরো একটা ড্রাইভিং দিনের কথা বলুন, দাঁড়িয়ে থাকা মিনিটটাসহ। কোনো পর্যায়ে অপারেশনের মতামত দরকার মনে হলে ডাক্তার আপনাকে নোয়াখালীতে জেনারেল সার্জনের কাছে পাঠাতে পারবেন।

কোমরের কষ্ট অপেক্ষা করতে পারে, এসব লক্ষণ পারে না

লম্বা ড্রাইভের পরের শক্ত ভাব সাধারণত তারিখ নিয়ে দেখালেও চলে। কিন্তু কয়েকটা লক্ষণের বেলায় এক দিনও দেরি নয়। বুকে ব্যথা চাপ দিলে সেদিনই চিকিৎসা নিন। শ্বাস নেওয়া কষ্টের হয়ে উঠলেও তাই। অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে অপেক্ষার প্রশ্নই ওঠে না। জ্বর বেশি উঠে না নামলে, হঠাৎ কোনো অঙ্গে বা সারা শরীরে বল না পেলে, কিংবা হঠাৎ সব গুলিয়ে গেলেও সেদিনই যেতে হবে।

চালকের আসন থেকে ওঠা প্রশ্ন

শুধু লম্বা পথেই কোমর শক্ত হয় কেন?

এক ভঙ্গিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকাটা এই গল্পের অংশ। কখন শুরু হয়, কতক্ষণ থাকে, কীসে ছাড়ে, ডাক্তার এই সময়ের হিসাবটাই জানতে চাইবেন।

হাঁটলেই ঝিঁঝি চলে যায়। তবু কি বলার দরকার আছে?

আছে। আসে-যায় এমন লক্ষণও হিসাবে ধরা হয়। কোন পায়ে নামে আর কখন নামে, তা ডাক্তারের কাজে লাগবে।

সিটটাই কি আসল সমস্যা? গাড়ি বদলালেই হবে?

ভালো সিটে আরাম বাড়তে পারে। কিন্তু পরীক্ষার বদলি সেটা নয়। আগে ডাক্তারকে দেখান, তারপর বাকি বদলের সিদ্ধান্ত নিন।

যাওয়ার আগে কী কী মনে রাখব?

কত লম্বা ড্রাইভে কষ্ট ওঠে, কোন পায়ে ঝিঁঝি নামে, আর নামার পর দাঁড়িয়ে থাকতে হয় কতক্ষণ। এক সপ্তাহের মোটামুটি হিসাবই যথেষ্ট।

প্রথম দিনেই কি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে?

পরীক্ষার আগে নয়। অনেক প্রথম সাক্ষাত শেষ হয় প্রাথমিক পরীক্ষা আর একটা পরিকল্পনা দিয়ে। দরকার পড়লেই কেবল রেফার করা হয়।

কোন লক্ষণে সব ফেলে সেদিনই চিকিৎসা নিতে হবে?

বুকে ব্যথা বা শ্বাস আটকে এলে। অজ্ঞান হয়ে গেলে। জ্বর না নামলে, হঠাৎ দুর্বলতা এলে কিংবা হঠাৎ সবকিছু গুলিয়ে গেলে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.