সেরা গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট - টাঙ্গাইল

সন্ধ্যা হলেই খিদে উধাও

বয়স চুয়াল্লিশ। সারাদিন তিনি গাড়ির নিচে কাজ করেন, আর দুপুর হতে হতে পেটে সত্যিকারের খিদে পায়। ভোরে নাশতা, ওয়ার্কশপের ক্যান্টিনে ভরপেট দুপুরের খাবার, কেউ ঢাললেই চা। শরীরটা চলে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ঠিকঠাক। তারপর যেন সুইচ বন্ধ হয়ে যায়। বাড়ি ফিরে হাত থেকে তেল-কালি ধুয়ে রাতের খাবারে বসেন, আর কিছুই অনুভব করেন না। পেট ভরাও নয়, অসুস্থও নয়। শুধু খিদেটাই নেই।

তার স্ত্রী এখন আর জিজ্ঞেস করেন না কী রাঁধবেন। মাসের পর মাস, বেশিরভাগ রাতে, দেওয়া প্লেটটা ফিরে আসে ছোঁয়াই হয়নি কিংবা নামমাত্র ছোঁয়া। ভদ্রতা করে তিনি দু-এক লোকমা মুখে দেন। কোনো রাতে কয়েক লোকমা খেয়ে বাকিটা ঠেলে সরিয়ে দেন। খালি পেটে ঘুমিয়ে ভোরে ওঠেন প্রচণ্ড খিদে নিয়ে, যেটা পুরো ব্যাপারটাকে আরও অদ্ভুত করে তোলে। সারাদিন শ্রমিকের মতো খাওয়া মানুষ রাতে এক প্লেট শেষ করতে পারেন না।

আপনার খিদেও যদি সন্ধ্যায় উধাও হয়ে যায়, অথচ সারাদিন স্বাভাবিক থাকে, এই তফাতটা ঠিকমতো বলা দরকার। একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট জানতে চাইবেন বদলটা কবে থেকে, আর আপনার সন্ধ্যাগুলো এখন কেমন যায়। টাঙ্গাইলে ডাক্তারদের তালিকা থেকে একজন পরিপাক বিশেষজ্ঞ বেছে নিয়ে কথা বলুন। মাসের পর মাস রাতের খাবার বাদ যাওয়া ছোট ব্যাপার নয়, নাশতা দিয়ে সেটা ঢাকা পড়লেও।

1 available specialists found

ডাঃ মো. মাসুদুল আলম (সৈকত)

Qualifications এমবিবিএস (ডিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি)।
অবস্থান টাঙ্গাইল সদর, টাঙ্গাইল

সন্ধ্যা হলেই খিদে উধাও

তফাতটা অদ্ভুতভাবে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলে। ছুটির দিনেও একই ঘড়ি, কাজের দিনেও। সকাল আর দুপুরে তার খিদে আগের মানুষটার মতোই। সন্ধ্যা এলেই সেটা নেই, রাতের খাবার সাদা ভাত হোক বা যত্ন করে রাঁধা কিছু। তিনি আগেভাগে, পাঁচটায় খেয়ে দেখেছেন, সুইচটা বন্ধ হওয়ার আগেই। মাঝে মাঝে কাজ হয়। বেশিরভাগ দিন তখনো খিদে থাকে না, শুধু একটু কম অনুভূত হয়।

সন্ধ্যাগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ যা জিজ্ঞেস করবেন

প্রশ্ন হবে পুরো একটা দিনের আকৃতি নিয়ে। সন্ধ্যার বদলটা কবে থেকে, হঠাৎ নাকি ধীরে ধীরে? দুপুরের আগে কতটা খান, অন্ধকারের পর কতটা? ওজন কি নড়েছে, খালি পেটে ঘুম কেমন হয়? যাওয়ার আগে এক সপ্তাহের হিসাব লিখে রাখুন: কোন বেলা খেলেন, কোন বেলা বাদ গেল, সময়সহ। নিয়মিত ওষুধের কথাও জানাবেন, ঘুমের জন্য বা পেট শান্ত রাখতে খাওয়া কিছু থাকলেও।

কয়েকটা বদল দেখলে তারিখের জন্য বসে থাকা চলবে না। বমিতে রক্ত কিংবা গাঢ় কফির গুঁড়ার মতো কিছু এলে সেদিনই চিকিৎসা নিতে হবে। পায়খানা কালো আর আঠালো আলকাতরার মতো হলে তাড়াতাড়ি দেখানো জরুরি। খাবার নামার পথে আটকে গেলে, কিংবা গিলতে সত্যিই কষ্ট হলে অপেক্ষা না করে জানান। কোনো চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমতে থাকাও দ্রুত দেখানোর লক্ষণ। আর পেটে তীব্র ব্যথা ঘুমিয়ে পার করার বিষয় নয়। অন্য ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ চললে অপেক্ষার দিনগুলোতে ঠিক আগের নিয়মেই চালিয়ে যান। সন্ধ্যায় একটু ভালো লাগছে বলে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা বা পরিমাণ বদলানো ঠিক নয়। সেই সিদ্ধান্ত নেবেন শুধু চিকিৎসারত ডাক্তার।

নাশতা ঠিকঠাক, রাতের খাবারই অসম্ভব

নাশতাটাই সবার কাছে বিভ্রান্তির প্রমাণ। তিনি খান কাজ সামনে থাকা মানুষের মতো, কারণ তিনি সত্যিই তাই। তারপর দিনটা ভরে ওঠে ইঞ্জিন আর কাজের চাপে, দুপুরে তিনি না ভেবেই খেয়ে ফেলেন। গল্পটা ভাঙে রাতের খাবারে। স্ত্রী তার পছন্দের রান্নাই করেন। বাচ্চারা পাশে বসে। অথচ সারাদিন বয়ে আনা খিদেটা শুধু আসে না, আর টেবিলের কেউ বলতে পারে না সেটা কবে থেকে থেমে গেছে।

টাঙ্গাইলে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বেছে নেওয়া

এমন চেম্বার বেছে নিন যেখানে ওয়ার্কশপ থেকে সরাসরি যাওয়া যায়, সন্ধ্যার আগেই। বুকিংয়ের আগে প্রোফাইল আর যোগ্যতা পড়ুন, রোগী দেখার সময়টাও জেনে নিন। সাক্ষাতে একটা পুরো দিন সত্যি করে বলুন: জোরালো নাশতা থেকে শুরু করে রাতে ছোঁয়া না-হওয়া প্লেট পর্যন্ত। জিজ্ঞেস করুন প্রথমে কী দেখা হবে, আর কোন বদল দেখলে আগেভাগে ফিরতে হবে। কখনো প্রক্রিয়া বা অপারেশনের মতামত পরিকল্পনায় এলে ডাক্তার হয়তো টাঙ্গাইলে জেনারেল সার্জনের কাছে পাঠাতে পারেন। পুরো দিনটা গুছিয়ে বলা একবারের সাক্ষাৎ, টেবিলে মাসের পর মাস কাঁধ ঝাঁকানোর চেয়ে অনেক ভালো।

রোগীরা যা জিজ্ঞেস করেন

সারাদিন ভালোই খাই। শুধু সন্ধ্যা নিয়েই কি ভাবতে হবে?

হবে। মাসের পর মাস প্রায় প্রতি রাতে ফিরে আসা ধরনের ব্যাখ্যা দরকার। প্রতি রাতে খাবার বাদ যাওয়া ছোট বিষয় নয়, নাশতা জোরালো হলেও।

জোর করে রাতের খাবার খেয়ে নেব?

প্লেট ভরে জোর করে খেলে উপকার কমই হয়, মাঝে মাঝে খারাপ লাগা বাড়ে। স্বস্তিতে যতটা যায় খান, আর ধরনটা দেখিয়ে নিন।

স্ত্রী বলেন ওয়ার্কশপের খাবারই দায়ী। তিনি কি ঠিক হতে পারেন?

আংশিক ঠিক হতেই পারেন, দিনের খাবার নিয়েও ডাক্তার জিজ্ঞেস করবেন। তবে সন্ধ্যার ধরনটার নিজের একটা ব্যাখ্যা তখনও দরকার থাকে।

এক সপ্তাহে কী লিখে রাখব?

কোন বেলায় কী খেলেন, কোন বেলা বাদ গেল, সময়সহ। হালকা কাজের দিনের সন্ধ্যা আলাদা হয় কি না, তাও লিখুন।

প্রথম সাক্ষাতেই কি পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

থাকতে পারে, তবে আগে ডাক্তার পুরো দিনের কথা শুনে পরীক্ষা করবেন। ইতিহাসটাই আগে আসে, আর সেটাই ঠিক করে আর কী লাগবে।

কোন লক্ষণে সেদিনই চিকিৎসা নেব?

রক্তবমি, কালো আঠালো পায়খানা, খাবার আটকে যাওয়া, নিজে থেকে ওজন কমা বা পেটে তীব্র ব্যথা। এগুলো নিয়মিত তারিখ পর্যন্ত ফেলে রাখা যায় না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.