সেরা ডায়েটিশিয়ান - ঢাকা

ঢাকায় ডায়েটিশিয়ান

তাঁর বয়স ছত্রিশ। বছরের নিয়মিত হেলথ চেকটা হওয়ার কথা ছিল স্রেফ রুটিন। কিন্তু রিপোর্টে একটা লাইন আলাদা করে চোখে পড়ল। তাঁর ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি। ডাক্তার বলেছেন, বাকি সব অপেক্ষা করতে পারে, খাবারের দিকটা এখনই দেখা দরকার।

তাঁর কাজ ডেস্কে বসে। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে চেয়ারে, স্ক্রিনের সামনে। মাঝে মাঝে মিটিং লম্বা হয়ে যায়। দুপুরের খাবার অফিস ক্যান্টিনের যেটা থাকে সেটাই। বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাতের খাবার হয় দেরিতে, আর ভারী।

এর বাইরে আরেকটা হিসাব আছে, যেটা তিনি কখনো ধরেন না। সারাদিন তাঁর ডেস্কে চা আসে, চায়ের সঙ্গে বিস্কুটও। দুটোই তিনি নেন প্রায় না ভেবেই। সপ্তাহ শেষে দেখা যায়, এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই তাঁর সবচেয়ে বড় অভ্যাস।

তিনি অন্য কারো জীবনের জন্য তৈরি পরিকল্পনা চান না। তিনি চান এমন পরিকল্পনা, যা অফিসের দিনেও টিকে থাকে। ক্যান্টিনে ভালো পছন্দ বেছে নেওয়া, ডেস্কের হালকা খাবারের ওপর নিয়ন্ত্রণ, আর দীর্ঘ যাতায়াতের পরেও চলে এমন রাতের খাবারের রুটিন।

শুরু থেকেই একটা কথা পরিষ্কার। ডায়েটিশিয়ানের পরিকল্পনা তাঁর ডাক্তারের চিকিৎসার পাশাপাশি চলে। খাবারের পরামর্শ সেই চিকিৎসাকে সহায়তা করে। ওষুধের বদলি এটি নয়, ওষুধের যেকোনো সিদ্ধান্ত ডাক্তারেরই।

আপনি ঢাকায় ডাক্তারদের তালিকা থেকে একজন ডায়েটিশিয়ান খুঁজে প্রথম ভিজিটের সময় নিতে পারেন।

4 available specialists found

ফাতেমা তুজ জোহরা

Qualifications বিএসসি, এমএসসি (খাদ্য ও পুষ্টি), পিজিটি (বারডেম), এনডিডি, ডব্লিউএমএন (বিএডিএন)
অবস্থান লালবাগ, ঢাকা

শাদিয়া চৌধুরী

Qualifications এমএসসি (খাদ্য ও পুষ্টি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সিএনডি (বারডেম)
অবস্থান লালবাগ, ঢাকা

ফাতেমা সিদ্দিকী ছন্দা

Qualifications বিএসসি (অনার্স), এমএসসি ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স
অবস্থান Malibagh, ঢাকা

পুষ্টিবিদ উম্মে সালমা তামান্না

Qualifications এমএসসি (ফুড টেকনোলজি ও ইনস্টিটিউশনাল সায়েন্স)
অবস্থান Uttar Badda, ঢাকা

ডায়েটিশিয়ান কী কাজ করেন

ডায়েটিশিয়ান দেখেন আপনি আসলে কীভাবে খান, কেমন খেতে চান তা নয়। ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি থাকলে তিনি আপনার রিপোর্ট, কর্মদিবসের খাবার, আর ফাঁকে ফাঁকে ঢুকে পড়া হালকা খাবার ও পানীয় দেখেন। পরিকল্পনা তৈরি হয় আপনার আসল রুটিন ঘিরে। নতুন রিপোর্ট এলে সেটা মিলিয়েও নেওয়া হয়।

অফিসের জীবন পরিকল্পনার বাইরে নয়, পরিকল্পনার অংশ। ক্যান্টিনের পছন্দ, ডেস্কে খাওয়ার অভ্যাস আর দেরির রাতের খাবার, সব নিয়েই কথা হয়। লক্ষ্য এমন একটা ধরন, যা সাধারণ কর্মসপ্তাহে ধরে রাখতে পারবেন।

কখন ডায়েটিশিয়ান দেখাবেন

নিয়মিত চেকে ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি এলে আর ডাক্তার খাবারের দিকটা দেখতে বললে ভিজিট বুক করুন। কর্মদিবসের খাওয়া নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে মনে হলেও যান। শুরু করতে উপসর্গ লাগে না, এমন রিপোর্টই যথেষ্ট কারণ।

কিছু সমস্যায় ডায়েট ভিজিট নয়, দ্রুত ডাক্তার দেখানো দরকার। কারণ ছাড়া দ্রুত ওজন কমে যাওয়া তাদের একটি। বমি বা ডায়রিয়া না থামলে তাই। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া বা তীব্র দুর্বলতা থাকলে সেদিনই চিকিৎসা নিন।

ঢাকায় কীভাবে ডায়েটিশিয়ান বেছে নেবেন

এমন কাউকে বেছে নিন যিনি পরিকল্পনা লেখার আগে আপনার কর্মদিবস নিয়ে প্রশ্ন করেন। ক্যান্টিনের দুপুরের খাবার আর ডেস্কের হালকা খাবার আলোচনায় থাকা উচিত, পরে মনে পড়া বিষয় নয়। ফলোআপ কীভাবে হবে তাও জেনে নিন, কারণ কয়েক সপ্তাহ মেনে চলার পর পরিকল্পনায় সাধারণত মিলিয়ে নেওয়া লাগে।

বুকিংয়ের আগে চেম্বারের ঠিকানা আর ভিজিটের সময় জেনে নিন, আর কাজের পর সত্যিই রাখা যায় এমন সময় বেছে নিন। কোন রিপোর্ট সঙ্গে নিতে হবে, ক্লিনিকে নিশ্চিত হয়ে নিন। আলাদা কোনো সমস্যায় কখনো অপারেশন লাগলে সেটা অন্য ডাক্তারের কাজ। সেক্ষেত্রে ঢাকায় জেনারেল সার্জন দেখাতে হয়।

ভিজিটের আগে যা করবেন

হেলথ চেকের রিপোর্ট আর প্রেসক্রিপশন থাকলে সঙ্গে নিন। কয়েকটা কর্মদিবসে ক্যান্টিনে কী খান আর ডেস্কে কী আসে, লিখে রাখুন। চা আর বিস্কুটও বাদ দেবেন না। রাতের খাবারের স্বাভাবিক সময়টাও লিখুন। এই সত্যি নোটগুলোই ডায়েটিশিয়ানকে দেখিয়ে দেয় কোন ধরনটা বদলানো দরকার।

রোগীদের সাধারণ প্রশ্ন

ক্যান্টিনের খাবার কি আমার পরিকল্পনায় চলবে?

চলবে, যদি পরিকল্পনা সেটা ভেবেই লেখা হয়। আপনার ক্যান্টিনে সাধারণত কী পাওয়া যায় ডায়েটিশিয়ান দেখে নেবেন, তারপর সেখান থেকে ভালোটা বেছে নিতে সাহায্য করবেন। বাড়ির রান্না ধরে নেওয়া পরিকল্পনা কর্মসপ্তাহে বেশিদিন টেকে না।

চা আর বিস্কুট কি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে?

স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা নয়। কঠোর একটা নিষেধাজ্ঞার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এগুলো কতবার আপনার ডেস্কে আসে, আর আপনি খেয়াল না করে কতটা নিয়ে নেন। সীমাটা ডায়েটিশিয়ান আপনার রিপোর্ট আর দিন দেখে আপনার সঙ্গে ঠিক করে দেবেন।

ট্রাইগ্লিসারাইডের জন্য কি ওষুধ লাগবে?

সেটা আপনার ডাক্তারের সিদ্ধান্ত, ডায়েটিশিয়ানের নয়। ডাক্তার আগে খাবারের ভিজিটই বলেছেন। ইতিমধ্যে দেওয়া কোনো ওষুধ থাকলে খেয়ে যান, ওষুধের প্রশ্ন ডাক্তারের সঙ্গেই তুলুন।

এর পাশাপাশি ব্যায়ামও শুরু করব?

নিয়মিত নড়াচড়া সাধারণত পরিকল্পনাকে সহায়তা করে। আপনার জন্য কোনটা উপযুক্ত, ডায়েটিশিয়ান বা ডাক্তার বলে দিতে পারবেন। এখানে নির্দিষ্ট কোনো রুটিন ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে না। ডাক্তার যেটাতে স্বস্তি পান, সেটা দিয়েই শুরু করুন।

প্রথম ভিজিটে কী কী নিয়ে যাব?

বার্ষিক হেলথ চেকের রিপোর্ট নিন। প্রেসক্রিপশন থাকলে সেটাও নিন। ক্যান্টিনের খাবার, ডেস্কের হালকা খাবার আর রাতের খাবারের সময় নিয়ে কয়েক দিনের সত্যি নোট যোগ করুন।

কতদিন পরপর ফলোআপে যেতে হবে?

আপনার রিপোর্ট দেখে ডায়েটিশিয়ান সময়টা ঠিক করে দেবেন। প্রথম দিকে ভিজিট কাছাকাছি থাকে। পরে পরিকল্পনা রুটিনে বসে গেলে ব্যবধান অনেক সময় বাড়ে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.