সেরা শিশু সার্জন - নারায়ণগঞ্জ

কয়েনটা গিলে ফেলেছে এক ঘণ্টা হলো

তিন বছরের ছেলে মেঝেতে বসে পয়সা নিয়ে খেলছিল। হঠাৎ একটা কয়েন আর নেই। ও মুখের দিকে আঙুল দেখাল। তারপর আবার খেলায় মন দিয়েছে, যেন কিছুই হয়নি।

আপনার মাথায় দুটো ভাবনা ঘুরছে। এখনই বেরিয়ে পড়বেন, নাকি বাসায় দেখে রাখবেন? কোনোটাই ঠিক মনে হচ্ছে না।

আগে ছেলেকে ভালো করে দেখুন। নিজের থুতু ঠিকমতো গিলতে পারছে তো? শ্বাস স্বাভাবিক? খেলছে, কথা বলছে, এটা-ওটা খেতে চাইছে?

এই ছোট ছোট বিষয়গুলো টেনশনের চেয়ে বড় তথ্য। শান্ত, স্বস্তিতে থাকা বাচ্চা দেখলেই দল অনেকটা আন্দাজ পেয়ে যায়।

একটা নিয়ম শক্ত করে মানুন। বমি করানোর চেষ্টা করবেন না। কয়েনটা নামাতে বেশি খাবার গিলিয়ে দেবেন না। দুটোতেই শান্ত অবস্থাটা বিগড়ে যেতে পারে।

আর একটা কথা সবচেয়ে জরুরি। জিনিসটা কয়েন না হয়ে বোতাম ব্যাটারি হওয়ার সন্দেহ থাকলেই অপেক্ষা চলবে না। ব্যাটারি গিলে ফেলা একদম অন্য মাত্রার জরুরি অবস্থা। সেদিনই, তখনই যেতে হবে।

নারায়ণগঞ্জে শিশু সার্জন সাধারণত আগে একটা ছবির পরীক্ষা করান। কয়েনটা কোথায় আটকে আছে, সেটা দেখা গেলেই পরের সিদ্ধান্তগুলো পরিষ্কার হয়।

1 available specialists found

অধ্যাপক ডাঃ খ. মো. রায়হান হোসেন

Qualifications এমবিবিএস, এমএস (শিশু সার্জারি)।
অবস্থান নারায়ণগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ

দল প্রথমে যা যা দেখে

প্রথম ভিজিটে বেশিরভাগ সময় যায় প্রশ্নে আর দেখায়। ঠিক কী গিলেছে? কখন গিলেছে? এরপর কিছু খেয়েছে বা পান করেছে?

তারপর হয় গলা, বুক আর পেটের ছবির পরীক্ষা। কয়েন এই ছবিতে পরিষ্কার দেখা যায়। ওটা কোথায় বসে আছে, সেটাই আসল কথা।

কয়েন নিচের দিকে নেমে গেলে ব্যাপারটা একরকম। ওপরের দিকে আটকে থাকলে আরেকরকম। বাচ্চার বয়স আর গড়নও হিসাবে থাকে। এখন ও কেমন আচরণ করছে, সেটাও দেখা হয়।

ছবিতে যাই আসুক, দলকে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলতে বলুন। কয়েন কোথায় আছে আর এরপর কী হবে, এটা জেনে বাড়ি ফেরা উচিত।

বাসায় দেখে রাখা, নাকি বের করা

নিচে নেমে যাওয়া অনেক কয়েন নিজে নিজেই বেরিয়ে যায়। দল হয়তো শুধু দেখে রাখতে বলবে। কয়েকদিন ওর পায়খানা খেয়াল করতে বলবে।

আবার কোনো কোনো কয়েন দলের হাতে বের করতে হয়। অবস্থানই এখানে বড় কথা। লক্ষণ আছে কিনা, কয়েনটা কতক্ষণ ধরে এক জায়গায় থেমে আছে, সেগুলোও দেখা হয়।

কোনো পরিকল্পনাই আন্দাজে হয় না। ছবি, ওর গড়ন আর বর্তমান অবস্থা মিলিয়েই সিদ্ধান্ত হয়। পরিকল্পনা বদলাতে পারে কোন লক্ষণে, সেটা জেনে নিন। তখন বুঝবেন বাসায় কী খেয়াল রাখতে হবে।

এর পাশাপাশি ওর নিয়মিত যত্নও চলবে। নারায়ণগঞ্জে শিশু বিশেষজ্ঞ ওর বাড়ন্ত আর টিকার হিসাব ঠিকঠাক রাখতে পারেন।

যেসব লক্ষণে সেদিনই ফিরতে হবে

কিছু বদল দেখলেই অপেক্ষা শেষ। মুখ দিয়ে লালা গড়ানো তার একটা। যে বাচ্চা নিজের থুতুই গিলতে পারছে না, সেটাও তাই।

বমি, পেটে ব্যথা, কিংবা বমি বা পায়খানায় রক্ত দেখলেও সেদিনই যেতে হবে। এসবের কোনোটা নিয়েই সকালের অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা করবেন না।

ব্যাটারির নিয়মটা সবার ওপরে। কী গিলেছে তা নিয়ে সামান্য সন্দেহ থাকলেই তখনই যান। দলকে সন্দেহের কথা খুলে বলুন। ওরা কয়েন যাচাই করতে রাজি, ব্যাটারি মিস করা নয়।

বাবা-মায়ের সাধারণ প্রশ্ন

ও তো একদম ঠিকঠাক আছে। তবু যাওয়া লাগবে?

হ্যাঁ, একবার দেখিয়ে নেওয়া ভালো। ছবির পরীক্ষায় কয়েনের অবস্থান জানা গেলেই বোঝা যাবে, বাসায় দেখে রাখা ওর জন্য নিরাপদ কিনা। এখন ভালো থাকাটা স্বস্তির বিষয়, পূর্ণ উত্তর নয়।

বমি করিয়ে কয়েনটা তুলে আনা যাবে?

কখনোই না। ওপরে উঠতে গিয়ে কয়েন আরও খারাপ জায়গায় আটকে যেতে পারে। পেটকে নিজের মতো থাকতে দিন, পরের সিদ্ধান্ত দলের হাতে ছাড়ুন।

বেশি খাইয়ে কয়েনটা নামিয়ে দেওয়া যায়?

না। ঠেসে খাওয়ালে কয়েন কাজের মতো এগোয় না। বরং শান্ত পরিস্থিতিতে বমি আর অস্বস্তি যোগ হতে পারে।

কয়েন বেরিয়ে গেছে বুঝব কীভাবে?

প্রতিবার পায়খানার দিকে চোখ রাখুন। ছোট কয়েন বের হলে সাধারণত চোখে পড়ে। কয়েকদিন গেলেও কোনো চিহ্ন না পেলে দলকে জানান, ও ভালো থাকলেও।

জিনিসটা আসলে বোতাম ব্যাটারি হলে কী হবে?

তখন অপেক্ষার প্রশ্নই ওঠে না। ভেতরে আটকে থাকা ব্যাটারি চুপিসারে দ্রুত ক্ষতি করতে পারে। সামান্য সন্দেহ থাকলেই সেদিন, তখনই যান। গিয়ে ব্যাটারির কথাটা মুখে বলুন।

ওর কি অপারেশন লাগতে পারে?

ছবির পরীক্ষার আগে এ কথা কেউ বলতে পারে না। অনেক কয়েন শুধু নজরে রাখলেই নিজে বেরিয়ে যায়। এর বেশি কিছু লাগলে দল বুঝিয়ে বলবে, কী লাগবে আর কেন।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.