সেরা শিশু সার্জন - ময়মনসিংহ

থেমে থেমে আসা তীব্র পেটব্যথা

ছেলের বয়স আঠারো মাস। এক ঘণ্টা আগেও ও মেঝেতে বসে খেলছিল। তারপর হঠাৎ চিৎকার করে উঠল, হাঁটু দুটো পেটের দিকে গুটিয়ে নিল, মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

আপনি কোলে তুলে ঘরে পায়চারি করলেন। কয়েক মিনিট পর ও শান্ত হয়ে গেল, যেন কিছুই হয়নি। তারপর আবার চিৎকার শুরু হলো।

দুটো ঝড়ের মাঝখানে ও একটু খেলে। তারপর চুপ হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে, আসে পরের ঝড়। এই আসা-যাওয়া ধরনটাই বাসার সবাইকে ধাঁধায় ফেলে। পেটে গ্যাস? কিছু খেয়ে পেট খারাপ? নাকি এমনিই কাঁদছে?

পরে ন্যাপিতে আরেকটা সূত্র মিলল। ওর পায়খানা গাঢ় লাল আর জেলির মতো, স্বাভাবিক পায়খানার চেয়ে একেবার আলাদা।

এসব আন্দাজ নিয়ে বাসায় বসে থাকবেন না। এমন ধরন দেখলে সেদিনই হাসপাতালে পরীক্ষা করানো দরকার। দল যেটা খুঁজে দেখে, তার একটা হলো অন্ত্রের একটা অংশ আরেকটা অংশের ভেতরে ভাঁজ হয়ে ঢুকে যাওয়া। এটা তারা খতিয়ে দেখে এমন একটা সম্ভাবনা, বাসা থেকে দেওয়ার মতো কোনো রায় নয়।

ময়মনসিংহে শিশু সার্জন খুঁজলে আজই যান। ব্যথার ঝড়গুলো আর পায়খানাটা যেমন দেখেছেন, ঠিক তেমন করে বলুন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

হাসপাতালে দল প্রথমে যা করবে

ঘটনাটা শুরুর থেকে পরপর বলুন। প্রথম ঝড়টা কখন শুরু হয়েছিল? প্রতিটা ঝড় কতক্ষণ থাকে? মাঝখানে ও কেমন থাকে?

ডাক্তার ওর পেট আলতো করে পরীক্ষা করবেন, ঝড়ের মাঝখানে ও স্বস্তিতে থাকলেও। ঘরে ঠিকঠাক দেখালেও এই সমস্যাটা থাকতেই পারে। পরীক্ষার মতোই জরুরি আপনার দেখা ঝড়ের বর্ণনা।

দল হয়তো ব্যথাহীন একটা ছবি তোলার পরীক্ষার কথা বলবে। কাটাছেঁড়া বা সুই ছাড়াই এতে পেটের ভেতরের ছবি পাওয়া যায়। ছবিটা দেখেই সিদ্ধান্ত হয়, আগে কোনটা চেষ্টা করা হবে।

ছবি দেখার আগে পরের ধাপটা বিস্তারিত বলা কারও উচিত নয়। দল আগে যা চেষ্টা করবে, সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই। হাসপাতালে, আপনার সন্তানকে সামনে রেখেই তা ঠিক হয়।

বাসায় অপেক্ষা কেন ঝুঁকির

এই ধরনটা নিয়ে রাত কাটিয়ে দেওয়ার মতো নয়। ঝড়ের মাঝখানে বাচ্চা প্রায় স্বাভাবিক দেখালেও ভেতরে অবস্থা চুপচাপ খারাপ হতে পারে।

শেষ ন্যাপিটা সঙ্গে নিন, কিংবা পরিষ্কার একটা ছবি তুলে রাখুন। ওই পায়খানার চেহারা দরকারি তথ্য, লজ্জা পাওয়ার কিছু নয়।

সম্ভব হলে ঝড়গুলোর সময় লিখে রাখুন। ফোনে মোটামুটি লিখে রাখলেই চলবে। সময়, ফ্যাকাশে ভাব, বমি, পায়খানা: যা যা সত্যিই দেখেছেন, লিখুন।

হাসপাতালের ভিজিটের পর

তাৎক্ষণিক সমস্যাটা পরীক্ষা হয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পরও ফলো-আপ জরুরি। দল আবার কবে দেখতে চায়, জেনে নিন। কোন লক্ষণ দেখলে সোজা ফিরে আসবেন, তাও জিজ্ঞেস করুন।

ওর স্বাভাবিক যত্নও চলতে থাকবে। ময়মনসিংহে শিশু বিশেষজ্ঞ নিয়মিত ভিজিটে ওর ওজন, টিকা আর বিকাশ দেখতে পারেন। এই ঘটনার কথা সেই ডাক্তারকেও জানান, যেন ওটা ওর রেকর্ডে থাকে।

বাবা-মায়ের সাধারণ প্রশ্ন

ঝড়ের মাঝখানে তো শান্ত থাকে। বাসায় দেখে রাখলেই হয় না?

না। মাঝখানে শান্ত থাকা এই ধরনেরই অংশ, সেরে যাওয়ার লক্ষণ নয়। হাঁটু গুটিয়ে আনা তীব্র ব্যথার ঝড় সেদিনই পরীক্ষা করানো দরকার।

সাধারণ গ্যাস বা খাবার থেকেই এমন হতে পারে না?

সাধারণ গ্যাসে এত তীব্র ঝড় সাধারণত আসে না। গাঢ় লাল, জেলির মতো পায়খানার ব্যাখ্যাও তা দিয়ে হয় না। কারণগুলো আলাদা করা হাসপাতালের দলের কাজ, আর তারা আজই দেখতে চান।

অন্ত্র ভাঁজ হয়ে ঢুকে যাওয়া মানে কী?

মানে অন্ত্রের একটা অংশ পাশের অংশটার ভেতরে ঢুকে যায়, অনেকটা টেলিস্কোপ গুটিয়ে যাওয়ার মতো। এই ব্যথার ধরনে দল যেসব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে, এটা তার একটা। ছবির পরীক্ষাটা তা খুঁজতে সাহায্য করে।

ব্যথাহীন ছবির পরীক্ষাটা কেমন হয়?

ও বিছানায় শুয়ে থাকে, পেটের ওপর দিয়ে একটা যন্ত্র ঘোরানো হয়। ব্যথা লাগে না, সুইয়ের ব্যাপারও নেই। সাধারণত পুরো সময়টা আপনি ওর পাশে থাকতে পারেন।

ওর কি অপারেশন লাগবে?

বাসা থেকে এ কথা কেউ বলতে পারে না, আন্দাজ করা কারও উচিতও নয়। পরীক্ষা আর ছবির পরীক্ষা দেখে পরের ধাপ দলই ঠিক করে। সিদ্ধান্তটা হাসপাতালে গিয়েই হয়, আগে থেকে নয়।

হাসপাতালে যাওয়ার পথে কী করব?

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রওনা হোন। ওকে আরামে রাখুন, ঝড়ের সময়গুলো লক্ষ করুন, ন্যাপি বা পায়খানার ছবিটা সঙ্গে নিন। নিশ্চিত হতে আরও একটা ঝড়ের অপেক্ষা করবেন না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.