সেরা শিশু সার্জন - ঢাকা

বসতেই পারছে না, শুরু কাল রাত থেকে

আপনার পাঁচ বছরের ছেলে একদিকে কাত হয়ে আরেক দিকে ভর দিচ্ছে বারবার। খেতে বসা এখন অসম্ভব। টয়লেটে গেলে কাঁদে, ফিরে আসে ধীরে ধীরে হেঁটে, বুড়ো মানুষের মতো।

ওর পায়ুপথের পাশে একটা ফোলা উঠেছে। হাত দিলে গরম লাগে, সকালের তুলনায় বড়ও হয়েছে। কাল রাতে গায়ে জ্বর ছিল, ঘুমোতেও পারেনি ঠিকমতো। গতকাল বিকেলেও ও দিব্যি খেলছিল, এক রাতেই এই অবস্থা।

মনে হতে পারে, চেপে দেখি, কিংবা গরম কিছু লাগিয়ে অপেক্ষা করি। দুটোর কোনোটাই করবেন না। জ্বরের সঙ্গে এমন গরম, যন্ত্রণাদায়ক ফোলা মানেই আজকের সমস্যা। আগামীকাল নয়। আজই।

সার্জন ওকে ধীরে ধীরে পরীক্ষা করবেন, তারপর বুঝিয়ে বলবেন এই চিত্রটা কীসের দিকে ইঙ্গিত করে। ব্যথায় ও কুঁকড়ে আছে, কোলে নিলেও শান্ত হচ্ছে না। একটা পরিচিত কারণ হলো পায়ুপথের পাশে চামড়ার নিচে জমে থাকা সংক্রমণের পকেট। আপনার ছেলের ক্ষেত্রে সেটাই হচ্ছে কিনা, পরীক্ষাই সেটা নিশ্চিত করবে।

ঢাকায় শিশু সার্জন খুঁজতে গিয়ে সকালটা তুলনা করে কাটাবেন না। নিয়ে যান, ওকে দেখানো হোক।

4 available specialists found

ডাঃ সুমাইয়া আলী

Qualifications এমবিবিএস (ঢাবি), এমআরসিএস (গ্লাসগো), এমএস (পেডিয়াট্রিক সার্জারি)।
অবস্থান ধানমন্ডি, ঢাকা

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এইচ এম মেজবাহ উদ্দিন

Qualifications এমবিবিএস, এমএস (পেডিয়াট্রিক সার্জারি)।
অবস্থান শ্যামলী, ঢাকা

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ ইপসিতা বিশ্বাস

Qualifications এমবিবিএস, এমএস (পেডিয়াট্রিক সার্জারি)।
অবস্থান শ্যামলী, ঢাকা

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মো. জামিল হোসেন

Qualifications এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (শিশু সার্জারি), এফএসিএস (ইউএসএ)
অবস্থান রাজশাহী সিটি, রাজশাহী

পরীক্ষায় যা যা দেখা হয়

সার্জন প্রথমে জিজ্ঞেস করবেন ব্যথা কবে শুরু হলো, জ্বর আগে এল কিনা, আর পায়খানা করতে কেমন হচ্ছে। তারপর জায়গাটা ধীরে ধীরে দেখা হবে। সংক্ষিপ্ত পরীক্ষা, মোটেও রুক্ষ নয়।

চামড়ার নিচে সংক্রমণের একটা পকেট ঠিক এমন চিত্রই তৈরি করতে পারে। চামড়া গরম আর টানটান হয়ে ওঠে। বসলেই চাপ পড়ে, তাই বসতে পারে না। পায়খানার সময় জায়গাটা টান খায়, তাই কাঁদে।

তবে সব ফোলা এক জিনিস নয়। ফোলার আকার, অবস্থান, আর ওর সার্বিক অবস্থা, সব মিলিয়েই সিদ্ধান্ত হয়। জ্বরে ভোগা, কাহিল বাচ্চার ব্যবস্থা আর দৌড়াদৌড়ি করা বাচ্চার ব্যবস্থা এক নয়।

ওর শরীরে অন্য কিছু চললেও জানিয়ে দিন। পেটের নিয়মিত গণ্ডগোল, বাড়ন্ত কম, কিংবা একই জায়গায় বারবার ফোলা, সবই গুরুত্বপূর্ণ। ওর নিয়মিত চেকআপ থাকে ঢাকায় শিশু বিশেষজ্ঞ এর কাছে, যিনি পুরো চিত্রটা একসঙ্গে ধরে রাখতে পারেন।

বাসায় বসে অপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ

সংক্রমণের পকেট সাধারণত নিজে নিজে মিলিয়ে যায় না। চামড়ার নিচে তা জমতে থাকে, চাপ বাড়ে, ব্যথাও বাড়ে। জ্বরই বলে দিচ্ছে, ওর শরীর যুদ্ধ শুরু করেছে।

তাই এই কথাটা সোজাসুজি শুনুন। যত নরমই মনে হোক, বাসায় বসে ফোলাটা চেপে দেবেন না। চাপও নয়, ফুটো করাও নয়, প্রতিবেশীকে দিয়ে করানোও নয়।

আর টেনে বের করার আশায় গরম পেস্ট বা বাড়ির বানানো মিশ্রণ লাগাবেন না। কম বয়সী চামড়া তাতে পুড়ে যায়, আর সার্জনের যা দেখা দরকার তা ঢাকা পড়ে। যাওয়ার আগে হালকা করে ধুয়ে পরিষ্কার রাখাই যথেষ্ট।

সার্জন সংক্রমণের পকেট পেলে সেদিনই সেটার ব্যবস্থা করতে হতে পারে। জিজ্ঞেস করুন, তাতে কী কী থাকবে। ওকে কীভাবে স্বস্তিতে রাখা হবে, পরে জায়গাটার যত্ন কেমন হবে, তাও জেনে নিন।

ভিজিটটা সামলাবেন যেভাবে

ওর টিকার কার্ডটা নিন, আর এখন যেসব ওষুধ চলছে তার একটা তালিকা লিখে নিন। জ্বরের কথা সৎভাবে বলুন, সবচেয়ে বেশি কত উঠেছিল আর কখন, সেটাসহ।

ও নিজে কেমন আছে, তাও বলুন। যে বাচ্চা এখনো পানি খাচ্ছে, অল্প হলেও খেলছে, কথার জবাব দিচ্ছে, সে আর চুপচাপ শুয়ে পানি মুখে না তোলা বাচ্চা এক নয়।

ফিরে আসার আগে জিজ্ঞেস করুন সামনের দিনগুলোতে কী খেয়াল রাখবেন। ফোলা আরও বাড়লে, জ্বর ফিরলে, কিংবা ব্যথা ছড়িয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ফিরতে হবে। উত্তরগুলো লিখে রাখুন। ব্যথা আর দুশ্চিন্তায় নির্দেশনা ভুলে যাওয়া খুব স্বাভাবিক।

বাবা-মায়ের সাধারণ প্রশ্ন

এটা কি আগামীকাল সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে?

না। জ্বর, গরম ফোলা, আর বসতে না পারা বাচ্চা, এই তিন মিলে সেদিনের ভিজিট। জ্বর বাড়তে থাকলে কিংবা ও পানি খাওয়া বন্ধ করলে চেম্বারের সময়ের অপেক্ষাও করবেন না।

ফোলাটা সবচেয়ে সম্ভবত কী?

একটা পরিচিত কারণ হলো পায়ুপথের পাশে চামড়ার নিচে সংক্রমণের পকেট। এই চিত্রের সঙ্গে তা ভালোই মেলে, কিন্তু মেলা মানেই নিশ্চিত হওয়া নয়। আপনার ছেলের শরীরে আসলে কী হচ্ছে, পরীক্ষাই তা বলতে পারবে।

বাসায় গরম কিছু লাগিয়ে দেব?

গরম পেস্ট নয়, মিশ্রণ নয়, বাড়ির টোটকা নয়। এগুলো ওর চামড়া পোড়াতে পারে, আর সার্জনের পরিষ্কার দেখার জিনিসটা ঢেকে ফেলে। জায়গাটা হালকাভাবে পরিষ্কার রাখুন আর আজই দেখান।

চেপে দিলে পুঁজ বেরিয়ে যেত না?

কখনোই নয়। বাসায় বাচ্চার ফোলা চাপলে সমস্যা ছড়িয়ে পড়ে, আর ওর ব্যথা হয় প্রচণ্ড। সার্জনের বিচার করাটাও তাতে কঠিন হয়ে যায়। ব্যবস্থা লাগলে সেটা ক্লিনিকের কাজ, ঠিকভাবে, ওকে স্বস্তিতে রেখে।

সার্জন আজ কী করবেন?

আগে পরীক্ষা, তারপর ওর অবস্থা কতটা খারাপ তার বিচার। সংক্রমণের পকেট থাকলে সার্জনের সেদিনই সেটার ব্যবস্থা করতে হতে পারে। সম্মতি দেওয়ার আগে সহজ ভাষায় জিজ্ঞেস করুন, তাতে কী কী থাকবে।

ভিজিটের পর আবার কখন ফিরতে হবে?

জ্বর ফিরলে, ফোলা বাড়লে, কিংবা ব্যথা জায়গা ছাড়িয়ে ছড়ালে সঙ্গে সঙ্গে ফিরুন। পানি খাওয়া বন্ধ করলেও ফিরুন, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম লাগলেও। এসবের কোনোটা দেখা দিলে দেখানোর তারিখের অপেক্ষা করবেন না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.