সেরা শিশু সার্জন - কুমিল্লা

ঠোঁটে ফাটল নিয়ে জন্ম নিল মেয়েটা

জন্মের প্রথম মুহূর্তেই ব্যাপারটা চোখে পড়ল। মেয়েকে আপনার কোলে দেওয়া হলো, আর দেখলেন ওর উপরের ঠোঁট মাঝখানে জোড়া লাগেনি। একটা ফাঁক, ঠোঁট থেকে উপরের দিকে উঠে গেছে।

আশেপাশে কেউ হঠাৎ কথা খুঁজে পেলেন না। দাই খুব যত্নে কথা বললেন। আপনার মা চুপচাপ কাঁদলেন। আর আপনি মেয়েকে বুকে নিয়ে ভাবলেন, এখন কী হবে?

প্রথম দুশ্চিন্তাটা আসে খাওয়ানোর সময়। ও বুকের দুধ টানতে চায়, কিন্তু ঠিকমতো টান ধরতে পারে না। মাঝে মাঝে দুধ নাক দিয়ে বেরিয়ে আসে। বিশ মিনিটের খাওয়ানো এক ঘণ্টা গড়ায়, তবু ওর ক্ষুধা আর ক্লান্তি দুটোই থেকে যায়।

একটা কথা শুরুতেই শুনুন। এমন বাচ্চারা প্রতিদিন খায়, বাড়ে, বড় হয়। খাওয়ানোর কায়দাটা একটু আলাদা, আর সেটা কেউ হাতে ধরে দেখিয়ে দিলেই অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞ দল ওর মুখের ভেতরটা ভালো করে দেখবেন। ঠোঁট, মাড়ি আর মুখের তালু, সবটাই পরীক্ষা হবে। তারপর অন্য সবকিছুর আগে আপনার সঙ্গে বসে খাওয়ানো নিয়েই কথা হবে।

কুমিল্লায় শিশু সার্জন দেখাতে গেলে খাওয়ানো নিয়ে আপনার প্রশ্নগুলো গুছিয়ে নিয়ে যান। প্রথমে ওটাই জরুরি। বাকি পরিকল্পনা আসবে তার পর।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

সবার আগে খাওয়ানোটা ঠিক করা

প্রথম ভিজিটে সার্জন আর তার দল সাধারণত অপারেশন দিয়ে শুরু করেন না, শুরু করেন খাওয়ানো দিয়ে। ও দুধ কেমন টানছে? একবার খাওয়াতে কতক্ষণ লাগছে? নাক দিয়ে দুধ কতবার বেরিয়ে আসছে?

খাওয়ানোর সময় ওকে একটু খাড়া করে ধরার কথা তাঁরা বলতে পারেন। এভাবে দুধ সহজে নিচের দিকে নামে, উপরে উঠে আসে কম। আবার মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে ধীরে ধীরে খাওয়ানোর কথাও আসতে পারে, যাতে ও শ্বাস নিয়ে গিলতে পারে।

কিছু বাচ্চা অন্য ধরনের নিপল দিয়ে ভালো খায়, যেটাতে জোরে টান না দিলেও দুধ আসে। নিজে আন্দাজ করে কিনবেন না। কোনটা ওর মুখের জন্য ঠিক হবে, কীভাবে ধরতে হবে, সেটা দলের কাছে দেখিয়ে নিতে বলুন।

খাওয়ানোর পর মুখ পরিষ্কারের ব্যাপারটাও তাই। ছোট ছোট কয়েকটা অভ্যাস একবার সামনে থেকে দেখে নিলে সপ্তাহের দুশ্চিন্তা বাঁচে। যাওয়ার আগে প্রশ্নগুলো লিখে নিন।

ওজনই বলে দেবে পথ ঠিক আছে কিনা

দুই ভিজিটের মাঝখানে ওর ওজনই দলকে বলে দেয় খাওয়ানো ঠিকঠাক চলছে কিনা। যে বাচ্চার ওজন নিয়মিত বাড়ছে, বুঝতে হবে খাওয়ানোর ব্যবস্থাটা কাজ করছে। ওজন থেমে গেলে সেই ব্যবস্থা আবার দেখতে হয়।

তাই ওজন মাপতে যেতে হবে নিয়মিত, ঘন ঘনও হতে পারে। প্রতিবার কার্ডটা সঙ্গে নিন।

খাওয়ানোর সময় ওর খুব কাশি বা বিষম লাগলে দলকে জানান। খাওয়ানো সহজ হওয়ার বদলে আরও লম্বা হতে থাকলেও জানান। ছোট ছোট তথ্য ছোট ছোট সিদ্ধান্ত বদলে দেয়।

মেরামতি হয় ধাপে ধাপে

বাবা-মা প্রায়ই জানতে চান ঠোঁট কবে ঠিক করা হবে। সত্যি উত্তর হলো, মেরামতির কাজ সাধারণত ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করা হয়। এক অপারেশনে সব হয় না। প্রথম ধাপে সাধারণভাবে কী করা হবে, দল সেটা আপনাকে বুঝিয়ে বলবেন।

সেই সময়টা ঠিক করবেন তাঁরাই, ওর মুখ, ওজন আর সার্বিক অবস্থা দেখে। আগে থেকে কোনো তারিখ বলা সম্ভব নয়।

ধাপগুলোর মাঝখানে কী হবে, সেটাও জিজ্ঞেস করে রাখুন। খাওয়ানো, ওজন মাপা, পরে দাঁত আর কথা বলা, সব দিকেই নজর থাকে। কুমিল্লায় শিশু স্নায়ু বিশেষজ্ঞ তেমনই একজন, যিনি ওর বেড়ে ওঠার খোঁজ রাখতে পারেন।

আর কেউ যেন আপনাকে হুবহু ফলাফলের প্রতিশ্রুতি না দেয়। ভালো দল বুঝিয়ে বলবে মেরামতি দিয়ে কী আশা করা যায়, আর কী নিশ্চিত করে বলা যায় না।

বাবা-মায়ের সাধারণ প্রশ্ন

আমার কোনো ভুলে কি এমন হলো?

না। ঠোঁটের এই ফাটল গর্ভের একদম শুরুর দিকে তৈরি হয়, বেশিরভাগ মা তখন জানেনই না তিনি গর্ভবতী। আপনি কী খেয়েছেন, কী তুলেছেন, কী করেছেন, এর কোনোটাই এর কারণ নয়। নিজেকে দোষ দেওয়া বন্ধ করুন।

ও কি আপাতত খেতেই পারবে না?

প্রায় সব ক্ষেত্রেই পারে, তবে কায়দাটা জরুরি। একটু খাড়া করে ধরা, বিরতি দিয়ে খাওয়ানো, আর উপযুক্ত নিপল, অনেক বাচ্চা এতেই সামলে নেয়। দলকে বলুন একবার পুরো খাওয়ানোটা দেখে ভুল থাকলে ধরিয়ে দিতে।

দুধ নাক দিয়ে বেরিয়ে আসে কেন?

ওর মুখ আর নাকের যোগাযোগ স্বাভাবিকের চেয়ে কাছাকাছি, তাই দুধ উপরে উঠে যেতে পারে, বিশেষ করে শুয়ে খেলে। খাড়া করে খাওয়ালে প্রায়ই কমে আসে।

ঠোঁট কবে মেরামতি করা হবে?

ওকে পরীক্ষা করে আর ওর বাড়ন্ত দেখে সময়টা ঠিক করবে চিকিৎসক দল। মেরামতি একবারে না করে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা হয়। প্রথম ধাপে সাধারণভাবে কী হবে, জিজ্ঞেস করে জেনে নিন।

ও কি একদিন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারবে?

তার প্রতিশ্রুতি কেউ দিতে পারবে না। কথা বলা নির্ভর করে ওর মুখ আর তালুর গঠনের ওপর, আর এটা বছর ধরে দেখতে হয়, সপ্তাহে নয়। প্রতিটি ধাপে ও কেমন করছে, দল সেটা আপনাকে সৎভাবে জানাবে।

দুই ভিজিটের মাঝখানে কী খেয়াল রাখব?

সবার আগে ওজন, আর সব চেকের দিন যেন বাদ না যায়। খাওয়ানো কঠিন হয়ে গেলে, বেশিরভাগ বারই কাশি-বিষম লাগলে, কিংবা ওজন বাড়ার বদলে কমতে থাকলে দলকে জানান।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.