সেরা শিশু সার্জন - বাগেরহাট
গোসলের সময় ধরা পড়া কুঁচকির ফোলা
গোসল করাতে গিয়েই প্রথম চোখে পড়ল। ছয় মাসের ছেলেটার কুঁচকির কাছে ছোট্ট একটা ফোলা ভাব, সকালে যেটা ছিলই না। অথচ রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর দেখলেন, ফোলাটা আর নেই।
এরপর থেকে প্রতিদিনই চোখটা ওইদিকে যায়। জোরে কাঁদলেই কিংবা কাশলেই ফোলাটা ফিরে আসে। ঘুমিয়ে গেলেই আবার মিলিয়ে যায়। পাশের বাড়ির খালা বলেন, ছোট বাচ্চাদের এমন কত কিছুই হয়। কিন্তু আপনার মন মানছে না।
এমন আচরণের ফোলা একবার ভালো করে পরীক্ষা করানো দরকার। বাচ্চা অন্য সময় খাওয়া-ঘুমে ঠিক থাকলেও তাই। শিশু সার্জন হালকা হাতে দুই পাশের কুঁচকিই দেখবেন। সঙ্গে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেবেন, এই ফোলাটা আসলে কী হতে পারে।
পারলে ও শান্ত থাকা অবস্থায় নিয়ে আসুন। কখন ফোলাটা ওঠে, কিসে ওঠে, খেয়াল করে মনে রাখুন। কাঁদার সময় মোবাইলে একটা ছবি তুলে রাখতে পারলে আরও ভালো হয়। এই ছোট ছোট খেয়ালই পরীক্ষায় কাজে আসে।
বাগেরহাটে শিশু সার্জন দেখাতে হলে শুরুটা হোক এই পরীক্ষা দিয়েই। চিকিৎসার সিদ্ধান্ত আসবে তার পরে, আগে নয়।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
এ ধরনের ফোলা আসলে কী হতে পারে
আপনার ছেলের ফোলাটা ঠিক কী, তা পরীক্ষা না করে কেউ বলতে পারবে না। তবে সার্জন সম্ভবত প্রথমে একটা সাধারণ ধারণাই বুঝিয়ে দেবেন। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে পেটের প্রাচীরে কুঁচকির কাছে ছোট্ট একটা ফাঁক থেকে যায়।
কাঁদলে বা কাশলে বাচ্চার পেটের ভেতরে চাপ বাড়ে। সেই চাপে ওই ফাঁক দিয়ে ভেতরের একটা অংশ বাইরের দিকে উঠে আসতে পারে, দেখতে ফোলার মতো লাগে। ঘুমালে বা শান্ত হলে চাপ কমে যায়। অংশটা নিজের জায়গায় ফিরে যায়, ফোলাও মিলিয়ে যায়।
এই কারণেই ফোলাটা আসে আর যায়। আর এজন্যই সার্জন অপর পাশটাও দেখেন। শুধু এক পাশে ফোলা দেখা গেলেও দুই পাশেই এমন ফাঁক থাকতে পারে।
ভিজিটে যা যা হবে
পরীক্ষাটা হালকা আর তাড়াতাড়ি শেষ হয়। সার্জন কুঁচকির জায়গাটা দেখবেন, নরম হাতে ছুঁয়ে বুঝবেন। কখনো কখনো বাচ্চা কাঁদা অবস্থায় ফোলাটা দেখা কাজে দেয়। ও কেঁদে উঠলে বিব্রত হবেন না।
সার্জন যদি অপারেশনের পরামর্শ দেন, সম্মতি দেওয়ার আগে আপনার প্রশ্ন করার পুরো অধিকার আছে। অপারেশনে কী হয়, কখন করা উচিত, সেরে উঠতে সাধারণত কেমন সময় লাগে, সবই জিজ্ঞেস করুন।
অপারেশনের দিনটা নিয়েও জেনে নিন। দলটি বুঝিয়ে দেবে, অপারেশনের সময় ওকে কীভাবে ঘুমিয়ে ও ব্যথামুক্ত রাখা হয়। আগে থেকে জানাটাই বেশিরভাগ বাবা-মাকে সবচেয়ে বেশি শান্ত করে।
মাঝখানে ওর নিয়মিত ওজন-বৃদ্ধির চেক আর টিকাগুলোও চালু রাখতে হবে। সেদিকটা দেখে দিতে পারেন বাগেরহাটে শিশু বিশেষজ্ঞ।
যেসব লক্ষণে সেদিনই দেখাতে হবে
বেশিরভাগ সময় এই ফোলার জন্য নির্দিষ্ট দিনে ভিজিট করলেই চলে। কিন্তু কিছু বদল মোটেও অপেক্ষা করতে পারে না।
ফোলাটা ভেতরে ফিরে যেতে না চাইলে সেদিনই আসুন। ফোলা শক্ত হয়ে গেলে, কিংবা ছুঁলেই বাচ্চা ব্যথা পাওয়ার মতো কাঁদলে দেরি করবেন না। ফোলার সঙ্গে বমি থাকলেও জরুরি মনে করুন।
কেঁদেই যাচ্ছে, কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না, এমন বাচ্চাকে সেদিনই দেখানো দরকার। আটকে থাকা ফোলায় নিজে জোরে চাপ দিয়ে ফেরানোর চেষ্টা করবেন না। সেটা ডাক্তারের হাতে ছেড়ে দিন।
বাবা-মায়ের সাধারণ প্রশ্ন
এই ফোলা কি এখনই বিপজ্জনক?
ফোলা আসা-যাওয়া করলে, আর বাচ্চা স্বাভাবিক খেলে-ঘুমালে আতঙ্কের বদলে তাড়াতাড়ি একবার দেখিয়ে নেওয়াই আসল কথা। তবে উপরের জরুরি লক্ষণগুলো দেখা দিলে ছবিটা পুরো বদলে যায়।
কাঁদলেই ফোলাটা ওঠে কেন?
কান্না আর কাশিতে পেটের ভেতরের চাপ বাড়ে। সেই চাপেই ফোলাটা বাইরে বেরিয়ে আসে। ঘুমালে চাপ কমে, ফোলাও ভেতরে ফিরে যায়।
নিজেরা চেপে ভেতরে ঢুকিয়ে দেব?
না। জোর দিয়ে চাপ দেবেন না কখনোই। হালকা চাপেও ফিরতে না চাইলে সেটাকে সেদিনের সমস্যা ধরুন আর দেখিয়ে নিন।
ওর কি অপারেশন লাগবেই?
পরীক্ষার আগে এ কথা কেউ বলতে পারে না। সার্জন ফোলাটা দেখে ও হাতে অনুভব করেই সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের কথা উঠলে জিজ্ঞেস করুন, তাতে কী হবে আর কেন লাগছে।
ভিজিটের আগে কী খেয়াল রাখব?
ফোলা কখন ওঠে, কতক্ষণ থাকে, লিখে রাখুন। ফোনে একটা ছবি তুলে রাখলেও কাজে দেয়। চেম্বারে গিয়ে ফোলাটা না-ও দেখা যেতে পারে।
মাঝের সময়টায় ও তো পুরো ভালো থাকে। দেরি করা যায় না?
দেখতে একদম সুস্থ মনে হলেও ফোলাটা তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করানো উচিত। সময় নেওয়া নিরাপদ কিনা, তা ঠিক করতে পারেন শুধু পরীক্ষা করা সার্জনই।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.