সেরা শিশু অর্থোপেডিক সার্জন - টাঙ্গাইল

বাজার থেকে ফেরার পর হাতটা ঝুলেই আছে

বাজারের ভিড়ে মেয়ে হোঁচট খেল, আপনি হাত ধরে টেনে তুললেন। তখনই কেঁদে উঠল সে। তারপর থেকে চার বছরের মেয়ে সেই হাত আর ব্যবহারই করছে না। হাতটা পাশে ঝুলে থাকে, কেউ ছুঁতে গেলেই সরিয়ে নেয়।

এমন ঘটনা চিকিৎসকদের কাছে খুব চেনা। ছোট শিশুদের কনুইয়ের একটা ছোট জোড়া হাতে টান পড়লে জায়গা থেকে কিছুটা সরে যেতে পারে। ইংরেজিতে একে পুলড এলবো বলা হয়। এই বয়সে হাড় আর লিগামেন্ট নরম থাকে বলে ভাবনার চেয়ে অনেক কম টানেই এমন হয়।

এতে আপনার দোষ নেই। পড়ে যাওয়া শিশুকে হাত ধরে তোলা সব বাবা-মায়েরই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

বাড়ি ফেরার পথে সে চুপচাপ ছিল। প্রিয় জিনিসটা দিয়ে ভোলাতে চাইলেও ওই হাতে সে ধরেনি। হাত নাড়াতে চায় না বলেই সারাক্ষণ অন্য হাতেই সব করছিল। এই একটানা অস্বীকৃতিই বাবা-মাকে চিন্তায় ফেলে।

টাঙ্গাইলে শিশু অর্থোপেডিক সার্জন ঘটনাটা শুনে হাত ধরে রাখার ভঙ্গিটা দেখবেন। কীভাবে হলো আর হাত কীভাবে ঝুলছে, এই দুটো থেকেই সাধারণত বেশিরভাগটা বোঝা যায়।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

কনুইয়ে আসলে সরে যায় কী

কনুইয়ের কাছে একটা ছোট গোল হাড়ের মাথা নরম লিগামেন্টের বলয়ে আটকে থাকে। ছোটদের ক্ষেত্রে সেই বলয় এখনো ঢিলা। হাত ধরে হঠাৎ টান পড়লে হাড়ের মাথাটা বলয়ের ভেতর দিয়ে কিছুটা সরে যেতে পারে। কিছু ভাঙেনি। শুধু একটা অংশ নিজের জায়গায় নেই, তাই নাড়াতে গেলেই ব্যথা।

এজন্যই শিশু হাত স্থির করে রাখে, সামান্য ভেতরের দিকে ঘুরিয়ে। নাড়ালেই সরে যাওয়া অংশে টান লাগে।

ডাক্তার যেভাবে ঠিক করে দেন

ক্লিনিকে ডাক্তার সাধারণত হাতের একটা ছোট, আলতো নাড়ায় জোড়াটা আবার জায়গায় বসিয়ে দেন। মুহূর্তের কাজ। অনেক শিশু সামান্য কাঁদে, তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার খেলনা ধরতে হাত বাড়ায়। নিজেই যেন অবাক হয়, হাত চলছে।

ঘটনার ধরন মিলে গেলে আর শিশু হাত ব্যবহার শুরু করলে অনেক সময় এক্স-রে লাগে না। তবে ফোলা থাকলে, সরাসরি হাতে পড়ে গিয়ে থাকলে, কিংবা ঠিক করার পরও হাত না নাড়ালে ডাক্তার আরও পরীক্ষা করবেন। আপনার মেয়ের ক্ষেত্রে ছবি লাগবে কিনা, ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করুন।

আবার যাতে না হয়

ছোট হাত ধরে টানার জিনিস নয়। হাত ধরে তোলার বদলে বগলের নিচ দিয়ে ধরে তুলুন। ভিড়ে ধরে রাখতে হলে হাতের বদলে কবজি শক্ত করে ধরুন, এক হাত কিংবা জামার আস্তিন ধরে টানবেন না। হাত ধরে দোল খাওয়ানোর খেলাটাও এই বয়সে এড়িয়ে চলা ভালো, যতই আবদার করুক।

এসব বলা মানে দোষ দেওয়া নয়। এই বয়সে কনুই এমনিতেই ঢিলা গড়নের। আরেকটু বড় না হওয়া পর্যন্ত আবার ঘটতে পারে। ধরনটা জানা থাকলে পরেরবার ধরা সহজ হয়। অন্য কোনো স্বাস্থ্য প্রশ্ন থাকলে টাঙ্গাইলে শিশু বিশেষজ্ঞ আপনার মেয়েকে দেখে দিতে পারবেন।

বাবা-মায়ের সাধারণ প্রশ্ন

তাকে ধরতে গিয়েই কি আমি আঘাত দিয়ে ফেললাম?

না। আপনি তার পড়ে যাওয়া থামিয়েছেন। ছোটদের কনুই ঢিলা গড়নের, অল্প টানেই এমন সরতে পারে। এটা খুব চেনা দুর্ঘটনা, শক্ত হাতে ধরার ফল নয়।

কিছু ভেঙে যায়নি তো?

সাধারণত ভাঙে না। পুলড এলবোতে ছোট একটা জোড়া জায়গা থেকে সরে, হাড় ঠিকঠাক থাকে। ফোলা থাকলে বা সরাসরি পড়ে গেলে ছবি বদলায়, তখন ডাক্তার ভাঙা আছে কিনা দেখেন।

এক্স-রে লাগবে কি?

ঘটনার ধরন মিলে গেলে আর জোড়া ঠিক করার পর শিশু হাত ব্যবহার শুরু করলে অনেক সময় লাগে না। তারপরও হাত না নাড়ালে ছবি তোলার কথা আসে।

কত তাড়াতাড়ি আবার হাত ব্যবহার করবে?

জোড়া জায়গায় বসানোর পর অনেক শিশুই অল্প সময়ের মধ্যে হাত নাড়াতে শুরু করে। কারো কারো একটু বেশি সময় লাগে। ডাক্তার বলে দেবেন কী আশা করা যায়।

আবার হতে পারে কি?

পারে, যতদিন সে ছোট আছে। বড় হওয়ার সঙ্গে জোড়া শক্ত হয়। ততদিন বগলের নিচ দিয়ে ধরে তোলা আর কবজি ধরা ঝুঁকি কমায়।

কখন আগেই আবার দেখাব?

সেদিনই পরে হলেও হাত ব্যবহার না করলে আবার দেখান। ফোলা দেখা দিলে কিংবা জ্বর বা অসুস্থ ভাব থাকলেও দেরি করবেন না।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.