সেরা শিশু অর্থোপেডিক সার্জন - সাভার
খেলতে গিয়ে পড়ে কবজি ফুলে গেল
স্কুল থেকে ফোন এলো। ছয় বছরের ছেলে ছুটির সময় মাংকি বার থেকে পিছলে পড়েছে। পড়তে পড়তে হাতটা সামনে বাড়িয়ে দিয়েছিল সে। আপনি পৌঁছে দেখলেন, কবজি ফুলে গেছে। সে হাতটা বুকের কাছে ধরে রেখেছে, কাউকে ছুঁতেই দিচ্ছে না।
ছোট শিশুদের কবজি ভাঙার সবচেয়ে চেনা গল্প এটাই। তাদের হাড় বড়দের হাড়ের চেয়ে নরম। তাই পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার বদলে হাড়টা একপাশে খানিকটা কুঁচকে যায়। চিকিৎসকরা একে বাকল ফ্র্যাকচার বলেন।
নাম শুনলেই ভয় লাগে। কিন্তু সুখবর হলো, শিশুদের এই ফ্র্যাকচার সাধারণত খুব ভালোভাবে সেরে ওঠে। সাভারে শিশু অর্থোপেডিক সার্জন কবজি পরীক্ষা করে এক্স-রে দেখে বুঝিয়ে দেবেন, সামনের কয়েক সপ্তাহ কেমন যাবে।
বাড়ি ফেরার পথে সে বারবার জিজ্ঞেস করছিল, হাতটা কি আবার আগের মতো হবে তো? এই প্রশ্নটা প্রায় সব বাবা-মায়ের মনেই ঘুরতে থাকে। উত্তরের জন্য প্রথম দেখাটাই জরুরি। সেখানে হাড়ের অবস্থা দেখে পরের ধাপ ঠিক করা হয়।
ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পারলে হাতটা বালিশের ওপর উঁচু করে রাখুন। নিজে থেকে কবজি চেপে বা নাড়িয়ে দেখতে যাবেন না।
6 available specialists found
Prof. Dr. Golam Faruque
Dr. Mohammad Asadullah Ripon
Dr. Dewan Nurul Islam
Dr. Pravas Chandra Saha
এক্স-রেতে আসলে কী দেখা হয়
এক্স-রেতে কুঁচকে যাওয়া জায়গাটা দেখা যায়, সাধারণত কবজির কাছের হাড়ের একপাশে ছোট একটা ফোলা অংশের মতো। সেই ফোলা অংশ দেখেই বোঝা যায়, ভাঙাটা কোন ধরনের। আরেকটা জিনিসও দেখা হয়, যেটা বাবা-মায়ের মাথায় সাধারণত আসে না। শিশুর কবজির হাড়ের শেষদিকে থাকে গ্রোথ প্লেট, যেখান থেকে হাড় লম্বা হয়।
ডাক্তার দেখে নেন, এই গ্রোথ প্লেটে আঘাত লেগেছে কিনা। বাকল ফ্র্যাকচারে সাধারণত লাগে না। তবে গ্রোথ প্লেটের আঘাত হলে ফলো-আপ আরও ঘন ঘন লাগে, তাই প্রথমেই দেখে নেওয়াটা জরুরি।
স্প্লিন্ট বা ছোট প্লাস্টারের দিনগুলো
বেশিরভাগ বাকল ফ্র্যাকচার কয়েক সপ্তাহ স্প্লিন্ট বা ছোট প্লাস্টার দিয়ে স্থির রাখা হয়। এই সাপোর্টটাই আসল চিকিৎসা। হাড়টা যাতে নড়াচড়া না করে ধীরে ধীরে জোড়া লাগতে পারে, সেই ব্যবস্থাই করা হয়।
প্লাস্টার শুকনো রাখুন। ভিজে গেলে প্লাস্টার নরম হয়ে চামড়ায় ঘষা লাগে। গোসলের সময় প্লাস্টারের ওপরে প্লাস্টিক মুড়িয়ে নিলে বেশিরভাগ পরিবারের কাজ চলে যায়।
প্রতিদিন আঙুলগুলো দেখুন। আঙুল যেন স্বাভাবিক রঙের থাকে আর সহজে নাড়ানো যায়। ফোলা বাড়তে থাকলে কিংবা ব্যথা কমার বদলে বাড়লে সেদিনই যোগাযোগ করুন। প্লাস্টার ফেটে গেলে বা হঠাৎ ঢিলে লাগলেও তাই।
সেরে ওঠা আর ফলো-আপ
শিশুদের হাড় তাড়াতাড়ি জোড়া লাগে। ফলো-আপে ডাক্তার দেখেন, হাড় সোজাভাবে সারছে কিনা আর কবজিতে ব্যথা আছে কিনা। কখনো আবার এক্স-রে করা হয়, কখনো শুধু পরীক্ষাতেই চলে।
সাপোর্ট খোলার পর কবজি কিছুটা শক্ত লাগতে পারে। এই বয়সে আলাদা ব্যায়াম সাধারণত লাগে না। স্বাভাবিক খেলাধুলা আর হাতের ব্যবহারেই নড়াচড়া ফিরে আসে, সাধারণত কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহে।
মাংকি বার আর ধাক্কাধাক্কির খেলা আরও কিছুদিন এড়িয়ে চলা উচিত কিনা, ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করুন। সদ্য সেরে ওঠা হাড়কে পুরোদমে খেলায় ফেরার আগে একটু সময় দেওয়াই ভালো। শিশুর সার্বিক বাড়াও একই সঙ্গে দেখাতে চাইলে সাভারে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে দেখাতে পারেন।
বাবা-মায়ের সাধারণ প্রশ্ন
বাকল ফ্র্যাকচার মানে কি সত্যিকারের ভাঙা?
হ্যাঁ। হাড়ে আঘাত লেগেছে, একপাশে কিছুটা কুঁচকে গেছে। পুরো ভেঙে যাওয়ার চেয়ে এটা হালকা ধরনের ভাঙা, আর শিশুদের ক্ষেত্রে ভালোভাবে সেরে ওঠা ফ্র্যাকচারগুলোর একটি।
অপারেশন কি লাগবে?
এই ধরনের ফ্র্যাকচারে প্রায় কখনোই লাগে না। স্প্লিন্ট বা প্লাস্টার আর সময়ই যথেষ্ট। অপারেশনের প্রশ্ন আসে হাড় বেশি সরে গেলে, বাকলে তা হয় না।
প্লাস্টার কত দিন থাকবে?
সাধারণত কয়েক সপ্তাহ। এক্স-রে আর শিশুকে দেখে ডাক্তারই আসল সময়টা বলবেন। ফলো-আপেই খোলার সিদ্ধান্ত হয়।
প্লাস্টার ভিজে গেলে বা গন্ধ হলে কী করব?
ভিজে প্লাস্টার নরম হয়ে হাড় ধরে রাখতে পারে না, দেখিয়ে নিন। গন্ধ হলে ভেতরে চামড়ায় ঘা হতে পারে। দুটো ক্ষেত্রেই অপেক্ষা না করে যোগাযোগ করুন।
কবে থেকে আবার খেলতে পারবে?
সাপোর্ট খোলার পর ডাক্তার সন্তুষ্ট হলে স্বাভাবিক খেলা ধাপে ধাপে ফিরে আসে। মাংকি বারে ঝোলা বা ধাক্কাধাক্কির খেলা তার চেয়েও একটু দেরিতে শুরু হয়।
এরপর কবজি কি স্বাভাবিকভাবে বাড়বে?
বেশিরভাগ বাকল ফ্র্যাকচারে গ্রোথ প্লেট অক্ষত থাকে, কবজি আগের মতোই বাড়তে থাকে। ঠিক এ কারণেই প্রথম এক্স-রেতে ডাক্তার গ্রোথ প্লেটের জায়গাটা আলাদা করে দেখেন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.