সেরা শিশু অর্থোপেডিক সার্জন - পাবনা
ভারী বোঝা বয়ে সন্ধ্যায় কোমর ব্যথা
ছেলের বয়স তেরো। প্রতিদিন সকালে সে উঠান থেকে পানির কলসি বয়ে আনে। হাটের দিনে সে বাজার করে আনে এমন ভারী ব্যাগ, যার ওজন প্রায় তার নিজের ওজনের কাছাকাছি। সন্ধ্যা নামলেই কোমরের নিচের দিকে ব্যথা শুরু হয়। স্কুলের ভারী ব্যাগটাও তার কাঁধে ওঠে প্রতিদিন।
বাড়ন্ত বয়সের কিশোরদের মধ্যে এই ধরনটা অস্বাভাবিক নয়। মেরুদণ্ডের পাশের পেশি বারবার ভারী বোঝায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দিন যত গড়ায়, ব্যথা তত বাড়ে। এই ধরনের বেশিরভাগ কোমর ব্যথাই পেশির টান থেকে হয়। বিশ্রাম আর হালকা বোঝায় তা মিটেও যায়। রাতে ঘুমিয়ে পড়লে সকালে ব্যথা অনেকটাই থাকে না।
পরীক্ষার সময় ডাক্তার দেখেন সে কীভাবে দাঁড়ায়, সামনে ঝুঁকলে কতটা ঝুঁকতে পারে। পিঠ বরাবর চাপ দিয়ে তিনি খুঁজে বের করেন ব্যথাটা ঠিক কোথায়। ব্যথার জায়গাটাই অনেক কিছু বলে দেয়। পাশাপাশি তিনি তার সামগ্রিক বৃদ্ধিও দেখে নেন।
পাবনাতে শিশু অর্থোপেডিক সার্জন দেখে বুঝিয়ে দিতে পারবেন, এটা শুধু ক্লান্ত পেশির ব্যথা, নাকি বিশ্রামের চেয়ে বেশি কিছু দরকার। বোঝা বওয়ার নিরাপদ উপায়ও তিনি দেখিয়ে দেবেন।
9 available specialists found
Prof. Dr. Md. Reazul Haque (Reza)
Dr. Md. Aksad Al Masur Anan
Dr. Md. Abu Taleb
Dr. Md. Masudur Rahman (Prince)
Dr. Md. Rashedul Haque
Dr. Hasan Al Habib Sagor
Dr. Md. Hasanusjaman Tutul
ভারী বোঝায় পেশি কেন ব্যথা করে
কিশোর বয়সে হাড় বাড়ে দ্রুত, পেশি সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে সময় নেয়। এমন অবস্থায় বারবার ভারী ওজন তুললে পিঠের পেশিতে টান পড়ে। ব্যথা সাধারণত দুই পাশে ছড়িয়ে থাকে। রাতে ঘুমালে সকালে অনেকটাই কমে আসে।
খেয়াল রাখার বিষয় হলো ধরনটা। পরিশ্রমের দিনে ব্যথা আর বিশ্রামের দিনে স্বস্তি, এই ছন্দটাই পেশির টানের দিকে ইঙ্গিত করে।
পরীক্ষায় যা যা দেখা হয়
ডাক্তার দাঁড়ানো অবস্থায় ভঙ্গি দেখেন। সামনে ও পাশে ঝোঁকা দেখেন, পিঠের কোন জায়গায় চাপ দিলে ব্যথা লাগে তা খুঁজেন। পায়ের শক্তি ও অনুভূতিও তিনি দেখে নিতে পারেন।
সব ঠিকঠাক থাকলে এবং ব্যথার ধরন পেশির টানের মতো হলে সাধারণত কোনো স্ক্যান লাগে না। সতর্ক সংকেত থাকলে তখনই ছবি তোলার প্রশ্ন আসে।
যেসব লক্ষণে দেরি করা যাবে না
কিছু লক্ষণ থাকলে ব্যথাটাকে শুধু পেশির টান ধরে নেওয়া যাবে না। রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো ব্যথা তার মধ্যে পড়ে। জ্বর থাকা কিংবা কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়াও তাই।
পায়ের দিকে ছড়িয়ে যাওয়া ব্যথাও দ্রুত দেখানো দরকার। পায়ে দুর্বলতা বা অবশ ভাব থাকলে তো বটেই। প্রস্রাবের অভ্যাসে বদল, কিংবা সত্যিকারের পড়ে যাওয়া বা আঘাতের পর শুরু হওয়া ব্যথাও এই দলে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে পরীক্ষার পাশাপাশি ছবি লাগতে পারে, ডাক্তার তা বুঝিয়ে বলবেন।
প্রতিদিনের বোঝা হালকা করার উপায়
সব বোঝা একবারে না বয়ে ভাগ করে নিন। পানির কলসি অর্ধেক ভরে দুইবার আনুন। বাজারের ব্যাগ দুই হাতে ভাগ করে ধরুন। এসব ছোট বদলেই পেশির ওপর চাপ অনেকটা কমে।
স্কুলব্যাগ দুই কাঁধে নিন। দরকারি বই ছাড়া অতিরিক্ত জিনিস ব্যাগে রাখবেন না। এসব অভ্যাস পেশির চাপ কমায় ঠিকই, তবে কোনো একটা বদলেই ব্যথা সারার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। খেলাধুলা ও স্বাভাবিক চলাফেরা সাধারণত চালিয়ে যাওয়া যায়। পুরো বিষয়টা একসঙ্গে দেখতে চাইলে পাবনাতে শিশু বিশেষজ্ঞ আপনার ছেলেকে দেখে দিতে পারবেন।
বাবা-মায়ের সাধারণ প্রশ্ন
কিশোর বয়সে কোমর ব্যথা কি স্বাভাবিক?
ভারী বোঝা বওয়ার পর ব্যথা অস্বাভাবিক নয়, বেশিরভাগই পেশির টান। তবে সতর্ক সংকেতের ধরনের ব্যথা হলে তা স্বাভাবিক ধরা যাবে না, দেখিয়ে নিন।
এক্স-রে বা স্ক্যান কি লাগবেই?
ব্যথার ধরন পেশির টানের মতো হলে আর পরীক্ষা স্বাভাবিক থাকলে অনেক সময় লাগে না। সতর্ক সংকেত থাকলে কিংবা ব্যথা না কমলে ডাক্তার ছবি তুলতে দিতে পারেন।
বোঝা বওয়া কি পুরোপুরি বন্ধ করে দেব?
সাধারণত পুরোপুরি বন্ধ নয়। বোঝা ছোট করে ভাগ করে নেওয়াই পরামর্শ হয়। সম্পূর্ণ বিশ্রামে পেশির টান সচরাচর সারে না।
স্কুলব্যাগ কি তার পিঠের ক্ষতি করছে?
ভারী ব্যাগ ক্লান্ত পেশির চাপ বাড়াতে পারে। দুই কাঁধে ব্যাগ নেওয়া আর অপ্রয়োজনীয় জিনিস না রাখা চাপ কমায়। তবে ব্যাগই একমাত্র কারণ নাও হতে পারে।
পেশির টান সারতে কতদিন লাগতে পারে?
হালকা বোঝা আর বিশ্রামে সাধারণত কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহে ব্যথা কমে আসে। না কমলে আবার দেখান।
ব্যথায় রাতে ঘুম ভেঙে যায়, এটাও কি পেশির টান?
না। রাতে ঘুম ভাঙানো ব্যথা সতর্ক সংকেত। দেরি না করে পরীক্ষা করিয়ে নিন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.