সেরা শিশু অর্থোপেডিক সার্জন - নোয়াখালী

পায়ের সামনের অংশ ভেতরে বাঁকা?

নবজাতককে কোলে নিয়ে পায়ের দিকে তাকালেই চোখে পড়ে। গোড়ালি ঠিকঠাক সোজা, কিন্তু প্রতিটি পায়ের সামনের অর্ধেকটা ভেতরের দিকে বেঁকে আছে, অনেকটা কলার মতো। বাড়ির বড়রা দেখেই বলছেন, এ তো ক্লাবফুট নয় তো? দাদী-নানীরা তো বটেই, অনেক বাবা-মাও প্রথম দেখায় ভয় পেয়ে যান।

আতঙ্কিত হওয়ার আগে একটা পার্থক্য জেনে নিন। পায়ের শুধু সামনের অংশ বাঁকা থাকা আর ক্লাবফুট এক জিনিস নয়। চিকিৎসকরা এই অবস্থাকে মেটাটারসাস অ্যাডাক্টাস বলেন। জন্মের আগে গর্ভে শিশু গুটিশুটি হয়ে থাকার কারণে এমনটা প্রায়ই দেখা যায়।

পরীক্ষার সময় ডাক্তার গোড়ালি ধরে রেখে পায়ের সামনের অংশ আলতো করে বাইরের দিকে বাঁকান। পা যদি সহজে সোজা অবস্থান পেরিয়ে যায়, তাহলে সেটা নমনীয়। আর এই নমনীয়তাই সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়। অনেক সময় পায়ের বাইরের কিনারায় হাত বুলিয়ে দিলে শিশু নিজেই পা সোজা করে ফেলে।

আপনার শিশুর পা নিজে দেখে পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিতে পারবেন নোয়াখালীতে শিশু অর্থোপেডিক সার্জন। শুধু লক্ষ্য রাখলেই হবে, নাকি এখনই চিকিৎসা শুরু করা দরকার, সেটাও তিনি বলে দেবেন।

1 available specialists found

Prof. Dr. Md. Anowarul Azim

Qualifications MBBS, MS (Ortho Surgery)
অবস্থান লাকসাম, কুমিল্লা

ক্লাবফুট থেকে এটি আলাদা যেভাবে

এই অবস্থায় গোড়ালি পায়ের সঙ্গেই সোজা লাইনে থাকে। বাঁকটা থাকে শুধু পায়ের সামনের অংশে। ক্লাবফুটে পুরো পা ভেতরে ও নিচের দিকে ঘোরানো থাকে, গোড়ালিও বাঁকা হয়ে উপরে টানা থাকে।

আরেকটা বড় পার্থক্য হলো নমনীয়তা। এই বাঁক থাকা পায়ের সামনের অংশ হালকা চাপে সাধারণত সোজা পেরিয়ে বাইরের দিকেও নেওয়া যায়। ক্লাবফুট শক্ত হয়, হাতে ধরে তা ঠিক করা যায় না। এই শক্তভাবের কারণেই দুই অবস্থার চিকিৎসা আলাদা। তাই পা দেখেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়, হাতে ধরে পরীক্ষা করাটাই মূল বিষয়।

প্রথম কয়েক মাসে যা ঘটে

নমনীয় পা অনেক শিশুর ক্ষেত্রে নিজে থেকেই সোজা হয়ে যায়। শিশু বড় হয়, মুক্তভাবে পা ছোড়ে, বাঁকটা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। অনেক বাবা-মা পায়ের বাইরের কিনারায় নিয়মিত হাত বুলিয়ে দেন। এতে শিশু নিজে থেকেই পা সোজা করার চেষ্টা করে।

ফলো-আপে ডাক্তার মূলত আকৃতিটাই লক্ষ্য করেন। বাঁক কমছে, একই রকম আছে, নাকি শক্ত হচ্ছে, সেটাই দেখার বিষয়। প্রতি মাসে বাড়িতে তোলা ছবি ধীর পরিবর্তন বুঝতে সাহায্য করে।

পা শক্ত হলে যা করা হয়

যে পা বেঁকে ফেরে না, কিংবা ধীরে ধীরে আরও শক্ত হয়ে যাচ্ছে মনে হয়, সেটা শুধু অপেক্ষা করে ফেলে রাখা ঠিক নয়। শক্তভাব টের পেলেই দেরি না করে দেখিয়ে নেওয়া ভালো।

সাধারণভাবে বলতে গেলে, শক্ত পায়ের চিকিৎসায় ধারাবাহিকভাবে আলতো প্লাস্টার দেওয়া হতে পারে। প্রতিবার পা আগের চেয়ে একটু বেশি সোজা করে ধরে রাখা হয়।

আপনার শিশুর পা শুধু লক্ষ্য রাখার মতো নমনীয় কিনা, ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করুন। সামগ্রিক বৃদ্ধি নিয়েও দেখাতে চাইলে নোয়াখালীতে শিশু বিশেষজ্ঞ আপনার শিশুকে দেখে দিতে পারবেন।

বাবা-মায়ের সাধারণ প্রশ্ন

পায়ের সামনের অংশ বাঁকা মানেই কি ক্লাবফুট?

না। এখানে গোড়ালি সোজা থাকে, বাঁক শুধু সামনের অংশে। ক্লাবফুটে পুরো পা ও গোড়ালি জড়িত থাকে এবং পা শক্ত হয়। আপনার শিশুর ক্ষেত্রে কোনটা, পরীক্ষা ছাড়া বলা যায় না।

চিকিৎসা ছাড়াই কি পা সোজা হতে পারে?

অনেক নমনীয় পা প্রথম কয়েক মাসে নিজে থেকেই সোজা হয়। তাই ডাক্তার আগে নমনীয়তা দেখেন, তারপর সময়ে সময়ে আকৃতি মিলিয়ে দেখেন। তবে শক্ত পা নিজে থেকে ঠিক হওয়ার আশা কম, সেটা আলাদা করে দেখা দরকার।

বাড়িতে কি আমি পা সোজা করার চেষ্টা করতে পারি?

পায়ের বাইরের কিনারায় আলতো হাত বুলিয়ে দেওয়া অনেক বাবা-মাকে শেখানো হয়। জোর করে বাঁকাবেন না, শক্ত করে বাঁধবেনও না। কী নিরাপদ, ডাক্তারের কাছে দেখে নিন।

কখন প্লাস্টার লাগে?

পা শক্ত হলে এবং সোজা অবস্থানের দিকে না ফিরলে। ধারাবাহিকভাবে প্লাস্টার বদলে প্রতিবার পা একটু ভালো অবস্থানে রাখা হয়।

এতে কি শিশুর ব্যথা হয়?

না, এতে শিশুর ব্যথা হয় না, পরীক্ষাও আলতোভাবেই করা হয়। দেখানোর কারণ এখনকার অস্বস্তি নয়, ভবিষ্যতে পায়ের আকৃতি ও হাঁটা।

কোন পরিবর্তন দেখলে আগেই দেখাব?

পা আগের চেয়ে শক্ত মনে হলে দেখান। এক পা অন্য পায়ের চেয়ে স্পষ্ট বেশি বাঁকা হলেও তাই। মাসে মাসে তোলা ছবিগুলো সঙ্গে নিয়ে যাবেন।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.