সেরা শিশু অর্থোপেডিক সার্জন - নাটোর
গাছে চড়তে গিয়ে হাত ভেঙে বেঁকে গেল
আপনার ছেলের বয়স পাঁচ। গাছে চড়া, দেয়ালে ওঠা, এসবই তার সারাদিনের কাজ। এবার ভারসাম্য রাখতে পারেনি, নিচে পড়েছে হাত বাড়িয়ে। তুলে নিতেই চোখে পড়ল, হাতের সামনের অংশটা সোজা নেই। মাঝখানে একটা বাঁক দেখা যাচ্ছে। আপনি তখনই বুঝলেন, এটা সাধারণ মোচড় নয়।
হাসপাতালে এক্স-রে করতেই ছবিটা পরিষ্কার হলো। কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত দুটি হাড়ের একটি ভেঙেছে। আর ভাঙা অংশ দুটো এক লাইনে নেই, কোণ হয়ে আছে।
বাবা-মায়ের মনে প্রথম প্রশ্নটাই আসে, হাতটা কি আগের মতো হবে। এই বয়সে এমন ভাঙা খুবই চেনা সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুকে ঘুমের মধ্যে রেখে হাড়টা আবার সোজা করে লাইনে আনা যায়। তারপর প্লাস্টার দিয়ে সেই অবস্থান ধরে রাখা হয়। কাটা-ছেঁড়া বা অপারেশনের দরকার সাধারণত পড়ে না।
নাটোরে শিশু অর্থোপেডিক সার্জন আপনাকে বুঝিয়ে বলবেন, হাড় সোজা করার কাজটা কীভাবে হয়। প্লাস্টার কতদিন থাকবে, বাসায় কী কী খেয়াল রাখবেন, সবই সেখানে জেনে নিতে পারবেন। প্রথম দিনের কাজটা জরুরি, তার পরের প্লাস্টারের সপ্তাহগুলোও কম জরুরি নয়।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
হাড় সোজা করা হয় যেভাবে
এই পদ্ধতির নাম ক্লোজড রিডাকশন। ক্লোজড মানে, চামড়া কেটে ভেতরে যাওয়া হয় না। শিশুকে ঘুমের মধ্যে রেখে ডাক্তার ধীরে ধীরে হাড়ের ভাঙা অংশ দুটো আবার লাইনে বসিয়ে দেন।
লাইন ঠিক হলে হাতটা সেই অবস্থায় রেখেই প্লাস্টার করে দেওয়া হয়। আসল কাজটা করে এই প্লাস্টারই। হাড় ঠিক জায়গায় স্থির থাকে, আর শরীর নিজের গতিতে জোড়া লাগাতে থাকে।
ঘুম ভাঙার পর শিশু কিছুটা ঝিমঝিমে থাকতে পারে। প্রথম এক-দুদিন হাতে ব্যথা থাকাও স্বাভাবিক। তারপর ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বাসায় প্লাস্টারের যত্ন
প্লাস্টার শুকনো রাখাই প্রথম নিয়ম। ভিজে গেলে প্লাস্টার নরম হয়ে যায়, ঘষা লাগে। গোসলের সময় প্লাস্টারটা পলিথিনে মুড়ে রাখুন, পানি নিয়ে খেলা থেকে দূরে রাখুন।
প্রতিদিন আঙুলগুলো দেখুন। রঙ স্বাভাবিক আছে তো, আঙুল নাড়াতে পারছে তো। আঙুল ফুলে উঠছে কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
আঙুল ফুলে গেলে, রঙ ফ্যাকাশে বা নীল হয়ে গেলে সেদিনই হাসপাতালে যান। ব্যথা কমার বদলে বাড়তে থাকলেও দেরি করবেন না। আঙুল একদম নাড়াতে না পারলেও একই কথা। এসব প্লাস্টারের সমস্যা, অপেক্ষা করার বিষয় নয়।
ফলো-আপ এক্স-রে আর বাড়ন্ত হাড়ের নিজের গুণ
প্রথম কয়েক সপ্তাহে ফলো-আপ এক্স-রে করা হয়। ফোলা কমে গেলে প্লাস্টারের ভেতরে হাড় সামান্য সরে যেতে পারে। ছবিতে দেখা হয়, হাড়ের লাইন ঠিকভাবে ধরে আছে কিনা।
এবার একটা ভালো খবর। ছোটদের হাড় নিজে নিজে আকৃতি শুধরে নিতে পারে। কবজির কাছাকাছি ছোটখাটো বাঁক থেকে গেলে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।
তবে এই গুণের একটা সীমা আছে। বাঁক শুধরে যায়, কিন্তু মোচড়ানো হাড় নিজে থেকে খুলে সোজা হয় না। তাই ফলো-আপে ডাক্তার লাইনের পাশাপাশি হাড়ের মোচড়ের দিকটাও দেখেন।
পাঁচ বছরের শিশুর হাতের হাড় সাধারণত কয়েক সপ্তাহেই জোড়া লাগে, মাসের পর মাস লাগে না। পথে কোনো সন্দেহ থাকলে নাটোরে শিশু বিশেষজ্ঞ সামগ্রিক অবস্থাটা দেখে দিতে পারবেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বাঁক ঠিক করতে অপারেশন লাগবে কি?
সাধারণত লাগে না। এই বয়সে বেশিরভাগ বাঁকানো ভাঙা ঘুমের মধ্যে হাড় লাইনে এনে প্লাস্টারেই ঠিক করা যায়। হাড় লাইনে আনা না গেলে বা ধরে রাখা না গেলে তখন অন্য ভাবনা আসে।
হাড় সোজা করার সময় ব্যথা পাবে?
সে তখন ঘুমের মধ্যে থাকবে, কাজটা টের পাবে না। পরের এক-দুদিন হাতে কিছুটা ব্যথা থাকা স্বাভাবিক। প্রথম রাতে কী হতে পারে, ডাক্তারের কাছে জেনে নিন।
প্লাস্টার কতদিন থাকবে?
ভাঙার ধরনের ওপর নির্ভর করে। তবে এই বয়সে হাড় সাধারণত কয়েক সপ্তাহেই জোড়া লাগে। ফলো-আপে এক্স-রে দেখে ডাক্তারই সময়টা নিশ্চিত করবেন।
প্লাস্টার ভিজে গেলে কী হবে?
হালকা ভিজে গেলে শুকিয়ে নিয়ে খেয়াল রাখুন। বেশি ভিজে প্লাস্টার নরম হয়ে হাড় ধরে রাখতে পারে না, সেদিনই দেখিয়ে নিন। গোসলের সময় মুড়ে রাখলে এই ঝামেলাই থাকে না।
হাত কি পুরোপুরি আগের মতো সোজা হবে?
লক্ষ্য হলো এমন লাইন, যার ওপর ভর করে হাড় বাড়তে পারবে। কবজির কাছের ছোট বাঁক বড় হওয়ার সঙ্গে অনেকটাই মিলিয়ে যায়। তবে মোচড় নিজে থেকে ঠিক হয় না, তাই ফলো-আপে সেটা আলাদা করে দেখা হয়।
আবার কবে থেকে খেলতে আর চড়তে পারবে?
প্লাস্টার থাকা অবস্থায় নয়, যত কষ্টই হোক আটকে রাখতে হবে। প্লাস্টার খোলার পর ডাক্তার বলে দেবেন কবে থেকে স্বাভাবিক খেলা চলবে। শুরুতে হাতে কিছুটা জড়তা থাকতে পারে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.