সেরা শিশু অর্থোপেডিক সার্জন - নারায়ণগঞ্জ

দৌড়ালেই পায়ের সামনের হাড়ে ব্যথা

আপনার ছেলের বয়স এগারো। স্কুলের পর ফুটবল, সপ্তাহান্তে অ্যাথলেটিকস প্র্যাকটিস। নতুন সিজন শুরু হতেই ট্রেনিং বেড়ে গেছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। এখন সমস্যা হলো, কিছুদূর দৌড়ালেই তার পায়ের সামনের দিকে ব্যথা শুরু হয়। সে নিজে কিছু বলে না, বন্ধুদের পেছনে পড়ে যেতে চায় না।

ব্যথাটা হাঁটুর নিচের লম্বা হাড়টির ভেতরের কিনারা ধরে লাগে। হাত দিয়ে চাপ দিলে একটা নির্দিষ্ট বিন্দুতে নয়, লম্বা একটা জায়গা জুড়ে ব্যথা পাওয়া যায়। বিশ্রাম নিলেই কমে আসে, পরের সেশনে আবার শুরু হয়।

এই ধরনের ব্যথাকে শিন স্প্লিন্টস বলা হয়। মানে হলো, পা যতটা পরিশ্রমের জন্য তৈরি, তার চেয়ে বেশি চাপ হঠাৎ এসে পড়েছে। বাড়ন্ত বয়সে হাড় আর পেশি এখনো গড়ে উঠছে। তাই হঠাৎ ট্রেনিং বেড়ে গেলে পা-ই প্রথমে প্রতিবাদ জানায়।

প্রথম ভিজিটে নারায়ণগঞ্জে শিশু অর্থোপেডিক সার্জন জানতে চাইবেন, ইদানীং ট্রেনিং কতটা বেড়েছে। কোন মাঠে দৌড়ায়, জুতা কেমন, সেসবও জিজ্ঞেস করবেন। তারপর হাড় বরাবর ধীরে ধীরে চাপ দিয়ে দেখবেন, ব্যথার জায়গাটা কতটা লম্বা।

6 available specialists found

ডা. খালেদ মনসুর (মুরাদ)

Qualifications এমবিবিএস, ডি.অর্থো (ঢাবি)
অবস্থান নারায়ণগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ

Lt. Col. Dr. Suman Kumar Sen

Qualifications MBBS (Dhaka), MS (Orthopedics)
অবস্থান বন্দর, নারায়ণগঞ্জ

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ হারুন অর রশিদ খান

Qualifications এমবিবিএস, ডি.অর্থো (ঢাবি), এমএস (অর্থো)।
অবস্থান নারায়ণগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ

Dr. Dibakar Sarkar

Qualifications MBBS, BCS (Health), MS (Orthopedic), AO Advanced (Indonesia), AO Fellow (Bangkok)
অবস্থান Chittagong, চট্টগ্রাম

Dr. Md. Fazlul Haque Qasem

Qualifications MBBS, MS (ORTHO), WHO Fellow (Thailand)
অবস্থান নারায়ণগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ

Dr. Anjan Lal Ghosh

Qualifications MBBS, D-ORTHO
অবস্থান নারায়ণগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ

চাপ বাড়ল কেন, সেটাই আসল প্রশ্ন

শিন স্প্লিন্টস কোনো একদিনের আঘাত নয়। পড়ে যাওয়া বা লাথি খাওয়ার মতো কোনো ঘটনা এর পেছনে থাকে না। সপ্তাহের পর সপ্তাহ পায়ের ওপর ধারণক্ষমতার বেশি দৌড় গেছে, ব্যথাটা তারই ফল।

নতুন সিজনেই এমনটা বেশি হয়। সপ্তাহে একদিনের প্র্যাকটিস হঠাৎ চারদিন হয়ে যায়। শক্ত মাঠ আর পুরনো হয়ে যাওয়া জুতাও চাপ বাড়িয়ে দেয়।

বড়দের সঙ্গে শিশুদের এখানে তফাৎ আছে। তাদের হাড় এখনো লম্বা হচ্ছে, চারপাশের টিস্যু এখনো সেই গতির সঙ্গে খাপ খাওয়াচ্ছে। চাপ খুব দ্রুত বাড়ালে শিনের হাড়েই প্রথম ব্যথা ওঠে।

ডাক্তার হাড়ে চাপ দিয়ে যা বোঝেন

পরীক্ষার মূল অংশটাই হলো ছুঁয়ে দেখা। ডাক্তার শিনের হাড়ের ভেতরের কিনারা ধরে আঙুল চালিয়ে আলতো করে চাপ দেবেন। শিন স্প্লিন্টস হলে ব্যথা লম্বা একটা অংশ জুড়ে পাওয়া যায়।

কিন্তু ব্যথা যদি একটা ছোট নির্দিষ্ট জায়গায় থাকে, তাহলে ব্যাপারটা আলাদা। বিশ্রামের সময়ও ব্যথা থাকলে, রাতে ব্যথায় ঘুম ভাঙলে, কিংবা হাড়ের ওপর ফোলা দেখা গেলে আরও ভালো করে দেখা দরকার।

এসব লক্ষণ হাড়ের ভেতরে স্ট্রেস-জাতীয় আঘাতের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। সেরকম সন্দেহ হলে ছবি তুলে হাড়ের অবস্থা দেখা হয়। আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে ছবি লাগবে কিনা, ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করে নিন।

খেলা থামানো নয়, চাপ কমানো

সাধারণত সমাধানটা হলো চাপ কমানো, খেলা পুরো বন্ধ করা নয়। কিছুদিন ট্রেনিংয়ের পরিমাণ কমবে, কঠিন সেশনগুলোর মাঝে ফাঁক বাড়বে। বেশিরভাগ শিশুই কিছু না কিছু খেলা চালিয়ে যেতে পারে।

জুতার দিকে ডাক্তার আলাদা করে নজর দেবেন। জুতা ঠিকঠাক সাপোর্ট দেয় তো, সোল ক্ষয়ে যায়নি তো। কংক্রিটের বদলে নরম মাঠে দৌড়ানোর সুযোগ থাকলে সেটাও কাজে দেয়।

ব্যথা কমে গেলে আবার ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে হয়। এক সপ্তাহে একটু, তার পরের সপ্তাহে আরেকটু। হঠাৎ দ্বিগুণ করে ফেললেই ব্যথা ফিরে আসার ভয় থাকে। সাধারণ স্বাস্থ্যের অন্য কোনো দিক নিয়ে প্রশ্ন থাকলে নারায়ণগঞ্জে শিশু বিশেষজ্ঞ দেখে নিতে পারেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

এটা কি শুধু বাড়ন্ত বয়সের ব্যথা?

না। বাড়ন্ত বয়সের ব্যথা সাধারণত রাতে হয়, দুই পায়েই হয়। আর দৌড়ের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক থাকে না। এই ব্যথা দৌড়ের সময় ওঠে, হাড়ের ওপর লাগে, বিশ্রামে কমে।

ফুটবল খেলা কি চালিয়ে যেতে পারবে?

সাধারণত পারে, চাপ কমিয়ে। কতটা কমাতে হবে, ডাক্তার বলে দেবেন। খেলার সময় ব্যথায় খোঁড়াতে শুরু করলে সেদিনের খেলা থামিয়ে দেওয়াই ঠিক।

এক্স-রে করা লাগবে কি?

সবসময় লাগে না। লম্বা জায়গা জুড়ে ব্যথা আর পরিষ্কার ট্রেনিংয়ের ইতিহাস থাকলে শুধু পরীক্ষাতেই চলতে পারে। ব্যথা এক জায়গায় আটকে থাকলে বা ফোলা থাকলে ছবি লাগতে পারে।

পরের সিজনে আবার হবে?

হতে পারে, যদি আবার হঠাৎ ট্রেনিং বেড়ে যায়। সিজনের শুরুতে ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানোই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। সময় পেলে পা নিজেই খাপ খাইয়ে নেয়।

বিশেষ জুতা কিনলেই কি ঠিক হবে?

শুধু জুতায় সমস্যা মেটে না। ভালো সাপোর্টওয়ালা, ঠিক মাপের জুতা সাহায্য করে ঠিকই। কিন্তু মূল বিষয়টা হলো ট্রেনিংয়ের চাপ, সেটাই আগে ঠিক করা দরকার।

কখন আগের চেয়ে দ্রুত দেখাতে হবে?

ব্যথা একটা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আটকে গেলে অবশ্যই আসুন। বিশ্রামে ব্যথা, রাতের ব্যথা বা ফোলা থাকলেও দেরি করবেন না। এসব লক্ষণের জন্য নতুন করে পরীক্ষা দরকার।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.