সেরা শিশু অর্থোপেডিক সার্জন - মানিকগঞ্জ
জুতার ভেতরের দিকটা ক্ষয়ে যাচ্ছে কেন
আপনার সাত বছরের ছেলেকে খালি পায়ে দাঁড় করান। পায়ের তলা পুরোটাই মেঝেতে লেগে আছে। মাঝখানে যে বাঁকটা থাকার কথা, সেটা নেই। গোড়ালি দুটো সামান্য ভেতরের দিকে হেলে আছে। স্কুলের জুতার ভেতরের কিনারটাও অন্যদিকের চেয়ে তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে গেছে।
এবার তাকে পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে বলুন। দেখবেন, বাঁকটা ফুটে উঠেছে। বসে পা ঝুলিয়ে রাখলেও বাঁকটা দেখা যায়।
এই একটা পরীক্ষাই অনেক কিছু বলে দেয়। বাঁক যখন দরকারমতো তৈরি হতে পারে, পা-টা নমনীয়। হাড় আর জোড়াগুলো ঠিকঠাক আছে, শুধু পুরো ভর পড়লে পা সমতল হয়ে বসে। বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রে একে ডাক্তাররা নমনীয় চ্যাপ্টা পা বলেন। আর এদের বেশিরভাগেরই কোনো চিকিৎসা লাগে না।
তবু চিন্তা যায় না। কারণ পরিবারেই উদাহরণ আছে। তাঁর চাচারও চ্যাপ্টা পা, আর এখন হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন। মনে হয়, ছেলেরও কি বড় হয়ে এমন হবে?
একবার দেখিয়ে নিলে এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে। মানিকগঞ্জে শিশু অর্থোপেডিক সার্জন আপনার শিশুকে দাঁড়ানো, হাঁটা আর আঙুলে ভর দিয়ে ওঠা দেখবেন। ব্যথা আছে কিনা জিজ্ঞেস করবেন। এই কয়েক মিনিটেই সাধারণত বোঝা যায়, শুধু লক্ষ্য রাখলেই চলবে, নাকি আরও কিছু দেখা দরকার।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
গোড়ালি ভেতরে হেলে যায় কেন, জুতা ক্ষয় পায় কেন
পায়ের বাঁকটা সমতল হয়ে বসলে প্রতিটা কদমে পা সামান্য ভেতরের দিকে গড়িয়ে যায়। গোড়ালিও সেদিকে হেলে পড়ে। তাই জুতার ভেতরের কিনার আর গোড়ালির ভেতরের অংশটা আগে ক্ষয়ে যায়। জুতা দেখে যতটা ভয় লাগে, নমনীয় পায়ে ব্যাপারটা সাধারণত ততটা গুরুতর নয়। এটা পা কীভাবে কাজ করছে, তারই চিহ্ন। ক্ষতি হচ্ছে বলে নয়।
ছোটদের পায়ের তলায় বাঁকের জায়গায় একটা চর্বির পর্দা থাকে। বয়স বাড়লে সেই পর্দা পাতলা হয়, বাঁকটাও অনেক শিশুর ক্ষেত্রে স্পষ্ট হতে থাকে। আবার অনেকে কিশোর বয়স পর্যন্তও বেশ চ্যাপ্টা পা নিয়েই থাকে। তাদের জন্য চ্যাপ্টাই স্বাভাবিক।
যে লক্ষণ থাকলে আরও ভালো করে দেখা দরকার
বেশিরভাগ নমনীয় চ্যাপ্টা পা শুধু লক্ষ্য রাখা হয়, চিকিৎসা হয় না। কিন্তু কয়েকটা লক্ষণ থাকলে হিসাব বদলায়।
প্রথমটা ব্যথা। পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের সামনের হাড়ে বারবার ব্যথা হলে দেখানো দরকার। হাঁটলে তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যাওয়াও একটা লক্ষণ। অন্য শিশুরা যেই পথ হেঁটে যায়, আপনার শিশু সেই পথে কোলে উঠতে চাইলে ব্যাপারটা খেয়াল করুন।
দ্বিতীয়টা দুই পায়ের তফাৎ। এক পা অন্য পায়ের চেয়ে চোখে পড়ার মতো বেশি চ্যাপ্টা হলে পরীক্ষা করা উচিত।
তৃতীয়টা সবচেয়ে জরুরি। আঙুলে ভর দিয়ে দাঁড়ালেও যদি বাঁক তৈরি না হয়, পা-টা নমনীয় নয়, শক্ত হতে পারে। শক্ত চ্যাপ্টা পায়ের কারণ আলাদা। ঠিকমতো পরীক্ষা লাগে, কখনো এক্স-রেও লাগতে পারে। আপনার শিশুর পা যেভাবে নড়া উচিত সেভাবে নড়ে কিনা, ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করুন।
বিশেষ জুতা আর আর্চ সাপোর্ট নিয়ে সৎ কথা
দোকানে গেলেই "কারেক্টিভ" জুতা আর বিশেষ সোল কিনতে উৎসাহ পাবেন। কিন্তু সৎ কথাটা জেনে রাখুন। বাড়ন্ত শিশুর নমনীয় পায়ে সাপোর্ট দিয়ে বাঁক তৈরি করা যায় না। বছরের পর বছর শিশুদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সোল ব্যবহারে পায়ের গড়ন বদলায়নি।
ঠিকমাপের সাধারণ জুতাই যথেষ্ট। ব্যথা থাকলে সাপোর্টে পা আরাম পেতে পারে, সেই কারণে ব্যবহার করা যেতেই পারে। শুধু এই আশায় কিনবেন না যে, বাঁক শেখানো যাবে।
ফলো-আপ সাধারণত যেমন হয়
বেশিরভাগ শিশুর পরিকল্পনা সরল। চিকিৎসা নেই, স্বাভাবিক চলাফেরা আছে। ব্যথা বা শক্তভাব এলে আবার দেখানো। খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ সব চলবে। নমনীয় চ্যাপ্টা পা শিশুকে পিছিয়ে রাখার কারণ নয়।
এর পাশাপাশি শিশুর সার্বিক বৃদ্ধি আর বিকাশও দেখিয়ে নিতে চাইলে মানিকগঞ্জে শিশু বিশেষজ্ঞ তাকে দেখে দিতে পারবেন। দেখাতে এলে ক্ষয়ে যাওয়া জুতা জোড়া সঙ্গে আনুন। জুতা দেখলেই অনেকটা গল্প বোঝা যায়।
সাধারণ প্রশ্ন
চ্যাপ্টা পা থাকলেই কি বড় হয়ে হাঁটুর ব্যথা হবে, চাচার মতো?
না, এমন কোনো নিয়ম নেই। নমনীয় চ্যাপ্টা পা নিয়ে বেশিরভাগ শিশু বড় হয়ে পা বা হাঁটুর সমস্যায় ভোগে না। বড়দের হাঁটুর ব্যথার কারণ অনেক হতে পারে। এক আত্মীয়ের অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনার শিশুর ভবিষ্যৎ বলা যায় না।
বাড়িতে নমনীয় কিনা বুঝব কীভাবে?
শিশুকে পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে দাঁড়াতে বলুন। বাঁক ফুটে উঠলে পা নমনীয়। বসে পা ঝুলিয়ে রাখা অবস্থাতেও দেখুন। দুই অবস্থাতেই বাঁক না থাকলে পরীক্ষা করানো উচিত।
এক্স-রে লাগবে কি?
নমনীয় আর ব্যথাহীন পায়ে সাধারণত লাগে না। পা শক্ত হলে, ব্যথা থাকলে বা এক পা অন্য পায়ের চেয়ে স্পষ্ট আলাদা হলে এক্স-রের কথা আসে।
দৌড় বা ফুটবল খেলা কি বন্ধ করতে হবে?
না। চলাফেরা আর খেলাধুলা বাড়ন্ত পায়ের জন্য ভালো। খেলার পর নিয়মিত ব্যথা হলে সেটা দেখানোর সময় বলুন।
কোন বয়সে বাঁক স্থির হয়?
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বছরগুলোতে অনেক শিশুর বাঁক স্পষ্ট হতে থাকে। কেউ কেউ চ্যাপ্টা পা নিয়েই স্বস্তিতে থাকে। শুধু আকৃতি কোনো সমস্যা নয়।
কখন আগেই আবার দেখাব?
ব্যথা শুরু হলে, এক পায়ের আকৃতি বদলালে, কিংবা শিশু খুঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করলে আগেই দেখান। এসব বদল দেরি না করে পরীক্ষা করা উচিত।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.