সেরা শিশু অর্থোপেডিক সার্জন - গাজীপুর
পা সোজা না হয়ে আরও বাঁকছে কেন
আপনার ছেলের বয়স নয় বছর। ছোটবেলায় পা একটু বাঁকা ছিল, সবাই বলেছিল বড় হলে নিজে নিজে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গত এক বছরে উল্টোটা হচ্ছে। বাঁক কমার বদলে বেড়ে গেছে। আর ডান পায়ের বাঁকটা বাম পায়ের চেয়ে চোখে পড়ার মতো বেশি।
খেয়াল করে দেখুন, স্কুলের প্যান্ট হাঁটুর ভেতরের দিকে তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে যাচ্ছে। খালি পায়ে সোজা দাঁড়ালে দুই হাঁটুর মাঝখানের ফাঁকটাও আগের চেয়ে বড় লাগে। বন্ধুরা কিছু বলে না, কিন্তু আপনার চোখে ব্যাপারটা ধরা পড়ছেই।
কথাটা সত্যি, ছোট শিশুদের বাঁকা পা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজে নিজে সোজা হয়। তবে এই বয়সে এসে বাঁক বাড়তে থাকা, তার ওপর একদিকে বেশি হওয়া, সেই সাধারণ নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এমন ধরন দেখলে পা দুটো একবার ঠিকমতো মাপিয়ে নেওয়া উচিত।
ডাক্তার প্রথমে আপনার ছেলের হাঁটা দেখবেন, তারপর প্রতিটি পায়ের কোণ মাপবেন। গাজীপুরে শিশু অর্থোপেডিক সার্জন দেখে বুঝিয়ে বলতে পারবেন, হাঁটুর নিচের বাড়ন্ত অংশে আসলে কী ঘটছে, আর এখন শুধু নজর রাখলেই চলবে, নাকি ব্রেস বা অন্য ব্যবস্থা দরকার।
3 available specialists found
Dr. Md. Fazlul Haque Qasem
Prof. Dr. Md. Abdur Rob
Prof. Dr. Monaim Hossen
ছোটবেলার বাঁকা পা কেন নিজে নিজেই সোজা হয়
প্রায় সব শিশুই জন্মের সময় সামান্য বাঁকা পা নিয়ে আসে। হাঁটা শুরু হলে পা ধীরে ধীরে সোজা হতে থাকে, সাধারণত দুই বছর বয়সের মধ্যেই অনেকটা ঠিক হয়ে যায়।
তাই শুধু পা বাঁকা থাকলেই তা রোগ নয়। ডাক্তাররা দেখেন বদলটা কোন দিকে যাচ্ছে। বয়সের সঙ্গে সোজা হওয়া পা স্বাভাবিক পথেই আছে। ছোটবেলার ধাপ পেরিয়ে আরও বাঁকতে থাকা পা সেই দলে পড়ে না।
হাঁটুর নিচে হাড়ের বাড়ন্ত অংশে যা ঘটে
শিশুদের লম্বা হাড় বাড়ে প্রান্তের কাছাকাছি থাকা নরম অংশ থেকে, যাকে গ্রোথ প্লেট বলে। এমনই একটা অংশ আছে হাঁটুর ঠিক নিচে, পায়ের সামনের লম্বা হাড়ের ওপরে। বাচ্চা দাঁড়ালে বা হাঁটলে ওই অংশের ভেতরের দিকটায় চাপ পড়ে বেশি।
ওজন বেশি হলে চাপ আরও বাড়ে। ভেতরের দিকটা বাইরের চেয়ে ধীরে বাড়ে, আর হাড় ধীরে ধীরে বাইরের দিকে বেঁকে যায়। চিকিৎসকরা এই ধরনটাকে ব্লাউন্ট ডিজিজ বলেন। বাবা-মায়ের কোনো ভুলে এটা হয় না, এটা হাড়ের বৃদ্ধির সমস্যা।
ডাক্তার কী মাপেন, এক্স-রে কেন দাঁড়িয়ে করানো হয়
পরীক্ষাটা সহজ, ব্যথাও লাগে না। বাচ্চাকে পা জোড়া করে দাঁড় করিয়ে ডাক্তার দুই হাঁটুর মাঝের ফাঁক দেখেন, দুই পাশ মিলিয়ে দেখেন। হাঁটার ভঙ্গিটাও তিনি লক্ষ করেন।
এক্স-রেটা সাধারণত দাঁড়িয়ে, দুই পায়ে ভর দিয়ে করানো হয়। এতে পায়ের হাড়ের কোণ আর গ্রোথ প্লেটের অবস্থা দুটোই বোঝা যায়। কয়েক মাস পর পরের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, কোণটা একই আছে, কমছে, নাকি আরও বাড়ছে। একটা মাপের চেয়ে এই ধারাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রেস, অপারেশন আর বাস্তব প্রত্যাশা
বয়স কম হলে আর কোণটা ছোট থাকলে প্রথমে পায়ে ব্রেস দিয়ে দেখা হতে পারে। উদ্দেশ্য, ভেতরের দিকের চাপ কমিয়ে বৃদ্ধিকে সুযোগ দেওয়া। ব্রেসের কাজ সবচেয়ে ভালো হয় শুরুর দিকে। আপনার সন্তান সেই সময়ের মধ্যে আছে কিনা, ডাক্তার স্পষ্ট করেই বলবেন।
বড় বাচ্চার ক্ষেত্রে, কিংবা কোণ বাড়তেই থাকলে, অপারেশনের কথা উঠতে পারে। সাধারণভাবে, এই অপারেশনে হাড়ের বাড়ন্ত অংশের বৃদ্ধিকে পথ দেখানো বা ঠিক করা হয়, যাতে বাচ্চা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পা সোজা হতে থাকে। ঠিক কী করা হবে তা নির্ভর করে কোণ আর বাকি বৃদ্ধির ওপর। পুরোপুরি সোজা পায়ের নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না, দিলে সাবধান হওয়াই ভালো। বৃদ্ধি বা ওজন নিয়েও দুশ্চিন্তা থাকলে একজন গাজীপুরে শিশু বিশেষজ্ঞ হাড়ের ফলো-আপের পাশাপাশি আপনার সন্তানকে দেখে দিতে পারবেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ছোটবেলায় পা সোজা হয়ে গিয়েছিল, এখন আবার বাঁকছে কেন?
বড় বয়সে নতুন করে বাঁক শুরু হওয়া আর ছোটবেলার বাঁক এক জিনিস নয়। এর সম্পর্ক প্রায়ই হাঁটুর নিচের গ্রোথ প্লেটের সঙ্গে। তাই শুধু আশ্বাসে চলবে না, পরীক্ষা করানো দরকার।
এক পা অন্য পায়ের চেয়ে বেশি বাঁকা, এটা কি চিন্তার?
হ্যাঁ, এমন হলে দেখানো উচিত। স্বাভাবিক বৃদ্ধির ধরনে দুই পা প্রায় সমানভাবে বদলায়। এক পাশে স্পষ্ট বেশি বাঁক থাকলে ডাক্তার সাধারণত দাঁড়িয়ে এক্স-রে করিয়ে দেখেন।
প্রথম বারেই কি এক্স-রে লাগবে?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লাগে। দাঁড়িয়ে তোলা ছবিতে দুই পায়ের কোণ আর গ্রোথ প্লেটের অবস্থা বোঝা যায়।
ব্রেস পরলেই কি পা সোজা হয়ে যাবে?
বয়স কম আর কোণ ছোট হলে ব্রেসে কাজ হতে পারে। বড় বাচ্চার ক্ষেত্রে ব্রেসে বদল আসার সম্ভাবনা কম। এক্স-রে দেখে ডাক্তারই বলতে পারবেন, ব্রেস বাস্তবসম্মত কিনা।
অপারেশন কি লাগবেই?
সবসময় নয়। অনেক বাচ্চাকে নির্দিষ্ট সময় পর পর মাপ নিয়ে শুধু ফলো-আপেই রাখা হয়। কোণ বড় হলে বা বাড়তেই থাকলে তখন অপারেশনের আলোচনা আসে। অপেক্ষা করা নিরাপদ কিনা, আপনার ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করুন।
কতদিন পর পর দেখাতে হবে?
তা নির্ভর করে কোণ কতটা আর কত দ্রুত বদলাচ্ছে তার ওপর। সাধারণত কয়েক মাস অন্তর দেখা হয়, প্রতিবার পায়ের কোণ মাপা হয়। আগের এক্স-রে থাকলে সঙ্গে নিয়ে যাবেন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.