সেরা শিশু অর্থোপেডিক সার্জন - ঢাকা

কোনো আঘাত ছাড়াই হঠাৎ খুঁড়িয়ে হাঁটছে

আপনার ছেলের বয়স বারো। বয়সের তুলনায় সে বেশ লম্বা, ওজনটাও বন্ধুদের চেয়ে একটু বেশি। কয়েক সপ্তাহ ধরে সে বলছে, হাঁটুতে ব্যথা। কোনো কোনো দিন আবার কোমরের দিকটায় ব্যথা থাকে। ইদানীং হাঁটার সময় সে খুঁড়াতে শুরু করেছে। অথচ পড়ে যাওয়া বা আঘাত পাওয়ার মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

এই বয়সে হাঁটুর ব্যথা শুনলেই মনে হয়, খেলতে গিয়ে হয়তো কোথাও চোট লেগেছে। কিন্তু ব্যথা যদি কুঁচকি বা ঊরুর ভেতরের দিকে হয়, আর সঙ্গে খোঁড়ানো থাকে, তাহলে চিকিৎসকরা সবার আগে কোমরের জয়েন্টটাই পরীক্ষা করেন। হাঁটুর সমস্যা ধরে বসে থাকলে আসল জায়গাটা চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

ঊরুর হাড়ের একদম ওপরে গোল বলের মতো একটা অংশ থাকে, যেটা কোমরের খাঁজে বসে চলাচলে সাহায্য করে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই বলটি হাড়ের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি গ্রোথ প্লেট দিয়ে। এটি নরম টিস্যুর একটি স্তর, যেখানে নতুন হাড় তৈরি হয়। কৈশোরের দ্রুত বৃদ্ধির সময় এই প্লেট দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তখন বলটি হাড়ের গলার ওপর সামান্য পেছনের দিকে সরে যায়। চিকিৎসকরা একে স্লিপড ক্যাপিটাল ফিমোরাল এপিফাইসিস বলেন।

এই ব্যথা নিয়ে সপ্তাহের পর সপ্তাহ বসে থাকা ঠিক নয়। যত দ্রুত সম্ভব দেখানো দরকার। ছেলে যদি হঠাৎ ওই পায়ে একদম ভর দিতেই না পারে, তাহলে সেটা সেদিনের জরুরি ব্যাপার বলে ধরুন। দেখানোর আগে পর্যন্ত পায়ে ভর দেওয়া বন্ধ রাখুন। একজন ঢাকাতে শিশু অর্থোপেডিক সার্জন কোমর পরীক্ষা করে, প্রয়োজনে ছবি তোলার ব্যবস্থা করে বুঝিয়ে বলতে পারবেন, ভেতরে ঠিক কী ঘটছে।

197 available specialists found

ডা. এ কে এম শাহজাহান

Qualifications এমবিবিএস, বিসিএস, ডি-অর্থো, এমএস (অর্থোপেডিকস)
অবস্থান সাভার, ঢাকা

ডা. আতিকুল রহমান খান

Qualifications এমবিবিএস, ডি-অর্থো
অবস্থান সাভার, ঢাকা

ডা. মোঃ নুরুল আলম

Qualifications এমবিবিএস, ডি-অর্থো, এমএস (নিটোর)
অবস্থান সাভার, ঢাকা

ডা. মুহাম্মদ সাঈদ মাহমুদ (তমাল)

Qualifications এমবিবিএস (এমএমসি), এমএস (অর্থোপেডিক সার্জারি) (ডিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এও ফেলো (সুইজারল্যান্ড), ফেলো অর্থো ট্রমা (থাইল্যান্ড), প্লাস্টিক সার্জারিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত (নিটোর)
অবস্থান সাভার, ঢাকা

ডা. হাবিবুর রহমান খান

Qualifications এমবিবিএস (এসএসএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (অর্থো)
অবস্থান লালবাগ, ঢাকা

ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম

Qualifications এমবিবিএস, বিসিএস, এফসিপিএস (অর্থোপেডিক্স), এমএস (অর্থোপেডিক্স)
অবস্থান লালবাগ, ঢাকা

ডা. তানভীর হাসান সিদ্দিক

Qualifications এমবিবিএস, বিসিএস, এফএসিএস, এমএস
অবস্থান Malibagh, ঢাকা

ডা. ওয়ায়েজ মাহবুব (সানিল)

Qualifications এমবিবিএস (এসএসএমসি), এমএস (অর্থোপেডিক সার্জারি) - বিএসএমএমইউ
অবস্থান Malibagh, ঢাকা

ডা. মো. মতিউর রহমান

Qualifications এমবিবিএস (ঢাকা), ডি.অর্থো. (ঢাবি)
অবস্থান Malibagh, ঢাকা

সহকারী অধ্যাপক ডা. আহমেদ হোসেন সিদ্দিকী (টিটু)

Qualifications এমবিবিএস (এসএসএমসি), ডি-অর্থো (নিটোর), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (ফাইনাল পার্ট)
অবস্থান Malibagh, ঢাকা

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন

Qualifications এমবিবিএস (ডিএমসি), এমপিএইচ (বিএসএমএমইউ), এমএস (অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা সার্জারি)
অবস্থান Malibagh, ঢাকা

গ্রোথ প্লেট কেন এত নাজুক জায়গা

ঊরুর হাড়ের ওপরের বলটিকে ফিমোরাল হেড বলা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি হাড়ের সঙ্গে শক্তভাবে একাকার। কিন্তু শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে বলটি গ্রোথ প্লেট দিয়ে হাড় থেকে আলাদা থাকে, আর এই প্লেট চারপাশের হাড়ের চেয়ে নরম।

শিশু যখন দাঁড়ায় বা হাঁটে, শরীরের প্রায় পুরো ভরটাই এই প্লেটের ওপর দিয়ে যায়। দ্রুত লম্বা হওয়ার সময় প্লেট বলটিকে ঠিকভাবে ধরে রাখতে হিমশিম খেতে পারে। শরীরের ওজন বেশি হলে চাপ আরও বাড়ে। প্লেট দুর্বল হলেই বলটি জায়গা থেকে সামান্য সরে যায়, অথচ পায়ের বাকি অংশ আগের জায়গাতেই থাকে।

ডাক্তার যা যা দেখেন

পরীক্ষা শুরু হয় হাঁটা দেখা দিয়ে। তারপর ডাক্তার দুই পাশের কোমর আলতো করে নাড়িয়ে মিলিয়ে দেখেন। যে কোমরটি ভেতরের দিকে অন্যটির মতো ঘোরে না, সেটাই একটা বড় সূত্র।

সাধারণত দুই কোমরেরই এক্স-রে করা হয়। দুই পাশ মিলিয়ে দেখা দরকার, আর ব্যথা না থাকলেও অন্য কোমরটি পরীক্ষা করা হয়। কখনো রক্ত পরীক্ষাও যোগ হয়। ডাক্তার বৃদ্ধি, ওজনের বদল বা পুরনো কোনো অসুখের কথাও জানতে চাইতে পারেন।

চিকিৎসার লক্ষ্য কী থাকে

প্রথম লক্ষ্য একটাই: বলটি যেন আর না সরে। সাধারণভাবে বললে, এই সমস্যার অপারেশনে বলটিকে গ্রোথ প্লেটের ওপর স্থির করে ধরে রাখা হয়। ফলে প্লেট পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তা আর নড়তে পারে না। কোনো সিদ্ধান্তের আগে সার্জন আপনার শিশুর ক্ষেত্রে ঠিক কী করা হবে, তা বুঝিয়ে বলবেন।

ডাক্তার দেখানোর আগ পর্যন্ত বিশ্রামের পরামর্শ থাকতে পারে। দৌড়ঝাঁপ, লাফ বা খেলাধুলা ওই পা দিয়ে একদমই নয়। আপনার শিশুর ক্ষেত্রে পায়ে ভর দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে কিনা, আপনার ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করুন।

সেরে ওঠা আর পরের দেখাগুলো

ফলো-আপে দেখা হয় কোমরটা কেমন সারছে, গ্রোথ প্লেট বন্ধ হচ্ছে কিনা। অন্য কোমরটাও নজরে থাকে, কারণ একই বৃদ্ধির সময়ে দ্বিতীয় পাশেও একই সরে যাওয়া ঘটতে পারে। কোন পর্যায়ে কতটা নড়াচড়া নিরাপদ, প্রতিবারই তা বলে দেওয়া হবে।

ওজন, বৃদ্ধি বা বিকাশ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন থাকলে একজন ঢাকাতে শিশু বিশেষজ্ঞও একই দলের অংশ হয়ে আপনার শিশুকে দেখতে পারেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ছেলে বলছে হাঁটুতে ব্যথা। তাহলে ডাক্তার কোমর দেখছেন কেন?

শিশুদের কোমরের সমস্যায় ব্যথা অনেক সময় হাঁটুতে অনুভূত হয়, কারণ দুই জায়গার স্নায়ুর পথ কাছাকাছি। হাঁটু স্বাভাবিক দেখালেও শিশু খোঁড়ালে কোমর ভালো করে পরীক্ষা করার এটাই পরিচিত কারণ।

কত দ্রুত দেখাতে হবে?

দেরি না করে। হাঁটতে পারলেও সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেখান। আর হঠাৎ পায়ে ভর দিতে না পারলে সেটা সেদিনই দেখানোর মতো জরুরি ব্যাপার।

দেখানোর আগ পর্যন্ত সে কি হাঁটতে পারবে?

যতটা সম্ভব পায়ে ভর কম রাখুন। দৌড়, লাফ আর খেলাধুলা চলবে না। হাঁটলে ব্যথা বাড়লে বা খোঁড়ানো বেশি হলে ব্যাপারটা জরুরি বলে ধরে নিন।

অপারেশনে আসলে কী করা হয়?

সাধারণভাবে, বলটিকে গ্রোথ প্লেটের ওপর স্থির করে রাখা হয়, যাতে বৃদ্ধি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরে যাওয়া আর বাড়তে না পারে। বিস্তারিতটা আপনার শিশুর ক্ষেত্রে সার্জনই বুঝিয়ে বলবেন।

অন্য কোমরটাও কি পরীক্ষা করা হবে?

হ্যাঁ। সাধারণত দুই কোমরেরই ছবি নেওয়া হয়, ব্যথাহীন পাশটাও ফলো-আপে রাখা হয়। একই দ্রুত বৃদ্ধির সময়ে অন্য পাশেও সরে যাওয়া দেখা দিতে পারে।

এরপর সে কি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবে?

তা নির্ভর করে চিকিৎসার আগে বলটি কতটা সরে গিয়েছিল, আর কোমরটা কীভাবে সারছে তার ওপর। সেরে ওঠাটা ধাপে ধাপে দেখা হয়, প্রতিটি দেখায় অগ্রগতি নিয়ে দল আপনাকে খোলাখুলি জানাবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.