সেরা শিশু অর্থোপেডিক সার্জন - কুমিল্লা
কোমর নাড়াতে গিয়ে ডাক্তার একটু থামলেন
আপনার শিশুর বয়স কয়েক মাস। টেবিলে নতুন ন্যাপি পরে শুয়ে আছে সে। নিয়মিত চেকআপে ডাক্তার যেমন করেন, আলতো হাতে তার পা দুটো নাড়িয়ে দেখছেন। তারপর হঠাৎ একটু থামলেন। একপাশের কোমরটা আবার নাড়ালেন, আগের চেয়ে ধীরে।
তিনি বললেন, একপাশের কোমর আরেক পাশের চেয়ে একটু আলাদা লাগছে। তিনি দেখিয়ে দেওয়ার পর আপনিও খেয়াল করলেন। ঊরুর পেছনের চামড়ার ভাঁজ দুই পাশে ঠিক মিলছে না, এক পাশে ভাঁজ একটা বেশি।
এতে শিশুর কোনো কষ্ট হচ্ছে না। সে আগের মতোই লাথি মারছে, খাচ্ছে, ঘুমাচ্ছে। তবু ছোট্ট শিশুর কোমর ঠিকমতো না বসলে তা হালকাভাবে নেওয়ার নয়। কারণ এই বয়সে জয়েন্টটা এখনো গড়েই উঠছে। তাই এই সময়ে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার ওপর ডাক্তাররা এত জোর দেন।
তাই পরের ধাপটা এখনই, সে ছোট থাকতেই নিতে হয়। কুমিল্লাতে শিশু বিশেষজ্ঞ কোমরের সঠিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করে বুঝিয়ে বলতে পারবেন, এই পাওয়াটার মানে কী হতে পারে। এই সপ্তাহেই পরীক্ষা দরকার, নাকি পরের ভিজিট পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায়, তা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
17 available specialists found
Prof. Dr. Md. Safiqur Rahman Patwary
Prof. Dr. Md. Anowarul Azim
Prof. Dr. Syed Anwaruzzaman
Dr. Ashraful Matin Sagor
Dr. Liton Kumar Roy
Prof. Dr. Md. Abdul Hoque
Dr. Sheikh Abdullah Al Rafi
Dr. Md. Mahfuzur Rahaman (Badol)
Prof. Dr. A.B.M. Mostafa
শিশুর কোমরের জয়েন্ট যেভাবে গড়ে ওঠার কথা
কোমরের জয়েন্টটা অনেকটা একটা বল আর তার খাঁজের মতো। ঊরুর হাড়ের ওপরের গোল অংশটা, অর্থাৎ বলটা, পেলভিসের কাপ-আকৃতির খাঁজের গভীরে বসে থাকার কথা। নবজাতকের ক্ষেত্রে এই জয়েন্টের অনেকটাই তখনো নরম তরুণাস্থি, শক্ত হাড় হয়ে ওঠেনি।
শিশু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাঁজটাও গভীর হতে থাকে। বলটা খাঁজের ঠিক মাঝখানে বসে থাকলেই খাঁজ সবচেয়ে ভালোভাবে গভীর হয়। কিছু শিশুর খাঁজ প্রয়োজনের তুলনায় অগভীর থাকে, ফলে বলটা ঢিলেঢালাভাবে বসে বা কিছুটা বাইরে সরে থাকে। ডাক্তারি ভাষায় একে ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অব দ্য হিপ বলে।
প্রথম মাসগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ কেন
ছোট্ট শিশুর কোমর নরম, জয়েন্টটা তখনো আকৃতি নিচ্ছে। এই সময়ে ধরা পড়লে সমস্যাটা অনেক সময় সহজে ঠিক পথে আনা যায়। হাঁটা শুরু হয়ে যাওয়ার পর ধরা পড়লে ব্যাপারটা জটিল হতে পারে।
প্রথম ধাপে সাধারণত একটা নরম হার্নেস ব্যবহার হয়। এটি শিশুর পা এমনভাবে ধরে রাখে, যাতে বলটা খাঁজের মাঝখানেই থাকে। এর ভেতরেও সে পা নাড়াতে আর লাথি মারতে পারে। পরের সপ্তাহগুলোতে খাঁজটা ধীরে ধীরে বলের চারদিকে গড়ে ওঠে।
হার্নেস পরা অবস্থায় প্রতিদিনের জীবন
হার্নেসের নকশা অনুযায়ী এটি পোশাকের ওপরে বা নিচে পরানো হয়, আর দিনের বেশিরভাগ সময়ই পরা থাকে। ন্যাপি বদলানো হয় হার্নেস না খুলেই, তার নিচ দিয়ে। ফিতার নিচের চামড়ায় লালচে ভাব আছে কিনা, তা দেখার নিয়মটাও আপনাকে শিখিয়ে দেওয়া হবে।
প্রতিটি চেকে শিশুর বাড় অনুযায়ী হার্নেসের ফিট ঠিক করে দেওয়া হয়। হার্নেস সরে গেলে বা ঘষা লাগলে ডাক্তারের দলকে জানান। এক পা আরেক পায়ের চেয়ে অনেক কম নড়লেও জানাতে হবে।
কোমরের আল্ট্রাসাউন্ড ছবি
ছোট্ট শিশুর কোমরের বেশিরভাগ অংশই তরুণাস্থি, আর সাধারণ এক্স-রেতে তরুণাস্থি ভালো দেখা যায় না। তাই ডাক্তার আল্ট্রাসাউন্ড করে দেখেন, বলটা খাঁজের ভেতর ঠিক কোথায় বসে আছে। এতে কোনো ব্যথা নেই, আর পুরো সময়টা আপনি শিশুর পাশেই থাকতে পারবেন।
ফলো-আপে মূলত দুটো জিনিস দেখা হয়। বলটা মাঝখানে আছে কিনা, আর শিশু বাড়ার সঙ্গে খাঁজটা গভীর হচ্ছে কিনা। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে শুধু নজরদারিই যথেষ্ট। কারও ক্ষেত্রে কিছুদিন হার্নেস চলে, আর প্রতিটি ভিজিটে পরিকল্পনাটা আবার যাচাই করা হয়। শিশুর নড়াচড়া বা বিকাশ নিয়ে অন্য কোনো প্রশ্ন উঠলে কুমিল্লাতে শিশু নিউরোলজিস্ট-এর পরামর্শও লাগতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অব দ্য হিপ আসলে কী?
এর মানে কোমরের খাঁজটা যথেষ্ট গভীর হয়ে গড়ে ওঠেনি। ফলে ঊরুর হাড়ের ওপরের বলটা খাঁজের ভেতর শক্তভাবে বসতে পারে না।
শিশু তো একদম ভালো আছে। তাহলে এটা নিয়ে ভাবনা কেন?
ঢিলে কোমরে শিশুর এখন সাধারণত কোনো কষ্ট হয় না। ভাবনাটা অন্য জায়গায়। এই মাসগুলোতেই খাঁজ বলের চারদিকে আকৃতি নেয়, বল মাঝখানে না থাকলে খাঁজ অগভীরই থেকে যেতে পারে।
হার্নেস পরলে শিশুর কষ্ট হবে?
বেশিরভাগ শিশু অল্প সময়েই এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এটি পা দুটো ছড়িয়ে রাখার মতো একটা ভঙ্গি ধরে রাখে, চেপে ধরে না। চামড়ায় লালচে ভাব বা অস্বাভাবিক কান্না দেখলে চেকের সময় জানান।
হার্নেস পরা অবস্থায় ন্যাপি বদলাব কীভাবে?
ন্যাপি হার্নেসের ফিতার নিচ দিয়ে পরানো ও বদলানো যায়, খোলার দরকার হয় না। লাগানোর দিনই নিয়মটা দেখিয়ে দেওয়া হবে, কয়েক দিনেই তা আপনার কাছে সহজ হয়ে যাবে।
ফলো-আপ ভিজিটে কী হয়?
ডাক্তার হাতে কোমর পরীক্ষা করেন, শিশু বাড়ার সঙ্গে হার্নেসের ফিট মিলিয়ে দেন, দরকার হলে আবার আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়। প্রতিটি ভিজিটে নিশ্চিত করা হয় বল মাঝখানে আছে আর খাঁজ গভীর হচ্ছে।
আমার শিশুর কি হার্নেস লাগবেই?
সবসময় নয়। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে নিয়মিত চেকে শুধু নজর রাখলেই চলে। আল্ট্রাসাউন্ডে আপনার শিশুর কোমর এমন দেখাচ্ছে কিনা, যাতে এখনই হার্নেস দরকার, নাকি নিরাপদে দেখে যাওয়া যায়, তা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.