সেরা শিশু অর্থোপেডিক সার্জন - বরিশাল

সাত দিন ধরে খুঁড়িয়ে হাঁটছে, অথচ পড়ে যাওয়ার কথা কেউ মনে করতে পারছে না

আপনার সাত বছরের মেয়েটা কোনো কোনো সকালে ঠিকঠাক হেঁটে স্কুলে যায়। আবার কোনোদিন দেখেন, এক পা সামান্য টেনে টেনে হাঁটছে। সপ্তাহখানেক ধরে এমন চলছে। জিজ্ঞেস করলেই বলে, পড়িনি, কেউ ধাক্কাও দেয়নি।

ব্যথাটা কোথায়, সেটা শুনলেই আরও গুলিয়ে যায়। মেয়ে দেখায় হাঁটু। অথচ হাঁটুতে ফোলা নেই, কালশিটে দাগ নেই, দেখতে একদম স্বাভাবিক। তবু খোঁড়ানো ভাবটা ফিরে আসে। সকালে বেশি থাকে, বেলা বাড়লে একটু কমে।

এই জায়গায় অনেক বাবা-মা অপেক্ষা করে ফেলেন। আঘাত লাগেনি, জ্বরও নেই, হয়তো ঘুমের মধ্যে পা মোচড়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের বেশি টিকে থাকা খোঁড়ানো হাঁটার একটা কারণ খুঁজে বের করা দরকার। কোমরের জয়েন্টের সমস্যা অনেক সময় হাঁটুর ব্যথা হিসেবে ধরা দেয়, আর সবাই হাঁটু নিয়েই ব্যস্ত থাকায় আসল জায়গাটা চোখে পড়ে না।

বরিশালে শিশু অর্থোপেডিক সার্জন শিশুর হাঁটার ধরন দেখেন, কোমরের জয়েন্ট সবদিকে ঘুরিয়ে পরীক্ষা করেন, আর পুরো ঘটনাটা মন দিয়ে শোনেন। সেই প্রথম পরীক্ষা থেকেই অনেক সময় আসল সূত্র বেরিয়ে আসে।

5 available specialists found

অধ্যাপক ডাঃ আজিজ রহিম

Qualifications এমবিবিএস, এমএস (অর্থো)
অবস্থান Kotwali Sadar, বরিশাল

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ ফজলে রাব্বি খান

Qualifications এমবিবিএস, এমএস (অর্থোপেডিক্স)
অবস্থান Kotwali Sadar, বরিশাল

ডাঃ মীর শহীদুল হাসান শাহীন

Qualifications এমবিবিএস, এমএস (অর্থোপেডিক্স)
অবস্থান Kotwali Sadar, বরিশাল

Dr. Md. Shihab Uddin

Qualifications MBBS (Dhaka), D-Ortho (BSMMU), MS (Ortho Surgery), and FWHO (Thailand)
অবস্থান বগুড়া সদর, বগুড়া

কোমরের সমস্যা কেন হাঁটুর ব্যথা হয়ে ধরা দেয়

কোমর আর হাঁটুর স্নায়ুপথ কাছাকাছি। কোমরের জয়েন্টে কোনো অসুবিধা হলে ছোট শিশুরা ব্যথাটা অনেক সময় নিচে, হাঁটুর দিকে অনুভব করে। এটা অনেক পরিচিত একটা ধাঁধা। তখন হাঁটু পরীক্ষা হয়, মালিশ হয়, অথচ সমস্যা থেকে যায় উপরে।

মেয়ে হাঁটুর কথা বললেও হাঁটু দেখতে ও নাড়াতে স্বাভাবিক হলে অভিজ্ঞ ডাক্তার কোমরের দিকেই মন দেন। হাঁটার ধরন দেখাটা পরীক্ষার অংশ। দুই পাশের কোমর হালকা ঘুরিয়ে মিলিয়ে দেখাটাও তাই।

ডাক্তার যে তিনটি বিষয় খেয়াল করেন

কখনো কোমরের জয়েন্ট সাময়িকভাবে বিরক্ত হয়ে থাকে। ভাইরাল জ্বরের পর বা অস্বাভাবিক দৌড়ঝাঁপের পর জয়েন্টের আবরণে প্রদাহ হতে পারে। এমনটা বিশ্রামেই সেরে ওঠে। তবে অন্য কিছু লুকিয়ে নেই, সেটা নিশ্চিত করতে ডাক্তারের পরীক্ষা দরকার।

জয়েন্টের ভেতরে সংক্রমণ হলে ব্যাপারটা গুরুতর। তখন শিশুকে অসুস্থ দেখায়, জ্বর থাকে, আর ওই পায়ে ভর দিতে চায় না। এই তিনটা একসঙ্গে থাকলে বাড়িতে অপেক্ষা করা যায় না। সেদিনই চিকিৎসা দরকার।

আরেকটা সম্ভাবনা হলো কোমরের জয়েন্টের বলের অংশে রক্ত চলাচল কমে যাওয়া, যাকে পারথেস রোগ বলা হয়। রক্ত কম পৌঁছালে বলটা নরম হয়ে যেতে পারে, সময়ের সঙ্গে আকারও বদলাতে পারে। ডাক্তার পরীক্ষা করে, সাধারণত পেলভিসের এক্সরে দিয়ে বিষয়টা যাচাই করেন।

মালিশ আর অপেক্ষা কেন উল্টো ফল দিতে পারে

দাদা-দাদিরা ভালোবেসেই গরম তেল মালিশ করতে বলেন। অনেক খোঁড়ানো হাঁটাই সত্যিই নিজে নিজে সেরে যায়। ঝুঁকি হলো, অপেক্ষার ওই সপ্তাহগুলোতে যা মিস হয়ে যায়। সংক্রমণ হলে জয়েন্টের ক্ষতি তাড়াতাড়ি বাড়তে পারে। বল নরম হয়ে থাকলে মালিশের আশায় বসে থাকলে আকার বদলে যেতে পারে।

প্রতিটা খোঁড়ানো নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও দরকার নেই। হোঁচট খেয়ে পড়ার পরের খোঁড়ানো, শিশু এমনিতে ভালো থাকলে, দিন দুয়েকে কমে আসে। কিন্তু কারণ ছাড়া খোঁড়ানো, বারবার ফিরে আসা খোঁড়ানো, কিংবা জ্বরসহ খোঁড়ানো হলে হাঁটুতে তেল নয়, কোমরে ডাক্তারের পরীক্ষা দরকার।

ডাক্তারের কাছে গেলে যা যা হবে

ডাক্তার জানতে চাইবেন খোঁড়ানো কবে শুরু, সকালে বেশি থাকে কিনা, এর মধ্যে জ্বর বা অন্য অসুখ হয়েছিল কিনা। তারপর শিশুকে ঘরজুড়ে হাঁটতে বলা হতে পারে। হাঁটার ধরন দেখে ডাক্তার অনেক কিছু বুঝতে পারেন।

পরীক্ষার পর ডাক্তার এক্সরে বা রক্তের পরীক্ষা দিতে পারেন। অথবা বলতে পারেন কয়েক দিন দেখে নির্দিষ্ট দিনে আবার আসতে। কোমরের কোনো সমস্যায় দীর্ঘ ফলো-আপ বা অন্য চিকিৎসা লাগলে ধাপে ধাপে বুঝিয়ে বলবেন। খোঁড়ানোর পাশাপাশি শিশুর সার্বিক বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বরিশালে শিশু বিশেষজ্ঞও এই যত্নের অংশ হতে পারেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

শিশু ব্যথা নেই বলছে, তবু খুঁড়িয়ে হাঁটছে। ডাক্তার দেখাব?

কয়েক দিনের বেশি থাকলে দেখান। ছোটরা ব্যথার জায়গা সবসময় ঠিক করে বলতে পারে না। ব্যথাহীন মনে হওয়া খোঁড়ানোর পেছনেও কোমরের সমস্যা থাকতে পারে।

হাঁটুতে ব্যথা, তাহলে ডাক্তার কোমর পরীক্ষা করেন কেন?

কোমর ও হাঁটুর স্নায়ুপথ কাছাকাছি বলে কোমরের সমস্যা হাঁটুতে অনুভূত হয়। হাঁটু স্বাভাবিক পাওয়া গেলেও খোঁড়ানো থেকে গেলে ডাক্তার উপরের দিকে তাকান।

জ্বর আছে আর পায়ে ভর দিচ্ছে না। কী করব?

সেদিনই যান। জ্বর আর ভর দিতে না পারা একসঙ্গে থাকলে জয়েন্টে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে, সেটার মূল্যায়ন জরুরি।

পারথেস রোগ কি খুব সাধারণ?

ডাক্তার যে কয়েকটা সম্ভাবনা খেয়াল করেন, এটা তার একটা। সব শিশুর ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে সম্ভাব্য নয়। পরীক্ষা আর সাধারণত এক্সরে দিয়ে ডাক্তার নিশ্চিত হন।

অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষায় পায়ে মালিশ করা যাবে?

হালকা যত্নে সমস্যা নেই, কিন্তু মালিশে কোমরের সমস্যা সারে না। খোঁড়ানো বাড়লে, জ্বর এলে বা ভর দেওয়া বন্ধ হলে অপেক্ষা না করে আগেই যান।

আমার শিশুর কি অপারেশন লাগবে?

খোঁড়ানোর অনেক কারণ বিশ্রাম আর নজরদারিতেই সেরে যায়। কিছু কোমরের সমস্যায় অন্য চিকিৎসা লাগতে পারে। আপনার ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করুন, পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে তাতে নজরদারি যথেষ্ট নাকি আরও কিছু ভাবতে হবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.