সেরা শিশু নিউরোসার্জন - ঢাকা
সকালে ঘুম থেকে উঠলেই মাথাব্যথা, বারবার
আপনার ছেলে আগে সকালে উঠেই নাশতার টেবিলে ছুটে আসত। এখন সপ্তাহে দুই তিন সকালে সে মাথা ধরে ঘুম থেকে ওঠে। মাঝে মাঝে বমি হয়, তারপর একটু ভালো লাগে। দুপুরের দিকে প্রায়ই সে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
স্কুল থেকেও বদলের খবর এসেছে। হাতের লেখা এলোমেলো হয়ে গেছে। শিক্ষক বলছেন, ক্লাসে তার মনোযোগ থাকে না, নম্বরও কমেছে। গতকাল সে বলল, বোর্ডের লেখা ঝাপসা দেখাচ্ছে।
শিশুদের বেশিরভাগ মাথাব্যথাই ভয়ের নয়। কিন্তু এই ধরনটা আলাদা। যেসব মাথাব্যথা বারবার ফিরে আসে, ভোরে হয়, সঙ্গে বমি থাকে, আর সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়তে থাকে, সেগুলো সতর্কতার লক্ষণ। চোখে দেখার বদল, আচরণের বদল বা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়াও একই উদ্বেগ বাড়ায়।
এই ধরন সাধারণত ধাপে ধাপে এগোয়। প্রথমে পুরো শারীরিক পরীক্ষা। তারপর প্রায়ই মাথার ইমেজিং বা স্ক্যান। কখনো কখনো মতামতের জন্য একজন শিশু নিউরোসার্জনকেও দেখানো হয়। ঢাকায় শিশু নিউরোসার্জন দেখানো মানেই অপারেশন ঠিক হয়ে গেছে, তা নয়। মানে হলো সঠিক বিশেষজ্ঞ একই স্ক্যান দেখে মত দিচ্ছেন।
15 available specialists found
ডা. আব্দুস সালাম
ডা. ফারহাদ আহমেদ
ডা. আতিকুর রহমান রিমেল
ডা. হোজাইফা আহমদ
ডা. মুস্তাফিজুর রহমান
প্রফেসর ডা. মো. মশিউর রহমান মজুমদার
ডা. এফ. এইচ. চৌধুরী (ফরহাদ)
ডাঃ মো. রবিউল হক
ডা. মো. রফিকুল ইসলাম
ডা. সৈয়দ শাহরিয়ার রাজ্জাক
ডা. মো. ওমর ফারুক
একটা মাথাব্যথা নয়, পুরো ধরনটাই আসল
একটা মাথাব্যথা এককভাবে সাধারণত তেমন কিছু বোঝায় না। জ্বর, চোখের ক্লান্তি বা ঘুম কম হলেই শিশুদের মাথা ধরে। ডাক্তাররা তার বদলে সময়ের সঙ্গে ধরনটা দেখেন।
দুশ্চিন্তার ধরনটার একটা আকার আছে। মাথাব্যথা ঘুম থেকে ওঠার সময় থাকে, কখনো ঘুম ভাঙিয়েও দেয়। সঙ্গে বমি হয়, প্রায়ই সকালে। সপ্তাহে সপ্তাহে ব্যথা কমার বদলে বাড়ে বা ঘন ঘন হয়।
চোখে দেখার বদলও একই ছবির অংশ: ঝাপসা দেখা, একটা জিনিস দুটো দেখা। আচরণ, ভারসাম্য বা পড়াশোনার বদলও তাই। একটা লক্ষণ একা থাকলে তা নির্দোষ হতেই পারে। কিন্তু সবগুলো একসঙ্গে মিললে তা কোনো ডাক্তারই পরীক্ষা না করে ছাড়তে চান না।
ব্রেন টিউমার আসলে কী
শব্দটা শুনলেই সব বাবা-মা ভয় পান। তাই সহজ করে বলা যাক। ব্রেন টিউমার হলো মাথার খুলির ভেতরে একটা বৃদ্ধি বা পিণ্ড, যেখানে কোষ বেড়েছে ঠিক সেখানে, যেখানে বাড়ার কথা ছিল না। কয়েকটা ধীরে বাড়ে। কয়েকটা দ্রুত বাড়ে।
শুধু মাথাব্যথার লক্ষণ দেখে কেউ বলতে পারে না ভেতরে এমন কিছু আছে কিনা, থাকলেও তা কী ধরনের। ডাক্তাররা তা বোঝেন স্ক্যান দেখে, আর প্রয়োজনে টিস্যুর পরীক্ষা করে। সতর্কতার লক্ষণ থাকা অনেক শিশুর মাথাব্যথার পেছনে শেষ পর্যন্ত অন্য কারণ পাওয়া যায়।
সেজন্যই ধাপগুলো এভাবে সাজানো। আগে পরীক্ষা। তারপর স্ক্যান। তারপরই বিশেষজ্ঞরা স্ক্যানে যা দেখা যাচ্ছে তা নিয়ে কথা বলেন। ঢাকায় শিশু নিউরোলজিস্ট প্রায়ই সার্জনের পাশাপাশি এই ধাপগুলোতে যুক্ত থাকেন।
ডাক্তার দেখানোর আগে যা লিখে রাখবেন
আজ থেকেই একটা সাধারণ মাথাব্যথার ডায়েরি রাখুন। প্রতিটি ব্যথার তারিখ ও সময় লিখুন। শিশুকে ব্যথা ঘুম থেকে জাগিয়েছিল কিনা, বমি হয়েছিল কিনা, তাও লিখুন। কীসে আরাম পেল আর ব্যথা কতক্ষণ ছিল, সেটাও টুকে রাখুন।
চোখে দেখার বদল যেদিন খেয়াল করবেন, সেদিনই লিখুন। পরে স্মৃতি থেকে লিখতে গেলে ভুল হয়। স্কুলের বদলও একইভাবে লিখুন: নম্বর কমা, লেখা এলোমেলো হওয়া, শিক্ষকের মন্তব্য।
ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, এখনই স্ক্যান দরকার কিনা, আর কত তাড়াতাড়ি। নির্বাচিত হাসপাতালে নিশ্চিত হয়ে নিন, ডাক্তার যে স্ক্যান চাইছেন তা সেখানে হয় কিনা। ধরনটা মাথার ভেতরে চাপ বাড়ার দিকে ইশারা করলে উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
মাথাব্যথা আছে, কিন্তু বমি নেই। তবু কি দুশ্চিন্তা করব?
যে মাথাব্যথার ধরন বারবার ফিরে আসে বা বাড়তে থাকে, তা দেখানো উচিত। বমি একটা সতর্কতার লক্ষণ, বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। ডায়েরিটা যেভাবেই হোক সঙ্গে নিন।
সকালের মাথাব্যথা মানেই কি টিউমার?
না। সকালের মাথাব্যথার নানা কারণ থাকতে পারে, বেশিরভাগই টিউমার নয়। এই ধরনটা পরীক্ষা আর স্ক্যানের কারণ, কোনো রোগের সিদ্ধান্ত নয়।
ডাক্তার কোন স্ক্যান করতে বলবেন?
সাধারণত মাথার MRI, কারণ এতে রেডিয়েশন ছাড়াই মস্তিষ্ক বিস্তারিত দেখা যায়। আপনার শিশুর জন্য কোন স্ক্যান ঠিক হবে, ডাক্তার বুঝিয়ে বলবেন।
অপারেশন ঠিক হওয়ার আগেই নিউরোসার্জন কেন?
মস্তিষ্কের সার্জনরা প্রতিদিন এমন স্ক্যান দেখেন। অপারেশন আদৌ লাগবে কিনা, লাগলে সবচেয়ে নিরাপদ পরিকল্পনা কী, তা ঠিক করতে তাঁদের মতামত সাহায্য করে।
কখন সেদিনই সাহায্য নিতে হবে?
মাথাব্যথা হঠাৎ শিশুর জীবনের সবচেয়ে তীব্র হলে, বারবার বমি হলে, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, দুর্বলতা বা খিঁচুনি হলে। সেক্ষেত্রে অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা করবেন না।
পড়াশোনার সমস্যাও কি এর অংশ হতে পারে?
হ্যাঁ। মনোযোগ কমা, হাতের লেখা এলোমেলো হওয়া আর নম্বর পিছিয়ে যাওয়া চোখের বদল বা চাপের প্রভাব হতে পারে। সবসময় এগুলো ডাক্তারকে বলুন। শিক্ষকরাই প্রায়ই প্রথম খেয়াল করেন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.