সেরা শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ - রাজশাহী
জ্বর নেই, তবু হঠাৎ খিঁচুনি
ছেলে বারান্দায় খেলছিল, বোনের কথা শুনে হাসছিল। এক মিনিট পরেই সে মেঝেতে পড়ে আছে। সারা শরীর শক্ত হয়ে গেল, তারপর কাঁপুনি শুরু হলো। জ্বর ছিল না। সকালে সে ভালো করে খেয়েছে। দিনটা অস্বাভাবিকও ছিল না।
কাঁপুনি থামলে সে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘণ্টাখানেক পরে ভাত চাইল, টেলিভিশনের দিকে আঙুল তুলে দেখাল। যেন প্রায় আগের মতোই। মন চাইবে ব্যাপারটা ভুলে যেতে। চাইলেও ভুলবেন না।
আপনি নিজে চোখে দেখেছেন বলেই আপনার বর্ণনাটাই প্রথম ধাপ। ভয়ের মুহূর্তে অনেক কিছুই চোখে পড়ে না, সেটা স্বাভাবিক। তবু যা মনে আছে, সেটাই অনেক কাজের।
জ্বর ছাড়া খিঁচুনি আর জ্বরের সঙ্গে হওয়া খিঁচুনি এক জিনিস নয়। পাশে কোনো স্পষ্ট কারণ দেখা যায় না। তাই ডাক্তাররা এটাকে গুরুত্ব দেন, শিশু পুরো সেরে উঠলেও।
শিশু নিউরোলজিস্ট ওই কয়েক মিনিটের পুরো গল্পটা ধীরে ধীরে শুনতে চাইবেন। কী দেখলেন, কোনটার পর কোনটা হলো, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাজশাহীতে ডাক্তারদের তালিকা থেকে একজনকে খুঁজে নিন। খুঁটিনাটিগুলো তাজা থাকতে থাকতেই লিখে রাখুন। প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই দেখিয়ে নেওয়া ভালো।
14 available specialists found
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এ. বি. এম. মাহবুবুল হক (লেমন)
সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মুহাতারিমা তাবাসসুম নিপু
অধ্যাপক ডাঃ মো. মুনজুর আলাহী
Prof. Dr. Md. Abdus Sobhan
Prof. Dr. Abdullah Al Mamun Hussain
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মুকুল কুমার সরকার
Dr. Reza Nasim Ahmed Roni
Dr. Raseul Kabir Palash
Dr. S. M. Imdadul Haque
Dr. Md. Emdadul Haque
Dr. Prosad Kumar Sarker
জ্বরের খিঁচুনির সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়
জ্বরের খিঁচুনি আসে তাপমাত্রা নিয়ে। শিশুর শরীর তখন কোনো অসুখের সঙ্গে লড়ছে। খিঁচুনিটা সেই ঝড়েরই অংশ। এই ধরনটা ডাক্তারদের চেনা।
আপনার শিশুর খিঁচুনির পাশে কোনো জ্বর ছিল না। আগে সে সুস্থ ছিল, পরেও সুস্থ। কোনো কারণ আঙুল দিয়ে দেখানো যায় না বলেই ডাক্তারকে আরও বিস্তারিতভাবে দেখতে হয়। বিকাশ, আগের স্বাস্থ্য, পরিবারের ইতিহাস, আর মস্তিষ্কের কাজ।
এই বিস্তারিত দেখা মানে ভয়ের কিছু নয়। অনেক শিশুর প্রথম খিঁচুনি আর ফিরে আসে না। আবার কারও ক্ষেত্রে এটাই প্রথম ইঙ্গিত যে নিয়মিত ফলো-আপ দরকার।
শিশু এখন ভালো, তবু পুরো পর্যালোচনা কেন
ঘণ্টাখানেক পর শিশু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া সত্যিই ভালো খবর। কিন্তু তাতে প্রশ্নটা শেষ হয় না। পর্যালোচনা ওই এক ঘণ্টা নিয়ে নয়। খিঁচুনিটা কেন হলো, সেটাই আসল প্রশ্ন।
ডাক্তার জানতে চাইবেন, শিশু শেষ কবে ভালো ঘুমিয়েছে। বাড়িতে সম্প্রতি কারও অসুখ হয়েছিল কিনা, তাও জরুরি। এক রাতের কম ঘুম কিংবা নীরবে পেরিয়ে যাওয়া ভাইরাসও পেছনে থাকতে পারে।
পরীক্ষা আসে ইতিহাস আর শারীরিক পরীক্ষার পরে। অনেক শিশুর EEG করা হয়। এতে মাথার ত্বকে ছোট সেন্সর বসিয়ে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ধারণ করা হয়। কখনো রক্ত পরীক্ষাও করা হয়, লবণ আর চিনির মাত্রা দেখার জন্য। কোন পরীক্ষা আপনার শিশুর লাগবে কিনা, ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করুন।
আজ থেকেই যা লিখে রাখবেন
খিঁচুনি শুরুর তারিখ আর সময় লিখুন। কাঁপুনি কতক্ষণ ছিল, যতটা সৎভাবে পারেন লিখুন। ভয়ের মুহূর্তে কেউ ঘড়ি দেখে হিসাব রাখতে পারে না। মোটামুটি হিসাবই যথেষ্ট।
সারা শরীর কেঁপেছিল, নাকি একপাশ বেশি, তাও লিখুন। সেরে ওঠার বর্ণনাও দিন। কতক্ষণ ঘুমিয়েছে সে? পরে কথা ধীর ছিল কিনা, কিংবা একটা হাত-পা কিছুক্ষণ দুর্বল ছিল কিনা?
আগের দিনগুলোর কথাও যোগ করুন: ঘুম, খাওয়া, কোনো জ্বর, নতুন ওষুধ, পড়ে যাওয়া বা মাথায় আঘাত। নোটটা সঙ্গে নিয়ে যান। আপনার শিশুকে চেনেন এমন রাজশাহীতে শিশু বিশেষজ্ঞ নিয়মিত ভিজিটে একই রেকর্ড ধরে রাখতে পারবেন।
আবার হলে প্রাথমিক করণীয়
কাছে থাকুন আর ঘড়ি দেখুন। শিশুকে নরম জায়গায় একপাশ করে শুইয়ে দিন। শক্ত জিনিসপত্র সরিয়ে দিন, গলার কাছের আঁটসাঁট কিছু ঢিলে করে দিন।
মুখে কিছুই ঢোকাবেন না। চামচ নয়, পানি নয়, আঙুলও নয়। শরীর চেপে ধরে থামানোর চেষ্টাও করবেন না।
কাঁপুনি পাঁচ মিনিট পেরিয়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসার সাহায্য নিন। শ্বাস নিতে কষ্ট হলেও তাই। একটার পর আরেকটা খিঁচুনি এলেও দেরি করবেন না। পরে যা দেখলেন, মনে থাকতে থাকতে লিখে রাখুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
শিশু এখন পুরোপুরি ভালো। তবু ডাক্তার দেখাতে হবে?
হ্যাঁ। পরে ভালো হয়ে যাওয়া ভালো লক্ষণ, কিন্তু খিঁচুনি কেন হলো তা এতে বোঝা যায় না। পর্যালোচনায় কারণটাই খোঁজা হয়।
এটা সত্যিই খিঁচুনি ছিল তো?
সব ঢলে পড়া বা থমকে যাওয়াই খিঁচুনি নয়। যা দেখলেন, ধাপে ধাপে বলুন। ডাক্তার আপনার বর্ণনা শুনে, আর প্রয়োজনে পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেন।
আমার শিশুর কি ব্রেন স্ক্যান লাগবে?
সবসময় লাগে না। আগে আসে ইতিহাস আর শারীরিক পরীক্ষা। ফলাফল সেদিকে ইশারা করলেই স্ক্যানের কথা আসে।
EEG করতে কেমন লাগে?
ব্যথা লাগে না। মাথার ত্বকে ছোট সেন্সর বসে শুধু ধারণ করে। শিশুকে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে বা শুয়ে থাকতে হয়।
এমন খিঁচুনি কি আবার হতে পারে?
হতে পারে, তাই একটি পরিকল্পনা থাকা জরুরি। কী কী লক্ষণে নজর রাখবেন আর কখন আগে আসবেন, ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করুন।
আবার হলে ভিডিও করব?
নিরাপদে করা গেলে অবশ্যই করুন। নড়াচড়া আর সেরে ওঠার ছোট একটা ভিডিও ডাক্তারের খুব কাজে লাগে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.