সেরা শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ - পাবনা
শরীরের একপাশ হঠাৎ চুপ করে গেলে
গতকাল সকালের নাশতায় আপনার চার বছরের মেয়ে ডান হাত দিয়েই কাপটা ধরেছিল, যেমনটা সে সবসময় করে। আজ সে বাম হাতে ধরল। সারাদিন ধরে আপনি খেয়াল করে গেলেন। ডান হাতটা একটু ঝুলে থাকে। দরজার দিকে হাঁটার সময় ডান পা মেঝেতে ঘষে যায়। দাদির দিকে তাকিয়ে হাসলে মুখের এক কোণ প্রায় নড়েই না। মুখে খাবার তুলতে গিয়েও আজ সে বাম হাতটাই এগিয়ে দিল। আগে এমনটা কখনো হয়নি।
বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। পড়ে যাওয়া নেই, দুর্ঘটনাও নয়। তাই মনে হয়, দুদিন দেখে নিই, নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে হয়তো।
দয়া করে অপেক্ষা করবেন না। শরীরের একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা শিশুদের এমন একটি লক্ষণ, যা সেদিনই ডাক্তার দেখানো দরকার। এর মানে এই নয় যে সবচেয়ে খারাপটাই হয়েছে। মানে হলো, বদলটা নতুন থাকতেই একজন ডাক্তারের দেখা উচিত।
আপনি যাওয়ার সময় বাড়িতে যা যা খেয়াল করেছেন, সেগুলোই অনেক কাজে দেবে। পাবনায় শিশু নিউরোলজিস্ট জানতে চাইবেন, এটা কবে থেকে শুরু, আর তার আগের দিনগুলো কেমন ছিল।
5 available specialists found
Dr. Md. Rashidul Hasan
Dr. Md. Bakhtiar Azam
Dr. Md. Emdadul Haque
যেসব খুঁটিনাটি সবচেয়ে জরুরি
বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে এক মিনিট সময় নিয়ে ঘটনার ক্রমটা মনে গুছিয়ে নিন। বদলটা প্রথম কখন খেয়াল করলেন? কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এসেছে, নাকি ঘুম থেকে উঠেই এমন ছিল?
তার আগের দিনগুলোর কথা ভাবুন। সম্প্রতি কোনো অসুখ বা জ্বর হয়েছিল? কোথাও পড়ে গিয়েছিল, মাথায় আঘাত লেগেছিল, পোকা কামড়েছিল? শিশুর কথায় বদল এসেছে কিনা, বা সে আগের চেয়ে বেশি ক্লান্ত থাকে কিনা?
সম্ভব হলে লিখে রাখুন। চাপের মুহূর্তে ছোট ছোট বিবরণ মনে থেকে যায় না।
ডাক্তার যা যা পরীক্ষা করেন
পরীক্ষাটা আলতো ভঙ্গিতে হয়, দেখতে অনেকটা লক্ষ করার মতোই। ডাক্তার শরীরের দুই পাশ একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।
শিশুকে দুই হাত তুলতে বলা হতে পারে। ডাক্তারের আঙুল চেপে ধরতে, আর প্রতিটি পা দিয়ে হাত ঠেলতে বলা হতে পারে। হাসির সময় তার মুখ দেখা হয়, কথা শোনা হয়, হাঁটার ভঙ্গি লক্ষ করা হয়। ছোট রাবারের হাতুড়ি দিয়ে রিফ্লেক্স পরীক্ষা করা হয়। এসবের কোনোটাতেই ব্যথা লাগে না।
কেন সেদিনই দেখানো জরুরি
আগেভাগে পরীক্ষা করলে ছবিটা সবচেয়ে পরিষ্কার পাওয়া যায়। দুর্বলতা এখন যেমন আছে, ডাক্তার তেমনটাই দেখতে পান। কয়েকদিন পেরিয়ে গেলে সেই চেহারা ফিকে হয়ে যেতে পারে।
একপাশের দুর্বলতার কিছু কারণ নিজে নিজেই সেরে যায়। আবার কিছু কারণে চিকিৎসা আগেভাগে শুরু করলে ফল ভালো হয়। বাইরে থেকে বাবা-মায়ের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়, কোনটা কোন কারণে হচ্ছে। এটা ডাক্তারের কাজ, আর সেই কাজ শুরু হয় সেদিনই দেখানোর মাধ্যমে।
এরপর যা হতে পারে
সব শিশুর জন্য একই পরীক্ষা ঠিক থাকে না। শারীরিক পরীক্ষার ফল দেখে ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেন। আপনার শিশুর ক্ষেত্রে স্ক্যান বা রক্তপরীক্ষা লাগবে কিনা, ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করুন।
ফলো-আপ শিশুর নিয়মিত ডাক্তারের কাছেই থাকতে পারে। পাবনায় শিশু বিশেষজ্ঞ মাঝের সময়ে সুস্থ হওয়ার গতিটা লক্ষ রাখতে পারেন। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে আরও পরীক্ষার জন্য উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে। ডাক্তার যে পরীক্ষার কথা বলবেন, তা সেখানে হয় কিনা নির্বাচিত হাসপাতালে নিশ্চিত হয়ে নিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
শিশুকে তো এমনিতে ঠিকঠাকই লাগছে। দুদিন অপেক্ষা করা যায়?
অপেক্ষা করবেন না। একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা সেদিনই দেখানো উচিত। শিশু খাওয়া-দাওয়া, খেলা আর হাসিতে স্বাভাবিক থাকলেও একই কথা প্রযোজ্য।
একপাশে দুর্বলতা কেন হয়?
এর পেছনে একাধিক ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। বাইরে থেকে দেখে সেগুলো আলাদা করা যায় না। শারীরিক পরীক্ষা আর প্রয়োজনে আরও যাচাইয়ের মাধ্যমেই কারণের দিকে এগোনো যায়।
যাওয়ার আগে কী কী লিখে রাখব?
কবে থেকে শুরু, কীভাবে বদলেছে, সাম্প্রতিক অসুখ বা জ্বর, আর কোনো আঘাত বা পড়ে যাওয়ার ঘটনা। কথা বা আচরণে বদল থাকলে তাও লিখুন।
শিশুর কি ব্রেন স্ক্যান লাগবে?
সবসময় লাগে না। শারীরিক পরীক্ষার পর ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেন। স্ক্যান লাগলে তিনি বুঝিয়ে বলবেন, তা থেকে কী জানতে চাওয়া হচ্ছে।
গত সপ্তাহে শিশুর জ্বর হয়েছিল। এর সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে?
থাকতেও পারে, নাও পারে। যাই হোক, ডাক্তারকে জানান। সাম্প্রতিক অসুখের কথা ডাক্তার প্রথম দিকেই জানতে চাইবেন।
দুর্বলতা যেন কমে আসছে। তারপরও যাওয়া দরকার?
দরকার। কমে এলেও সেদিনই ডাক্তারকে জানান। আসা-যাওয়া করা দুর্বলতাও সঠিকভাবে দেখে নেওয়ার মতো বিষয়।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.