সেরা শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ - নোয়াখালী
রাতে ঘুম ভেঙে দেখলেন, ছেলে হলঘরে দাঁড়িয়ে
রাত প্রায় দুটো। পাশের ঘরে শব্দ শুনে আপনার ঘুম ভেঙে গেল। উঠে গিয়ে দেখলেন, আট বছরের ছেলে রান্নাঘরের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ খোলা, মুখে বিড়বিড় করে কী যেন বলছে। নাম ধরে ডাকলেন। সে আপনার দিকে তাকাল, অথচ মনে হলো আপনাকে সে দেখছেই না। কিছুক্ষণ পর আপনার হাত ধরে সে বিছানায় ফিরে গেল। সকালে উঠে তার কিছুই মনে নেই।
এটাকে বলে স্লিপওয়াকিং, ঘুমের মধ্যে হাঁটা। এটা ঘটে গভীর ঘুমের সময়, সাধারণত রাতের প্রথম দিকেই। তখন মস্তিষ্কের একটা অংশ ঘুমিয়ে থাকে। আরেকটা অংশ শরীরকে জাগিয়ে তোলে। তাই শিশু হাঁটতে পারে, দরজা খুলতে পারে, এমনকি সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারে না।
ঘুমের মধ্যে হাঁটে এমন বেশিরভাগ শিশুই সুস্থ থাকে। অনেকেই বড় হতে হতে এই অভ্যাস ছেড়ে দেয়। তখন আপনার কাজ খুব সহজ। শান্ত থাকুন। আস্তে কথা বলুন। হালকা করে হাত দিয়ে তাকে বিছানার দিকে নিয়ে যান।
হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে বা চিৎকার করে জাগাবেন না। গভীর ঘুম থেকে হঠাৎ জাগলে শিশু বিভ্রান্ত হয়ে ভয় পেতে পারে, আর পর্বটা আরও লম্বা হতে পারে। হাঁটাটা যদি বারবার হতে থাকে, কিংবা শিশু আঘাত পেতে থাকে, তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। নোয়াখালীতে শিশু নিউরোলজিস্ট পুরো ঘটনাটা শুনে তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন।
1 available specialists found
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ উল্লাহ
ঘুমন্ত মস্তিষ্কের ভেতরে যা ঘটে
ঘুম একটানা একই রকম থাকে না। সারারাত শিশু হালকা আর গভীর ঘুমের মধ্যে দিয়ে যায়। ঘুমের মধ্যে হাঁটা ঘটে সবচেয়ে গভীর ধাপে।
এই সময় শরীর বেশ সক্রিয় হতে পারে, অথচ মন ঘুমিয়ে থাকে। শিশু উঠে বসতে পারে, আসবাবের পাশ দিয়ে হাঁটতে পারে, দরজার হাতল ধরার চেষ্টা করতে পারে। চোখ খোলা থাকে। কিন্তু মানুষ চেনা আর স্মৃতি তৈরি করার অংশটা তখনও ঘুমন্ত। সে দুষ্টুমি করছে না। আপনার কথা বোঝার মতো জেগেও সে নেই।
সেই মুহূর্তে কী করবেন
ধীরে এগিয়ে যান, গলা নামিয়ে কথা বলুন। শিশুর হাত ধরুন, কিংবা কাঁধে আলতো করে হাত রাখুন। তারপর তাকে ঘরের দিকে নিয়ে যান।
সে বাধা দিলে জোরাজুরি করবেন না। কাছে থেকে নজর রাখুন, ঝুঁকিপূর্ণ জিনিস থেকে তাকে দূরে রাখুন। বেশিরভাগ পর্ব কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। সকালে এ নিয়ে বড় আলোচনার দরকার নেই। পরিবার বিষয়টা বড় করে তুললে অনেক শিশু লজ্জা পায়।
রাতে বাড়িটাকে নিরাপদ রাখুন
ঘুমের মধ্যে হাঁটা শিশু বিপদ বুঝতে পারে না। তাই তাকে নিরাপদ রাখার চিন্তাটা বাড়িকেই করতে হয়।
রাতে সদর দরজায় তালা দিন। চাবি এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে ঘুমের ঘোরে শিশুর হাত পৌঁছাবে না। সিঁড়ি আর হলঘর থেকে জুতা ও খেলনা সরিয়ে রাখুন, যাতে সে পা বেজে না পড়ে। ধারালো আর ভারী জিনিসপত্র তার ঘোরাঘুরির জায়গা থেকে দূরে রাখুন।
শিশু দোতলা খাটে ঘুমালে আপাতত নিচের তলাটাই তার জন্য নিরাপদ। মেঝেতে বিছানা করে দিলেও চলে।
কখন ডাক্তার দেখানো দরকার
ছোট শিশুর মাঝে মাঝে ঘুমে হাঁটা সাধারণত সমস্যা নয়। তবে কিছু ধরন দেখলে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো।
পর্বগুলো সপ্তাহে অনেকবার হলে দেখান। শিশু বাড়ির বাইরে বেরিয়ে গেলে, পড়ে গেলে বা আঘাত পেলে অবশ্যই দেখান। বড় শিশুর ক্ষেত্রে হঠাৎ করে এমন পর্ব শুরু হলেও একই কথা।
জাগ্রত অবস্থায় দিনের বেলায় এমন খালি-খালি ভাব বা ঘোরাঘুরির পর্ব হলে তা আলাদা বিষয়। এমন শিশুর সঠিক মূল্যায়ন দরকার।
ডাক্তার যা যা জানতে চাইবেন
এখানে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার আপনার বলা বিবরণ। ডাক্তার জানতে চাইবেন, পর্ব কখন হয়, কতক্ষণ থাকে, আর সেই সময় শিশু আসলে কী কী করে।
মোবাইলে ধারণ করা ছোট একটা ভিডিও অনেক সাহায্য করতে পারে। ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমাতে যাওয়ার সময়, আর স্কুলের দিনে শিশু কতটা বিশ্রাম পায়, এসব জানা দরকার। এই প্রবণতা পরিবারেও অনেক সময় দেখা যায়। আপনি বা আপনার সঙ্গী ছোটবেলায় ঘুমে হাঁটতেন কিনা, তা জানান।
ঘুমের বাইরেও বিষয় জড়িত থাকলে নোয়াখালীতে শিশু বিশেষজ্ঞ সাহায্য করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে আরও পরীক্ষার জন্য উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ঘুমের মধ্যে হাঁটা কি বিপজ্জনক?
পর্বটা নিজে সাধারণত ক্ষতি করে না। আসল ঝুঁকি অন্ধকারে পড়ে যাওয়া। তাই বাড়িটা নিরাপদ রাখাই মূল কাজ।
পর্বের মধ্যে শিশুকে জাগিয়ে দেওয়া উচিত?
না। জোর করে জাগালে শিশু বিভ্রান্ত আর ভীত হতে পারে। আস্তে করে তাকে বিছানায় ফিরিয়ে নেওয়াই ভালো।
শিশুর সকালে কিছু মনে থাকে না কেন?
কারণ পর্বের সময় সে গভীর ঘুমেই ছিল। ওই ধাপে মস্তিষ্ক স্মৃতি জমা রাখে না। তাই মনে করার মতো কিছু থাকেও না।
ক্লান্তি কি পর্ব বাড়িয়ে দেয়?
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে হ্যাঁ। ঘুম কম হলে বা ঘুমের সময় অনিয়মিত হলে পর্ব বেশি হতে পারে। নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি সাহায্য করে।
বয়স বাড়লে কি এটা নিজে নিজে চলে যায়?
অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই যায়। বড় হতে হতে পর্ব কমে আসে। তবে ধরন বদলে গেলে ডাক্তারকে জানানো ভালো।
ভিডিও করে রাখা কি কাজে আসবে?
আসবে। পর্বের সময় শিশু কী করে, তা দেখলে ডাক্তারের বুঝতে সুবিধা হয়। নিরাপদে সম্ভব হলেই ভিডিও করুন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.