সেরা শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ - যশোর
রিপোর্ট কার্ডে একই কথা: "মনোযোগ দেয় না"
স্কুলের খাতায় আবার সেই একই মন্তব্য। ক্লাসে মনোযোগ দেয় না। বাড়ির কাজ অসম্পূর্ণ। নম্বরও কমছে। অথচ বাড়িতে পছন্দের বিষয়ে আপনার সন্তান কত মনোযোগী, তা আপনি নিজেই দেখেন।
এটাকে অলসতা বলা সহজ। কখনো শিক্ষকেরাও তাই বলেন। কিন্তু মনোযোগ না দেওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। কিছু কারণ চিকিৎসার বিষয়। শিক্ষকের কথা ঠিকমতো শুনতে না পেলে শিশু অন্যমনস্ক হবেই। ঘুম প্রায় না হলে দুপুরের আগেই মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
আরও নীরব কারণও আছে। কিছু শিশুর হয় অ্যাবসেন্স সিজার, কয়েক সেকেন্ডের জন্য সে যেন সেখানে থাকেই না। পাঠ ততক্ষণে এগিয়ে যায়। চোখের সমস্যায় বোর্ডের লেখা দেখতে কষ্ট হলেও একই ঘটনা ঘটে।
নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল রিভিউ মানে আপনার সন্তানকে অলস বা খারাপ বলে দাগিয়ে দেওয়া নয়। এখানে কারণগুলো একে একে শান্তভাবে খোঁজা হয়। যা পাওয়া যাবে, তার ওপরই পরের সাহায্য নির্ভর করে।
শুরু করতে যশোরের ডাক্তারদের তালিকায় শিশু নিউরোলজিস্ট খুঁজে দেখতে পারেন। স্কুলের খাতা আর রিপোর্ট কার্ড সঙ্গে নিন। শিক্ষকের লেখা মন্তব্য অভিযোগ নয়, পরীক্ষায় কাজে লাগা তথ্য।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
প্রথমে যা যা বাদ দিয়ে দেখা হয়
রিভিউ সাধারণত গোড়ার বিষয়গুলো দিয়েই শুরু হয়, কারণ সেগুলো দিয়েই অনেক কিছু ব্যাখ্যা হয়। শ্রবণ পরীক্ষা হয় আগেই। পাঠের অংশবিশেষ ঠিকমতো না শুনলে শিশুর মনোযোগ সরে যাওয়াই স্বাভাবিক।
এরপর আসে দৃষ্টি। বোর্ডের লেখা ভালো করে দেখতে না পেলে শিশু একসময় অনুসরণ করার চেষ্টাই ছেড়ে দেয়। ঘুমের কথাও জিজ্ঞেস করা হয়। দেরি করে ঘুম, নাক ডাকা আর অস্থির ঘুম পরের দিনের মনোযোগ কমিয়ে দেয়।
তারপর আছে অ্যাবসেন্স সিজার। এতে শিশু কয়েক সেকেন্ড ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে থাকে, ডাকলেও সাড়া দেয় না। শিক্ষকেরা এটাকে অন্যমনস্কতা ভাবতে পারেন। দিনে কয়েকবার হলে পড়ার বড় অংশ চুপচাপ হাতছাড়া হয়ে যায়।
ইতিহাস যেভাবে নেওয়া হয়
দ্রুত প্রেসক্রিপশন নয়, লম্বা কথোপকথনের জন্য প্রস্তুত থাকুন। ডাক্তার গর্ভাবস্থা, জন্ম আর শুরুর বিকাশের ধাপ নিয়ে জিজ্ঞেস করবেন। সন্তান কবে হেঁটেছে, কথা বলেছে, অন্যদের সঙ্গে খেলতে শুরু করেছে? প্রতিটি উত্তর ছবিতে একটা করে অংশ যোগ করে।
বাড়ির আচরণের সঙ্গে স্কুলের আচরণ মেলানো হয়। কিছু শিশু একা একা পড়লে মনোযোগী, কিন্তু ভিড়ের ক্লাসে হারিয়ে যায়। কারো ক্ষেত্রে উল্টোটা হয়। শিক্ষকের পর্যবেক্ষণ সরাসরি চাওয়া হয়, সম্ভব হলে লিখিত আকারে। স্কুলের খাতা এখানে সত্যিই কাজে লাগে।
শিশুকেও শুধু আলোচনার বিষয় করে রাখা হয় না, তাকে নিজে দেখা হয়। ভিজিটের সময় সে কীভাবে খেলে, কথা বলে, সাড়া দেয়, সবই হিসাবে আসে। এই প্রক্রিয়ার কোনো অংশই আপনার অভিভাবকত্বের বিচার নয়। এটা কারণ খোঁজা।
রিভিউয়ের পর যা হয়
পরের ধাপ নির্ভর করে রিভিউতে যা পাওয়া যাবে তার ওপর। শ্রবণের সমস্যা পেলে শ্রবণের যত্নের দিকে যাওয়া হয়। ঘুমের সমস্যার আলাদা পরিকল্পনা হয়। অ্যাবসেন্স সিজারের সন্দেহ হলে EEG-এর পরামর্শ আসতে পারে। আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা লাগবে কিনা, ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
স্কুলের কৌশলও প্রায়ই বদলায়। বোর্ডের কাছাকাছি বসা, নির্দেশনা ছোট ছোট ধাপে দেওয়া, বাবা-মাকে নিয়মিত জানানো। ছোট ছোট বিষয়, কিন্তু মিলিয়ে বড় হয়। পাশাপাশি সাধারণ স্বাস্থ্যের দিকটা যশোরের শিশু বিশেষজ্ঞ সমন্বয় করতে পারেন।
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে। ডাক্তার যে পরীক্ষা বলেছেন, তা সেখানে হয় কিনা নির্বাচিত হাসপাতালে নিশ্চিত হয়ে নিন। সব রিপোর্ট একসঙ্গে গুছিয়ে রাখুন, প্রতিবার ফাইলটা সঙ্গে নিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
মনোযোগ কম মানেই কি আচরণের সমস্যা?
না। শ্রবণ, দৃষ্টি, ঘুম আর অ্যাবসেন্স সিজার, সবই মনোযোগহীনতার মতো দেখাতে পারে। উজ্জ্বল শিশুর সাধারণ একঘেয়েমিও পারে। আচরণ নিয়ে কথা বলার আগে রিভিউতে এসব সম্ভাবনা আলাদা করা হয়।
অ্যাবসেন্স সিজার কী?
এটা কয়েক সেকেন্ডের সংক্ষিপ্ত খিঁচুনি। শিশু ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে থাকে, ডাকলে সাড়া দেয় না। হঠাৎ শেষ হয়ে যায়, শিশু আবার আগের কাজে ফিরে যায়। অনেক সময় সে বুঝতেই পারে না কিছু হয়েছে।
সন্তান ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম খেলে। তবু কি মনোযোগের সমস্যা থাকতে পারে?
থাকতে পারে। নিজের বেছে নেওয়া উত্তেজনাপূর্ণ কাজে মনোযোগ ধরে রাখা আর ক্লাসের কাজে ধরে রাখা এক ব্যাপার নয়। সত্যিকারের মনোযোগের সমস্যা থাকা অনেক শিশুই গেমে ভালো মনোযোগ দেয়। এটা ডাক্তারকে বলুন, এটা কাজের তথ্য।
স্কুলের রিপোর্ট কি ভিজিটে নিয়ে যাব?
হ্যাঁ। রিপোর্ট কার্ড, স্কুলের খাতা আর শিক্ষকের মন্তব্য সময়ের সঙ্গে ধরনটা দেখায়। সমস্যা নতুন, বাড়ছে, নাকি অনেক দিনের, তাও বোঝা যায়। হাতে থাকা সবচেয়ে পুরোনোগুলোও নিন।
ডাক্তার কি প্রথম ভিজিটেই ওষুধ দেবেন?
প্রথম ভিজিট সাধারণত মূল্যায়নের জন্য, সিদ্ধান্তের জন্য নয়। যেকোনো চিকিৎসা নির্ভর করে রিভিউতে যা পাওয়া যাবে তার ওপর। এই ভিত্তি ছাড়া তড়িঘড়ি নাম দিয়ে ওষুধ যিনি দেন, তার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
অপেক্ষার সময় বাড়িতে কী করতে পারি?
ঘুম নিয়মিত রাখুন, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন কমান। প্রতিদিন ছোট ছোট সময়ে একসঙ্গে বই পড়ুন। মনোযোগ কখন সবচেয়ে ভালো আর কখন সবচেয়ে খারাপ থাকে, লিখে রাখুন। এই নোট রিভিউতে কাজে আসবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.