সেরা শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ - কক্সবাজার

শিক্ষক যখন বলেন, বাচ্চা ক্লাসে হঠাৎ থেমে যায়

স্কুল থেকে আসা কথাটা প্রথমে ছোটই মনে হয়। ক্লাসে আপনার শিশু কয়েক সেকেন্ড ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। তারপর পড়া আবার চলতে থাকে, শিশুও যেন কিছুই হয়নি এমনভাবে মিশে যায়।

এটাকে আনমনা ভাবা খুব সহজ। পাঠ ধীর মনে হলে অনেক শিশুই অন্যদিকে মন দেয়। কিন্তু প্রতিদিন একইভাবে ঘটা ছোট ছোট থেমে যাওয়া অবহেলা করা ঠিক নয়। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে এগুলো অ্যাবসেন্স সিজার, অর্থাৎ হালকা ধরনের মৃগী খিঁচুনি।

অ্যাবসেন্স সিজারের সময় শিশু অল্প সময়ের জন্য সাড়া দেয় না। কথা, চোখের পলক আর ঠোঁটের ছোট নড়াচড়া মাঝপথে থেমে যেতে পারে। পর্বটা সাধারণত কয়েক সেকেন্ডই থাকে। শেষ হলে শিশু আগের কাজে ফিরে যায়, ফাঁকটার কথা মনেও থাকে না।

কক্সবাজারে একজন শিশু নিউরোলজিস্ট বুঝতে সাহায্য করবেন, পর্বগুলো আসলে কী। কক্সবাজারের ডাক্তারদের তালিকা দেখে শিশু দেখেন এমন ডাক্তার খুঁজুন। শোনা প্রতিটি পর্বের নোট রাখা শুরু করুন: কখন হয়েছে, কতক্ষণ ছিল, আর কত ঘন ঘন হচ্ছে। শিক্ষকের এই নোটটাই অনেক সময় প্রথম সূত্র হয়ে ওঠে।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

অ্যাবসেন্স সিজারকে আনমনা ভাবার ভুল কেন হয়

ক্লাসরুমের দূর থেকে দুটো দেখতে প্রায় একই রকম। আনমনা শিশু জোরে ডাক বা ডেস্কে হালকা টোকা শুনতে পায়। সে চমকে তাকায় আর উত্তর দেয়।

অ্যাবসেন্স সিজার থামানো এত সহজ নয়। পর্ব চলার সময় আলতো করে নাম ধরে ডাকলে প্রায়ই কোনো সাড়া মেলে না। তাকিয়ে থাকাটা নিজে থেকেই শেষ হয়, ঠিক যেমন হঠাৎ শুরু হয়েছিল।

কত ঘন ঘন হচ্ছে, সেটাও বড় সূত্র। আনমনা ভাব একঘেয়েমির সঙ্গে আসে-যায়। অ্যাবসেন্স পর্ব দিনে অনেকবার হতে পারে, এমনকি পছন্দের খেলা বা খাওয়ার সময়ও। শিক্ষকরাই প্রায়ই ধরনটা প্রথম খেয়াল করেন, কারণ তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লাস দেখেন।

সঠিক যত্ন আর নিয়মিত ফলো-আপে অ্যাবসেন্স সিজার থাকা অনেক শিশুই ভালো থাকে। প্রথম কাজ হলো, আসলে কী ঘটছে তার পরিষ্কার বর্ণনা তৈরি করা।

কী নোট রাখবেন, আর EEG কেন করা হয়

প্রতিটি পর্বের সময় আর আনুমানিক কত সেকেন্ড ছিল, লিখে রাখুন। শুরু হওয়ার ঠিক আগে শিশু কী করছিল, তাও লিখুন। শিক্ষককেও স্কুলে একই সহজ নোট রাখতে বলুন।

একটা তথ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। পর্ব চলার সময় শিশুকে ডেকে পাওয়া যাচ্ছিল কি না। শুধু নাম ধরে আলতো করে ডাকুন। কখনো শিশুকে ঝাঁকাবেন না, কানের কাছে চিৎকারও করবেন না। শান্তভাবে লেখা সাড়ার নোটটাই অনেক বেশি কাজের।

ডাক্তার EEG করার পরামর্শ দিতে পারেন। মাথার ত্বকে ছোট সেন্সর বসিয়ে মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সক্রিয়তা মাপা হয়। এতে ব্যথা লাগে না। রেখাচিত্রে অ্যাবসেন্স সিজারের সঙ্গে মেলে এমন ধরন ধরা পড়তে পারে, যা আপনার নোটের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।

দেখানোর সময় স্কুলের রিপোর্ট আর আগের চিকিৎসার কাগজ সঙ্গে নিন। আরও শিশু নিউরোলজি তালিকা দেখতে চাইলে চট্টগ্রামের শিশু নিউরোলজিস্টদের তালিকাটিও ঘেঁটে দেখতে পারেন। ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, পর্বগুলোর জন্য ওষুধ লাগবে, শুধু লক্ষ রাখলেই চলবে, নাকি দুটোই দরকার।

উত্তর যাই হোক, দিনযাপন যেভাবে চলবে

বলুন, মস্তিষ্ক মাঝে মাঝে কয়েক সেকেন্ড থেমে যায়, ডাক্তার তার কারণ খুঁজছেন। পর্বের সময় নির্দেশনা শুনতে না পারলে বকাঝকা করবেন না। ফাঁকটা শিশুর ইচ্ছাকৃত নয়।

ডাক্তার যা বলেন, ক্লাস শিক্ষককেও জানিয়ে রাখুন। বাড়ি আর স্কুলের মধ্যে ছোট নোট চলতে থাকলে সবাই একই তথ্য দেখবে। বের হওয়ার আগেই জেনে নিন, বেছে নেওয়া হাসপাতালে EEG আর ফলো-আপের ব্যবস্থা সেখানেই হয় কি না।

প্রথম দেখানোর পরও পর্বের খাতাটা চালিয়ে যান। পর্ব কমে যাওয়া বা বন্ধ হওয়া বুঝিয়ে দেয় পরিকল্পনা কাজ করছে। নতুন কোনো ধরন দেখলে পরের রিভিউতে জানান, বাড়িতে একা দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

অ্যাবসেন্স সিজার আর আনমনা ভাবের পার্থক্য কী?

আনমনা শিশু ডাকলে বা হালকা ছোঁয়া দিলে সাড়া দেয়। অ্যাবসেন্স সিজারের সময় শিশু সাধারণত কোনো সাড়াই দেয় না।

অ্যাবসেন্স সিজার কতক্ষণ থাকে?

বেশিরভাগ পর্ব মাত্র কয়েক সেকেন্ড থাকে, আধ মিনিটের বেশি কদাচিৎ হয়। শেষ হলে শিশু আগের কাজে ফিরে যায়। খুব ছোট পর্ব মনোযোগ দিয়ে না দেখলে ধরা কঠিন।

EEG করলে কি শিশুর ব্যথা লাগে?

না। নরম পেস্ট দিয়ে মাথার ত্বকে সেন্সর বসানো হয়, সেগুলো সংকেত ধরে। শিশুকে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসতে হতে পারে।

পর্ব চলার সময় আমি কী করব?

শান্ত থাকুন আর সময়টা খেয়াল করুন। নাম ধরে আলতো করে এক-দুবার ডাকুন। শিশুকে কখনো ঝাঁকাবেন না। পর্ব শেষ হলে স্বাভাবিকভাবে চলুন, আর যা দেখলেন লিখে রাখুন।

অ্যাবসেন্স সিজারে কি পড়াশোনার ক্ষতি হয়?

ঘন ঘন পর্ব হলে ক্লাসের কথা আর নির্দেশনা কানে নাও পৌঁছাতে পারে। এ কারণেই আগে পরীক্ষা করানো জরুরি। শিক্ষককে জানিয়ে রাখুন, যাতে বাদ পড়া পড়া সদয়ভাবে আবার বুঝিয়ে দেওয়া যায়।

বড় হলে কি অ্যাবসেন্স সিজার সেরে যায়?

বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক শিশুরই এটা সেরে যায়। সময়ের সঙ্গে আপনার শিশুর ধরন কীভাবে বদলাচ্ছে, নিয়মিত রিভিউতেই তা বোঝা যাবে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.