সেরা শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ - চট্টগ্রাম
বারবার পড়ে যাওয়া কখন চিন্তার বিষয়
ছোট বাচ্চারা হামেশাই পড়ে যায়। এভাবেই তারা হাঁটা, দৌড়ানো আর ওঠা শেখে। কিন্তু চার-পাঁচ বছর বয়সে বেশিরভাগ শিশুই স্থিরভাবে হাঁটে। তখন পড়ে যাওয়া হয় কেবল মাঝে মাঝে, তাও জোরে খেলার সময়।
আপনার শিশু যদি এখনো দিনে অনেকবার পড়ে যায়, মনে দুশ্চিন্তা আসাটা স্বাভাবিক। হয়তো হাঁটাটা একটু শক্ত বা টলমলে লাগে। হয়তো একটা পা দুর্বল মনে হয়, কিংবা শিশু সিঁড়ি আর দৌড়ের খেলা এড়িয়ে চলে।
বারবার পড়ে যাওয়া মানেই সবসময় বড় সমস্যা নয়। জুতা, চোখের দৃষ্টি কিংবা ক্লান্তিও কারণ হতে পারে। তবে পেশির দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক শক্তভাব থাকলে পরীক্ষা করা দরকার। চট্টগ্রামে একজন শিশু নিউরোলজিস্ট দেখেন শিশু কীভাবে হাঁটে, নড়াচড়া করে আর শক্তি ব্যবহার করে।
আপনি চট্টগ্রামের ডাক্তারদের তালিকা দেখে তুলনা করতে পারেন, কে নিয়মিত ছোট শিশু দেখেন। দেখানোর আগে লিখে রাখুন, পড়ে যাওয়া কবে থেকে শুরু হয়েছে। অবস্থা ভালোর দিকে যাচ্ছে, একই আছে, নাকি বাড়ছে, সেটাও লিখুন। এই ছোট তথ্যগুলো অনেক কাজে আসে। শিশু নিজে হয়তো কিছু বলে না, কিন্তু খেলায় পিছিয়ে পড়লে তার মন খারাপ হয়।
3 available specialists found
Dr. Md. Mahabubul Alam Khandker
Prof. Dr. Syed Wahidur Rahman
Prof. Dr. Md. Hasanuzzaman
নিউরোলজিস্ট আসলে কী কী খেয়াল করেন
পরীক্ষার বড় অংশটাই হলো দেখা আর খেলার ছলে যাচাই করা। ডাক্তার দেখেন শিশু ঘরের এপাশ থেকে ওপাশে হাঁটে, ঘুরে আবার ফিরে আসে। পারলে গোড়ালি ভর দিয়ে আর পায়ের আঙুলে ভর দিয়েও হাঁটতে বলা হয়।
মেঝে থেকে ওঠার ভঙ্গিটাও গুরুত্বপূর্ণ। কোমর বা ঊরুর পেশি দুর্বল হলে শিশু পা বেয়ে ওঠার মতো করে দাঁড়ায়। সিঁড়ি ভাঙাও অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়, বিশেষ করে শিশু সবসময় একই পা আগে দিলে।
হাতের শক্তিও দেখা হয়। আঙুল চেপে ধরা, পেনসিল ধরা আর বোতাম লাগানো অনেক তথ্য দেয়। ছোট হাতুড়ি দিয়ে রিফ্লেক্স পরীক্ষা করা হয়। হাত-পা আলতো নাড়িয়ে পেশির টোন বোঝা হয়।
জন্মের সময়ের কথা আর ছোটবেলার মাইলস্টোন নিয়েও প্রশ্ন করা হতে পারে। শিশু কবে বসেছে, দাঁড়িয়েছে আর হেঁটেছে? শেখা কোনো দক্ষতা কি হারিয়ে গেছে? সত্যি করে উত্তর দিন।
অসাবধানতা, দুর্বলতা আর টোনের সমস্যা এক নয়
কিছু শিশু স্বভাবতই একটু কম সমন্বয় নিয়ে চলে। তারা আসবাবে ধাক্কা খায়, জিনিস ফেলে দেয়, কিন্তু শক্তি স্বাভাবিক থাকে। অনুশীলন আর সময়ের সঙ্গে এই ধরনের অসাবধানতা অনেকটাই কমে যায়।
দুর্বলতা কিন্তু আলাদা ব্যাপার। শিশু তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হয়, বন্ধুদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। টোনের সমস্যায় অনুভূতিটা আবার অন্যরকম। ডাক্তার হাত-পা নাড়ালে পেশি অতিরিক্ত শক্ত বা অতিরিক্ত নরম লাগতে পারে।
ডাক্তার কোন ধরনটা পাচ্ছেন, তার উপর চিকিৎসা আর ফলো-আপ নির্ভর করে। কখনো শুধু কিছুদিন লক্ষ রাখলেই চলে। কখনো থেরাপি বা আরও পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সাধারণ শিশু চিকিৎসার জন্যও কাউকে খুঁজলে চট্টগ্রামের শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা থেকে শুরু করতে পারেন। আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, আলাদা করে নিউরোলজি পরীক্ষা আপনার শিশুর জন্য দরকার কি না।
দেখানোর আগে ও পরে যা করবেন
ফোনে তোলা ছোট একটা ভিডিও অনেক সাহায্য করে। শিশুর হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা বা মেঝে থেকে ওঠার দৃশ্য বাড়িতেই ধরে রাখুন। আগের রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশন আর টিকার কাগজ যা আছে, সঙ্গে নিন।
পরীক্ষার পর সহজ ভাষায় জেনে নিন, ডাক্তার কী পেয়েছেন। কী এখনই করা দরকার, আর কী অপেক্ষা করতে পারে, তাও জিজ্ঞেস করুন। যে হাসপাতাল বেছে নিয়েছেন, সেখানে প্রস্তাবিত পরীক্ষা বা থেরাপির ব্যবস্থা আছে কি না, আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন।
কিছু শিশুকে কয়েক মাস পর আবার দেখাতে হয়। দুটি দেখানোর মাঝের সময়টায় ছোট নোট রাখতে থাকুন, বিশেষ করে পড়ে যাওয়া, ক্লান্তি আর নতুন শেখা কাজ নিয়ে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
কোন বয়সে বারবার পড়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তা করা উচিত?
চার বছরের পরও ঘন ঘন পড়লে, বা অবস্থা বাড়তে থাকলে পরীক্ষা করান। হাঁটা কখনোই স্থির না হলেও একবার দেখিয়ে নেওয়া ভালো।
আমার শিশু পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে হাঁটে। এটা কি সমস্যা?
অনেক ছোট শিশু কিছুদিন এভাবে হাঁটে, পরে ঠিক হয়ে যায়। পা শক্ত হয়ে দীর্ঘদিন এমন থাকলে পরীক্ষা দরকার। কবে থেকে শুরু, আর বললে শিশু সমানভাবে দাঁড়াতে পারে কি না, ডাক্তারকে জানান।
প্রথমবার দেখালেই কি স্ক্যান করতে হবে?
প্রথম দেখায় প্রায়ই শুধু পরীক্ষা আর আলোচনাই হয়। ফলাফল অনুযায়ী দরকার পড়লেই স্ক্যান বা অন্য পরীক্ষা দেওয়া হয়।
দেখানোর আগে বাড়িতে কী কী নোট রাখব?
পড়ে যাওয়া বা অসাবধানতা কবে থেকে শুরু, সেটা লিখুন। অবস্থা ভালো হচ্ছে নাকি বাড়ছে, সেটাও লিখুন। হাঁটার ছোট ভিডিও আর আগের অসুখের তালিকা ডাক্তারের কাজ সহজ করে।
থেরাপিতে কি দুর্বল পেশি ভালো হতে পারে?
এটা কারণের উপর নির্ভর করে। নিয়মিত থেরাপি আর অনুশীলনে কিছু শিশুর শক্তি ও ভারসাম্য বাড়ে।
কতদিন পর পর ফলো-আপে যেতে হবে?
কাউকে কয়েক মাস পর অগ্রগতি দেখতে ডাকা হয়। কারো ক্ষেত্রে ঘন ঘন ফলো-আপ লাগে। ডাক্তারই সময় ঠিক করে দেবেন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.