সেরা শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ - বগুড়া
নয় মাসেও বসছে না, শরীরটাও শক্ত লাগে
জামা পরাতে গেলেই বাচ্চার পা দুটো সোজা হয়ে শক্ত হয়ে যায়। বয়স নয় মাস, এখনো নিজে বসতে পারছে না। বাড়ির অন্য বাচ্চারা এর অনেক আগেই বসেছে। দুশ্চিন্তাটা সারাদিন মাথায় ঘোরে।
এই শক্ত ভাবের একটা চিকিৎসা নাম আছে। ডাক্তাররা একে বাড়তি টোন বলেন। বসতে দেরির সঙ্গে এটা মিললে সেরিব্রাল পালসির শুরুর লক্ষণ হতে পারে। আবার অন্য কোনো চলন-সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করতে পারে। ভালো করে পরীক্ষা না করে বোঝা যায় না।
অপেক্ষা করে দেখি, এই ভাবনা সময় নষ্ট করে। চলন আর শেখার জন্য প্রথম মাসগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছোট বয়সে সহায়তা শুরু হলে বাচ্চা তার সক্ষমতা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে।
এই দুশ্চিন্তা নিয়ে বগুড়ায় ডাক্তার খুঁজলে নিজের পর্যবেক্ষণগুলো গুছিয়ে নিন। কবে ঘাড় শক্ত করে ধরতে শিখেছে, লিখে রাখুন। গড়াগড়ি দেয় কিনা, জিনিসের দিকে হাত বাড়ায় কিনা, খেয়াল করুন। পায়ে ভর দেয় কিনা তাও দেখুন। খাওয়ার সময় কাশি ওঠে কিনা, সেটাও মনে রাখুন। এসব তথ্য প্রথম ভিজিটে খুব কাজে লাগে।
7 available specialists found
সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ আহমেদ আশাফুদ্দৌলা
Dr. Md. Atiqul Islam (Atique)
Dr. Md. Mahbubur Rahman
Prof. Dr. Sushanta Kumar Sarkar
Dr. Tanjina Tarannum Dipu
Dr. Manabendra Bhattacharjee
Prof. Dr. Md. Shafiul Alam
নিউরোলজিস্ট যা যা পরীক্ষা করেন
পরীক্ষা শুরু হয় টোন দেখা দিয়ে। ডাক্তার বাচ্চার হাত-পা আলতো করে নাড়িয়ে দেখেন। পেশী বেশি শক্ত লাগছে, নাকি বেশি নরম, তা বোঝার চেষ্টা করেন। শক্ত বা নরম, দুটোই গুরুত্ব পেতে পারে।
এরপর রিফ্লেক্স দেখা হয়। বাচ্চাদের কিছু রিফ্লেক্স বয়সের সঙ্গে মিলিয়ে যাওয়ার কথা। সেগুলো বেশি দিন থেকে গেলে তা একটা ইঙ্গিত হতে পারে। শোয়া, বসা আর ধরে দাঁড় করিয়ে ভঙ্গিও দেখা হয়।
বিকাশের খোঁজ নেওয়া হয় সব ক্ষেত্রে, শুধু চলনে নয়। হাসি, আধো বুলি, হাত বাড়ানো আর খাওয়ার কথাও জিজ্ঞেস করা হয়। মাথার বাড় মেপে আগের রেকর্ডের সঙ্গে মেলানো হয়। মাথার বাড় খুব বেশি বা খুব কম হলে সেদিকে নজর দিতে হয়।
জন্মের ইতিহাস এই ভিজিটের বড় অংশ। জন্ম কি সময়ের আগে হয়েছিল? প্রথম কান্নায় দেরি হয়েছিল কিনা জানতে চাওয়া হয়। জন্মের পর বিশেষ যত্ন লেগেছিল কিনা তাও জরুরি। এসব কাগজ থাকলে সঙ্গে নিয়ে যান।
পরীক্ষা, থেরাপি আর বাস্তব প্রত্যাশা
কারণ খুঁজতে কিছু বাচ্চার মস্তিষ্কের স্ক্যান লাগতে পারে। কারো ক্ষেত্রে আগে কান আর চোখের পরীক্ষা দরকার হয়। রক্ত পরীক্ষা তখনই দেওয়া হয়, যখন লক্ষণ সেদিকে ইঙ্গিত করে।
সব পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা না করেই থেরাপি প্রায়ই শুরু হয়। ফিজিওথেরাপি ভঙ্গি, শক্ত ভাব আর চলনের অনুশীলনে সাহায্য করে। খাওয়া, কথা আর দৈনন্দিন কাজের জন্যও অন্য থেরাপি লাগতে পারে। বাড়িতে করার মতো সহজ অনুশীলন দেখিয়ে দেওয়া হবে।
থেরাপিতে কী হবে, তা নিয়ে বাস্তব থাকুন। আগেভাগে সহায়তা বিকাশে সাহায্য করে। শক্ত হয়ে যাওয়া জোড়ার মতো সমস্যাও এতে ঠেকানো যায়। তবে এটি কোনো রোগ সারিয়ে দেওয়ার চিকিৎসা নয়। কোনো সৎ ডাক্তার সেই প্রতিশ্রুতি দেবেন না।
আপনার বাচ্চার এখন থেরাপি লাগবে, নাকি নজরে রাখলেই হবে, ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। থেরাপি সেখানে হয় কিনা, নির্বাচিত হাসপাতালে নিশ্চিত হয়ে নিন। কিছু বাচ্চাকে আরও পরীক্ষার জন্য উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে।
সাধারণ বাড় আর খাওয়ার সমস্যায় বগুড়ায় শিশু বিশেষজ্ঞ পাশাপাশি যুক্ত থাকতে পারেন। সব রিপোর্ট একটা ফাইলে গুছিয়ে রাখুন। যে ডাক্তারকেই দেখান, ফাইলটা প্রতিবার সঙ্গে নিন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বসতে দেরি মানেই কি সেরিব্রাল পালসি?
না। অন্য কারণেও কিছু বাচ্চার বসতে দেরি হয়। সাধারণ বিকাশ পিছিয়ে থাকাও একটা কারণ হতে পারে। শক্ত ভাব, অস্বাভাবিক ভঙ্গি আর রিফ্লেক্স থেকে গেলে ডাক্তার বেশি গুরুত্ব দেন। কোনো নাম দেওয়ার আগে পরীক্ষা করা জরুরি।
বাবা-মা প্রথমে কোন লক্ষণগুলো খেয়াল করেন?
জামা পরানো বা গোসলের সময় শক্ত ভাবটা অনেকের চোখে পড়ে। কারো চোখে পড়ে হাত মুঠো করে রাখা। গড়াগড়ি না দেওয়া আর পায়ে ভর না দেওয়াও সাধারণ শুরুর অভিযোগ। রোজ যা দেখছেন, তার ওপর ভরসা রাখুন।
থেরাপিতে কি আমার বাচ্চা সেরে উঠবে?
থেরাপি মূল অসুখ সারিয়ে দেয় না। এটি বাচ্চাকে ভালোভাবে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে। স্বস্তিতে থাকা আর নতুন দক্ষতা শেখাতেও কাজে লাগে। আগেভাগে শুরু করলে থেরাপি কাজের সময় বেশি পায়। পুরোপুরি সেরে ওঠার নিশ্চয়তা যিনি দেন, তার কথায় সতর্ক থাকুন।
থেরাপি কখন শুরু করা উচিত?
চলনের সমস্যার সন্দেহ হলেই প্রায়ই শুরু করা হয়। চূড়ান্ত রোগ নির্ণয়ের জন্য ডাক্তাররা সবসময় অপেক্ষা করেন না। পরীক্ষা চলার পাশাপাশি শুরুর অনুশীলন ভঙ্গি আর চলনে সাহায্য করে। প্রথম ভিজিটেই এ নিয়ে জিজ্ঞেস করুন।
প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্টে কী নিয়ে যাব?
জন্ম আর ছাড়পত্রের কাগজ থাকলে সঙ্গে নিন। টিকার কার্ড আর বাড়ের রেকর্ডও নিন। বাড়িতে বাচ্চার নড়াচড়ার ছোট ভিডিও থাকলে তা কাজে লাগে। মনে থাকা বিকাশের ধাপগুলো মোটামুটি বয়সসহ লিখে নিন।
কতদিন পর পর ফলোআপ লাগবে?
তা নির্ভর করে বাচ্চার অবস্থা আর অগ্রগতির ওপর। চলনের সমস্যা থাকলে ছোট বাচ্চাদের নিয়মিত দেখা হয়। প্রতিটি ভিজিটে টোন, ভঙ্গি আর নতুন দক্ষতা আবার দেখা হয়। অগ্রগতি ধীর মনে হলেও ভিজিট বাদ দেবেন না।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.