সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - রাজশাহী
এক বছরে মাত্র এক আঙুল
স্কুলের নতুন বছরের প্রথম দিনে সন্তানকে আবার দরজার ফ্রেমের পাশে দাঁড় করালেন। গত জানুয়ারির পেন্সিলের দাগটা আছে। এবারের দাগ বসেছে তার মাত্র এক আঙুল ওপরে।
বাচ্চাদের বৃদ্ধি সবসময় এক গতি ধরে হয় না। একটা মৌসুম ধীরে বাড়লেই চিন্তার কিছু থাকে না। কিন্তু পুরো একটা বছর ধরে উচ্চতা বয়স অনুযায়ী অনেক কম বাড়লে প্রশ্ন তোলা উচিত। খাওয়া ঠিক আছে, খেলাধুলাও ঠিক আছে। পিছিয়ে যাচ্ছে শুধু বৃদ্ধি।
কিডনি শুধু প্রস্রাব তৈরি করে না। শরীরের লবণ আর অ্যাসিডের ভারসাম্য কিডনিই রাখে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও তার ভূমিকা আছে। হাড়ের বৃদ্ধিতে কাজ করা হরমোনের দিকেও কিডনির প্রভাব থাকে। মাসের পর মাস কিডনির কাজ কম থাকলে বৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়াই অনেক সময় প্রথম লক্ষণ। ব্যথা থাকে না, ফোলাও থাকে না।
এই কারণেই ডাক্তাররা গ্রোথ চার্টকে এত গুরুত্ব দেন। একবারের মাপে কিছুই বোঝা যায় না। সময় নিয়ে টানা রেখাটা অনেক বেশি কথা বলে।
সন্তানের বৃদ্ধি থেমে আছে মনে হলে রাজশাহীর একজন শিশু বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে শুরু করুন। উচ্চতা ও ওজনের পুরনো রেকর্ড যা আছে সব নিয়ে যান। স্কুলের হেলথ কার্ডও হতে পারে। পুরনো সংখ্যাগুলো প্রথম ভিজিটেই চিত্রটা পরিষ্কার করে দেয়।
10 available specialists found
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এস. এম. মাহমুদ হাসান
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ হাসিনাতুল জান্নাত (সুমি)
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মো. আব্দুল হাকিম
Dr. Md. Siddiqur Rahman Sohel
Dr. Nurul Islam Chowdhury
Dr. Swapan Kumar Saha
Dr. Hasinatul Zannat
Dr. Safayet Hossain Pramanik
Dr. Md. Nasir Uddin
Dr. Md. Ashiqur Rahman
গ্রোথ চার্ট আসলে কী বলে
ভিজিটে ডাক্তার যত্ন করে উচ্চতা ও ওজন মেপে সন্তানের বয়স অনুযায়ী চার্টে বসাবেন। চার্টের একটা বিন্দু হলো এক মুহূর্তের ছবি। ডাক্তারের কাছে আসল বিষয় হলো মাস ও বছর ধরে বিন্দুগুলো মিলিয়ে তৈরি হওয়া রেখা।
সুস্থ বাচ্চার রেখা সাধারণত চার্টের একটা ব্যান্ড ধরে এগিয়ে যায়। রেখাটা যদি ধীরে ধীরে নিচের দিকে ঝুঁকে ব্যান্ড পেরিয়ে যেতে থাকে, সেটা সতর্ক সংকেত। এতে কারণ বোঝা যায় না। শুধু বোঝা যায়, বৃদ্ধি সত্যিই ধীর হয়েছে আর এর কারণ খোঁজা দরকার।
এখানে পুরনো রেকর্ড খুব কাজে আসে। স্কুলের হেলথ কার্ড, টিকার কার্ড বা আগের ক্লিনিকের কাগজ রেখাটাকে পেছনের দিকে বাড়িয়ে দেয়।
ডাক্তার যেসব পরীক্ষা করতে বলতে পারেন
প্রথমে সাধারণত প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা। এতে প্রোটিন, রক্ত বা ইনফেকশন আছে কিনা বোঝা যায়। রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন দেখে বোঝা যায় কিডনি বর্জ্য কতটা পরিষ্কার করতে পারছে। রক্তচাপও মাপা হয়। কিডনির সমস্যায় রক্তচাপ কোনো লক্ষণ ছাড়াই বেড়ে থাকতে পারে।
আলট্রাসনোগ্রামে কিডনির আকার ও গঠন দেখা হয়। অনেকদিন ধরে চাপের মধ্যে থাকা কিডনি কখনো আকারে ছোট হয়ে যায়। এরপর কারণের চিকিৎসা শুরু হয়, সঙ্গে খাবার নিয়ে পরামর্শ আর নির্দিষ্ট সময় পরপর রিভিউ ঠিক করা হয়।
কিডনি আর বৃদ্ধি নিয়ে রাজশাহীর ডাক্তারদের তালিকা দেখে নিতে পারেন। প্রথম আলট্রাসনোগ্রাম রক্তের রিপোর্টের আগেই করবেন নাকি পরে, ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিন।
আগেভাগে ধরা পড়লে কী বদলায়
শৈশবে হারিয়ে যাওয়া বৃদ্ধি পরে সবসময় পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা যায় না। হাড়ের নিজস্ব একটা সময়সূচি আছে। বয়ঃসন্ধির আগের বছরগুলোতেই চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে বৃদ্ধির জন্য। সাত বছর বয়সে ধরা পড়া কারণে বারো বছরে ধরা পড়ার চেয়ে কাজ করার সুযোগ অনেক বেশি থাকে।
আগে চিকিৎসা শুরু হলে পুরো শরীরেরই উপকার। রক্তচাপ আগে নিয়ন্ত্রণে আসে। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যায় যে রক্তস্বল্পতা আর হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে, লক্ষণ আসার আগেই তা ধরা পড়ে।
আসছে মাসগুলোতে ফলোআপ যেভাবে চলবে
শুরুতে কয়েক মাস পরপর রিভিউ আশা করুন। প্রতিবার উচ্চতা, ওজন ও রক্তচাপ লিখে রাখা হয়। ডাক্তারের ঠিক করা বিরতিতে রক্ত আর প্রস্রাবের পরীক্ষাও আবার করা হয়।
বাড়িতে নিজেও সহজ একটি রেকর্ড রাখুন। একই দেয়ালে, একইভাবে, তিন মাস পরপর উচ্চতা মাপুন। সেটা সঙ্গে নিয়ে যান। বৃদ্ধিতে আশানুরূপ সাড়া না মিললে কিংবা পরীক্ষায় জটিল কিছু উঠে এলে সন্তানকে উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বছরে কতটা কম বৃদ্ধি হলে সেটা চিন্তার?
বয়সভেদে আলাদা। স্কুলবয়সি বাচ্চারা সাধারণত বছরে কয়েক সেন্টিমিটার বাড়ে, তবে পরিসরটা বেশ বড়। একটা সংখ্যার চেয়ে চার্টে সন্তানের নিজের রেখার গতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আমিও খাটো, সন্তানও খাটো। তবু কি কিডনির সমস্যা থাকতে পারে?
থাকতে পারে। পরিবারের উচ্চতাই অনেক খাটো বাচ্চার ব্যাখ্যা, আর বেশিরভাগই সুস্থ। কিন্তু বৃদ্ধির রেখা নিচের দিকে ঝুঁকতে থাকলেই সেটা সতর্ক সংকেত, পরিবারের উচ্চতা যেমনই হোক।
ভিজিটে কী কী রেকর্ড নিয়ে যাব?
টিকার কার্ড, স্কুলের হেলথ কার্ড, আগের ক্লিনিক বা হাসপাতালের কাগজ নিন। যেখানে উচ্চতা বা ওজন লেখা আছে, সবই কাজে লাগে। দু-তিনটা পুরনো মাপ পেলেও ডাক্তার রেখাটা টানতে পারেন।
প্রথম ভিজিটেই কি আলট্রাসনোগ্রাম লাগবে?
সবসময় নয়। ডাক্তার সাধারণত প্রস্রাব ও রক্তের পরীক্ষা আর রক্তচাপ দিয়ে শুরু করেন। ফলাফল কিডনির দিকে ইঙ্গিত করলে কিংবা প্রাথমিক ধারণা পেতে আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়।
চিকিৎসা শুরু হলে বৃদ্ধি কি আবার ধরে ফেলতে পারে?
কারণের চিকিৎসা শুরু হলে বৃদ্ধি অনেক সময় ভালোর দিকে যায়, বিশেষ করে চিকিৎসা আগেভাগে শুরু হলে। কতটা ধরতে পারবে তা বাচ্চাভেদে আলাদা। তাই ডাক্তার চার্টটা নিয়মিত দেখে যান।
কতদিন পরপর আসতে হবে?
শুরুতে প্রায়ই কয়েক মাস পরপর রিভিউ হয়। বৃদ্ধি আর পরীক্ষার ফল স্থির হয়ে গেলে ব্যবধান বাড়ে। সন্তানের রিপোর্ট দেখেই ডাক্তার সময়টা ঠিক করে দেবেন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.