সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - নাটোর
ডায়রিয়া আর বমির পর প্রস্রাব প্রায় হচ্ছেই না
ব্যাপারটা সবার আগে বুঝিয়ে দেয় ন্যাপি। দিনভর পাতলা পায়খানা আর বমির পর ন্যাপি ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুকনা থাকে। মুখটাও শুকনা শুকনা লাগে। চোখ দুটো একটু বসে গেছে, খেলাধুলার সেই চঞ্চলতা নেই।
ডায়রিয়া আর বমিতে ছোট্ট শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায় খুব দ্রুত। কিডনিতে পৌঁছানো রক্ত কমে যায়, প্রস্রাবের পরিমাণও কমে আসে। এক অর্থে এটা শরীরেরই সুরক্ষা ব্যবস্থা। যতটুকু পানি আছে, ধরে রাখো। কিন্তু পানি ঘাটতি চলতে থাকলে এটাই আবার কিডনি আঘাতের শুরু হয়ে উঠতে পারে।
ঠিকমতো পানি ও স্যালাইন পেলে বেশিরভাগ শিশু পুরোপুরি সেরে ওঠে। কয়েক দিনের মধ্যে কিডনির কাজ স্বাভাবিক হয়, প্রস্রাবও আগের মতো হতে থাকে। তবে কিছু শিশুকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। কম বয়সি বাবু, ওজন কম শিশু, কিংবা স্যালাইন শুরুর পরও বমি না থামলে ঝুঁকি বাড়ে।
এমন একটি ঘটনাই নাটোরের অনেক শিশুকে কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছে আসার সবচেয়ে সাধারণ কারণ। প্রচুর পানি বেরিয়ে যাওয়ার পরও কয়েক ঘণ্টা প্রস্রাব না হলে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আজই দেখান।
চাইলে নাটোরের ডাক্তারদের তালিকা দেখে নিন। কোথায় যাবেন বুঝতে না পারলে নাটোরের শিশু বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে শুরু করতে পারেন।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
পানিশূন্যতার পর ডাক্তার যা যা দেখেন
সাধারণত প্রথমে করা হয় রক্তের ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা। পানিশূন্যতায় এই মানগুলো কিছুদিনের জন্য বেড়ে যেতে পারে। শরীরে পানি ফিরে এলে আবার নেমে আসে। পাশাপাশি প্রস্রাবের পরীক্ষাও করা হয়। প্রস্রাব কতটা ঘন তা দেখা হয়, সঙ্গে কোনো সংক্রমণ আছে কিনা তাও।
রক্তচাপও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। পানির ঘাটতি শরীরের রক্ত চলাচলে কতটা ধাক্কা দিয়েছে, তা এতে বোঝা যায়। ওজন মাপা হয় যত্ন করে, কারণ অসুখের আগের ওজনের সঙ্গে পার্থক্য দেখেই সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় কতটা পানি হারিয়েছে।
কখনো কিডনির আকার ও গঠন দেখতে আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এতে দেখা যায় কিডনি সুস্থ, সমস্যাটি ছিল কেবল পানির ঘাটতিতে।
শুধু পানিশূন্যতা নয়: কিডনির নিয়মিত কাজ
শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞের কাজের আরেকটি বড় অংশ প্রস্রাবের সংক্রমণ। সংক্রমণ দুইবার ফিরে এলে কারণ খুঁজতে হয়। অনেক সময় কারণ থাকে জন্ম থেকে থাকা কিডনি বা প্রস্রাবের পথের গঠনগত পার্থক্য।
নেফ্রোটিক সিনড্রোম আলাদা ধাঁচের সমস্যা। প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যায়। শিশুর চোখের চারপাশ সকালে ফোলা থাকে। গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস কিডনির ভেতরের প্রদাহ। প্রস্রাবের রঙ গাঢ় লাল বা ধোঁয়াটে হয়ে যেতে পারে। দুটোতেই একবারের দেখা যথেষ্ট নয়, মাসের পর মাস ফলোআপ লাগে।
শিশুর উচ্চ রক্তচাপ, ছয় বছর পেরিয়েও বিছানা ভেজানো, কয়েক মাস ধরে ধীর বৃদ্ধি, এসব ক্ষেত্রেও দেখানো যুক্তিযুক্ত। প্রতিটি ক্ষেত্রে ওষুধ লাগে না। অনেকটায় শুধু ব্যাখ্যা, পর্যবেক্ষণ আর পরবর্তী ভিজিটের তারিখই যথেষ্ট।
তীব্র অসুখের পর ফলোআপ
এক বা দুই সপ্তাহ পর আবার রক্তের পরীক্ষা করা সাধারণ নিয়ম। এতে নিশ্চিত হওয়া যায় ক্রিয়েটিনিন সত্যিই স্বাভাবিকে ফিরেছে, নীরবে বেশি থেকে যায়নি। এই ধাপটা বাদ দিলেই কিছু কিডনি সমস্যা মাসের পর মাস ধরা না পড়ে থেকে যায়।
প্রতিটা অসুখের সহজ রেকর্ড রাখুন। তারিখ, কতটা তরল খেয়েছে, প্রস্রাব কখন ফিরে এলো। এই রেকর্ড দেখেই কিডনি বিশেষজ্ঞ বুঝতে পারেন, ঘটনাটি একবারের ছিল নাকি একটি ধারার অংশ।
পানিশূন্যতাজনিত আঘাত থেকে বেশিরভাগ শিশু সম্পূর্ণ সেরে ওঠে। অল্পসংখ্যক শিশুর বিশেষ কিডনি পরীক্ষার জন্য উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফারের প্রয়োজন হতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ডায়রিয়ার পর কত ঘণ্টা প্রস্রাব না হলে দুশ্চিন্তার?
বাবুর ক্ষেত্রে পানি হারানোর সময় ছয় থেকে আট ঘণ্টা ন্যাপি শুকনা থাকলেই সেটা সতর্ক সংকেত। পুরো একদিন অপেক্ষা করবেন না। সেদিনই চিকিৎসা পরামর্শ নিন।
পানিশূন্যতায় শিশুর কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে?
পানি ফিরিয়ে দিলে বেশিরভাগ শিশু পুরোপুরি সেরে ওঠে। মারাত্মক পানিশূন্যতা দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ছাড়া চললে, কিংবা এমন ঘটনা বারবার ঘটলে ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ে।
ডায়রিয়ার জন্য ডাক্তার রক্তের পরীক্ষা দিলেন কেন?
ডায়রিয়ার চিকিৎসা সহজ। রক্তের পরীক্ষা জানায় পানির ঘাটতি কিডনি ও লবণের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে। ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন দেখে বোঝা যায় কিডনি চাপে পড়েছে কিনা।
পানিশূন্যতার আর কী কী লক্ষণ খেয়াল করব?
শুকনা মুখ ও ঠোঁট, বসে যাওয়া চোখ, কাঁদলে চোখে পানি না আসা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুকনা ন্যাপির সঙ্গে এর যেকোনোটি থাকলে সেদিনই দেখানো জরুরি।
অসুখের পর সন্তানের ক্রিয়েটিনিন একটু বেশি এসেছে, এটা কি গুরুতর?
শরীরে পানি ফিরে এলে প্রায়ই কয়েক দিনের মধ্যে স্বাভাবিকে নেমে আসে। এক বা দুই সপ্তাহ পরের ফলোআপ পরীক্ষাই সেরে ওঠা নিশ্চিত করে। এই পরীক্ষাটা বাদ দেবেন না।
সাধারণ শিশু ডাক্তার না দেখিয়ে সরাসরি কিডনি বিশেষজ্ঞ দেখাব কখন?
প্রস্রাব খুব কম থেকে গেলে, শরীর ফুললে, প্রস্রাবের রং গাঢ় হলে, কিংবা শিশু অন্য দিক থেকে সেরে ওঠার পরও কিডনি-সংক্রান্ত পরীক্ষা অস্বাভাবিক থাকলে সরাসরি দেখান। প্রথম পরীক্ষার পর সাধারণ শিশু ডাক্তারও প্রয়োজনে রেফার করতে পারবেন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.