সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - নারায়ণগঞ্জ

জ্বর নামল, ওষুধটাও বন্ধ হয়ে গেল

প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই এমনটা ঘটে। অ্যান্টিবায়োটিকের তিন দিন যেতেই বাচ্চা আবার দৌড়ঝাঁপ করছে। জ্বর নেই। বাকি সিরাপ ফ্রিজে পড়ে থাকে। দুই-এক ডোজ বাদ গেলে ক্ষতি কী, এমনটাই মনে হয়। দুই সপ্তাহ পর জ্বর ফিরে এলো। এবার আগের ওষুধে কাজও হচ্ছে ধীরে।

জ্বর নামা মানে ওষুধ কাজ করছে। ইনফেকশন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে, তা নয়। অর্ধেক কোর্সে বেঁচে যাওয়া জীবাণু আবার বাড়তে পারে। তখন প্রথম ওষুধটায় সাড়া নাও মিলতে পারে, চিকিৎসা কঠিন হয়ে যায়। এই ভুলটা ভালোবাসা থেকেই হয়, অবহেলা থেকে নয়।

বারবার প্রস্রাবের ইনফেকশন নিয়ে আসা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ এই ছবিটা প্রায়ই দেখেন। সমাধান প্রতিবার আরও শক্তিশালী ওষুধ নয়। সঠিক ওষুধ, পুরো দিনের কোর্স, তারপর প্রস্রাব পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যে ইনফেকশন সত্যিই গেছে।

চিকিৎসার পরও বাচ্চার জ্বর ফিরে এলে নারায়ণগঞ্জের ডাক্তারদের তালিকা দেখুন। বাকি ওষুধ নিজে থেকে আবার শুরু না করে একজন নারায়ণগঞ্জের শিশু বিশেষজ্ঞ দেখান। মনে রাখবেন, আগের বাকি ওষুধ নতুন জ্বরে কাজে নাও লাগতে পারে।

3 available specialists found

Dr. Abdul Latif Renu

Qualifications MBBS, MD (Nephrology)
অবস্থান বন্দর, নারায়ণগঞ্জ

Dr. Ariful Islam Majumder

Qualifications MBBS, BCS (Health), MD (Nephrology)
অবস্থান নারায়ণগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ

Dr. Mohammad Ashikur Rahman Khan

Qualifications MBBS, FCPS (Medicine), MD (Nephrology), CCD (BIRDEM)
অবস্থান নারায়ণগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ

ফলোআপ প্রস্রাব পরীক্ষাটা চিকিৎসারই অংশ

জ্বর সেরে যাওয়ার পর, কোর্স শেষ হওয়ার পরও ডাক্তার আবার প্রস্রাব পরীক্ষা দিলে অনেকেই অবাক হন। এই পরীক্ষাটা শুধু নিয়ম রক্ষা নয়। ইনফেকশন পুরোপুরি গেছে, নাকি কয়েক সপ্তাহের জন্য চুপ করে আছে, তা জানার উপায় এটাই।

রুটিন পরীক্ষায় বোঝা যায় পুঁজের কোষ বা রক্ত এখনো আছে কিনা। ডাক্তার চাইলে কালচারে নিশ্চিত হওয়া যায়, কোনো জীবাণু এখনো বাড়ছে কিনা। রিপোর্ট পরিষ্কার হলে নিশ্চিন্ত। না হলে লক্ষণ ফেরার আগেই পরিকল্পনা বদলানো যায়।

ইনফেকশন ফিরে এলে কারণ খুঁজতে হয়

একবার প্রস্রাবের ইনফেকশন শিশুদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু বারবার হলে তা আলাদা। তখন শুধু আরেকটা প্রেসক্রিপশন নয়, কারণটা খুঁজতে হয়।

কারো কারো জন্ম থেকেই কিডনি বা প্রস্রাবের নালির গঠনে পার্থক্য থাকে। প্রস্রাব জমে থাকতে পারে, উল্টো দিকেও ফিরতে পারে। জীবাণু বারবার সুযোগ পায়। আলট্রাসনোগ্রাম দিয়েই সাধারণত এই যাচাই শুরু হয়। রক্তের ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন দেখে বোঝা যায় কিডনি নিজে কতটা ভালো কাজ করছে। ভিজিটে রক্তচাপও মাপা হয়। কারণ কিডনির সমস্যায় রক্তচাপ কোনো লক্ষণ ছাড়াই বেড়ে থাকতে পারে।

শুধু ইনফেকশন নয়, আরও যেসব কাজ এই বিশেষজ্ঞের

নেফ্রোটিক সিনড্রোমের চিকিৎসাও শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ করেন। এতে প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যায়, মুখ ফুলে ওঠে, সকালে চোখের চারপাশে ফোলাটা বেশি চোখে পড়ে। গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস হলো কিডনির ভেতরের প্রদাহ। এতে প্রস্রাবের রং ধোঁয়াটে বা চায়ের মতো হতে পারে।

ছয়-সাত বছর পেরিয়েও বিছানা ভেজানো চললে অনেকে পরামর্শ নিতে আসেন। আবার স্ক্যানে ধরা পড়া কিডনির গঠনগত পার্থক্যের জন্যও নিয়মিত রিভিউ লাগতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ নয়, শুধু পর্যবেক্ষণ আর মাঝে মাঝে পরীক্ষাই যথেষ্ট।

সঙ্গে যা যা আনবেন

প্রেসক্রিপশন আনুন। ওষুধের প্যাকেটটা থাকলে সেটাও আনুন। ইনফেকশন ফিরে এলে ওষুধের ঠিক নাম আর ডোজটা খুব জরুরি। আগের সব প্রস্রাবের রিপোর্ট, আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট থাকলে তাও আনুন। বৃদ্ধি বা টিকার রেকর্ড থাকলে সঙ্গে রাখুন।

একটা সাধারণ খাতা রাখলেও উপকার হয়। প্রতিটা জ্বরের তারিখ, কোন ওষুধ দেওয়া হলো, কোর্সের কতদিন আসলে খাওয়ানো হলো, লিখে রাখুন। নিখুঁত মনে রাখার চেয়ে সত্যি লেখা নোট ডাক্তারের অনেক বেশি কাজে লাগে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

জ্বর নেমে গেছে। তবু পুরো কোর্স শেষ করতে হবে কেন?

ভালো লাগা মানে ওষুধ কাজ করছে। সব জীবাণু শেষ হয়ে গেছে, তা নয়। আগেই বন্ধ করলে সবচেয়ে শক্ত জীবাণুগুলো বেঁচে যায়। তারাই আবার ইনফেকশন ফিরিয়ে আনে।

চিকিৎসার পর প্রস্রাব পরীক্ষায় আসলে কী বোঝা যায়?

লক্ষণ চলে যাওয়ার পরও ইনফেকশন আছে কিনা, তা বোঝা যায়। রিপোর্ট পরিষ্কার হলে বোঝা যায় সেরে গেছে। পজিটিভ এলে জ্বর ফেরার আগেই ডাক্তার ব্যবস্থা নিতে পারেন।

ইনফেকশন ফিরে এসেছে। একই ওষুধে আবার কাজ হবে?

সবসময় হয় না। অর্ধেক কোর্স পাওয়া জীবাণু সেই ওষুধে প্রতিরোধী হয়ে যেতে পারে। প্রস্রাবের কালচারে জীবাণুটা ধরা পড়ে, কোন ওষুধে এখনো সাড়া মেলে তাও জানা যায়।

বারবার ইনফেকশনের পর ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাম দেন কেন?

বারবার ইনফেকশনের পেছনে কিডনি বা প্রস্রাবের নালির গঠনগত পার্থক্য থাকতে পারে। আলট্রাসনোগ্রামে ব্যথা নেই, ভেতরের অবস্থাটার প্রথম ধারণা এতে পাওয়া যায়।

বাচ্চা এক ডোজ ওষুধ বমি করে ফেললে কী করব?

সময়টা মনে রাখুন। পরের ডোজের আগে ডাক্তারকে জানান বা জিজ্ঞেস করে নিন। নিজে থেকে পরের ডোজ দ্বিগুণ করবেন না। কোর্সের মেয়াদও নিজে বাড়াবেন না।

নেফ্রোটিক সিনড্রোমের চিকিৎসা কতদিন চলে?

বাচ্চাভেদে আলাদা। অনেক সময় সপ্তাহ বা মাস ধরে ওষুধ চলে, মাঝে মাঝে প্রস্রাব পরীক্ষা আর রিভিউ হয়। এই সমস্যায়ও ওষুধ আগেই বন্ধ করলে ফোলা ফিরে আসতে পারে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.