সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - ময়মনসিংহ
বাবু কথা বলতে পারে না, কষ্টটা বুঝবেন কীভাবে
সাত মাসের বাবু তো বলতে পারে না, প্রস্রাবের সময় জ্বালা করে কিনা। শুধু কাঁদে। সন্ধ্যায় জ্বর ওঠে, সকালে নেমে যায়। দুদিন পর আবার জ্বর। দুধ খেতে চায় না, খেলেও দুই-এক চুমুক। ন্যাপি বদলাতে গিয়ে দেখলেন, প্রস্রাব করার সময় কান্নাটা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
ছোট বাচ্চাদের প্রস্রাবের ইনফেকশন অনেক সময় ঠিক এভাবেই আসে। পরিষ্কার কোনো অভিযোগ থাকে না। ঠান্ডা-কাশি ছাড়া জ্বর, খাওয়ায় অনীহা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা খিটখিটে মেজাজ। কখনো প্রস্রাবের গন্ধটা একটু বেশি তীব্র হওয়াই একমাত্র লক্ষণ।
লক্ষণ অস্পষ্ট বলেই প্রস্রাব পরীক্ষাটা এত জরুরি। রুটিন পরীক্ষা আর কালচারে ইনফেকশন আছে কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়, শুধু শরীর দেখে যা সবসময় বোঝা যায় না। সময়মতো চিকিৎসা হলে বাড়ন্ত কিডনি সুরক্ষিত থাকে। জ্বর বারবার এলেই একবার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া নিরাপদ।
বাবুর জ্বর বারবার ফিরে এলে অনুমান করে বসে থাকবেন না। ময়মনসিংহের ডাক্তারদের তালিকা দেখুন, অথবা একজন ময়মনসিংহের শিশু বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে প্রথম প্রস্রাব পরীক্ষাটা করিয়ে নিন। প্রথম পরীক্ষাটা যত তাড়াতাড়ি হবে, চিকিৎসাও তত সহজ হবে।
9 available specialists found
Dr. Syed Hasanul Islam (Akash)
Dr. Tridip Kanti Barman
Dr. Omar Faruque Miah
Dr. Samir Kumar Das
Dr. Md. Billal Hossain
Prof. Dr. Ashutosh Saha Roy
Dr. Mohammad Asaduzzaman (Ratan)
Dr. Abu Zafor Md. Salahuddin
Dr. Nitai Chandra Roy
ইনফেকশন বারবার ফিরে এলে কারণ খুঁজতে হয়
একবারের ইনফেকশন ঠিকমতো চিকিৎসা পেলে সাধারণত সেরে যায়। দুশ্চিন্তা শুরু হয় যখন তা ফিরে আসে। শিশু বা ছোট বাচ্চার দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার ইনফেকশন মানেই কারণ খোঁজার সংকেত। একই ওষুধ বারবার দেওয়াই যথেষ্ট নয়।
কারণটা অনেক সময় প্রস্রাবের তন্ত্রের ভেতরেই থাকে। কারো কারো জন্ম থেকেই কিডনি বা প্রস্রাবের নালির গঠনে ছোটখাটো পার্থক্য থাকে। ফলে প্রস্রাব ঠিকমতো বের হতে পারে না, জীবাণু বারবার বাড়ার সুযোগ পায়। আলট্রাসনোগ্রাম দিয়েই সাধারণত এই খোঁজ শুরু হয়।
এই বিশেষজ্ঞ আরও যেসব সমস্যা দেখেন
সব ভিজিট ইনফেকশন নিয়ে নয়। নেফ্রোটিক সিনড্রোমে কিডনি দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে প্রস্রাবে চলে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাচ্চার চোখের চারপাশ ফোলা দেখা যায়, প্রস্রাবে ফেনাও হতে পারে।
গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস হলো কিডনির ভেতরের প্রদাহ। এতে প্রস্রাবের রং চায়ের মতো বা ধোঁয়াটে হতে পারে, রক্তচাপও বাড়তে পারে। আবার গর্ভাবস্থার স্ক্যানে কিডনির পার্থক্য ধরা পড়লে অনেক বাচ্চাকে জন্মের পর থেকেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
বিছানা ভেজানো নিয়েও অনেক পরিবার আসেন। বাচ্চা ছয়-সাত বছর পেরিয়েও প্রায় প্রতি রাতেই বিছানা ভেজালে একবার দেখানো ভালো। অনেক সময়ই এটা কিডনির সমস্যা নয়। তবু প্রস্রাব পরীক্ষা করে ইনফেকশন নেই, এটুকু নিশ্চিত হওয়া যায়।
চেম্বারে যেসব পরীক্ষা হতে পারে
ডাক্তার জ্বরের ধরন, খাওয়া-দাওয়া আর প্রস্রাবের অভ্যাস নিয়ে জিজ্ঞেস করবেন। ছোট বাচ্চারও রক্তচাপ মাপা হবে, অবাক হবেন না। কিডনির সমস্যায় রক্তচাপ বাইরে কোনো লক্ষণ ছাড়াই বেড়ে থাকতে পারে।
মূল পরীক্ষা হলো প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা আর কালচার। রক্তের ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন দেখে বোঝা যায় কিডনি কতটা ভালো কাজ করছে। আলট্রাসনোগ্রামে কিডনির আকার ও গঠন দেখা হয়, এতে কোনো ব্যথা নেই।
কী কী সঙ্গে আনবেন, ফলোআপ কেন জরুরি
আগের সব প্রস্রাবের রিপোর্ট সঙ্গে আনুন, নরমাল রিপোর্টগুলোও। কোন জ্বর কবে এসেছিল, কোন ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, লিখে রাখুন। আগের আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট থাকলে তাও আনুন। টিকার কার্ড বা বৃদ্ধির রেকর্ড থাকলে ডাক্তারের কাজ সহজ হয়।
কিডনির চিকিৎসা এক ভিজিটে শেষ হয় না। চিকিৎসার পর আবার প্রস্রাব পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়, ইনফেকশন সত্যিই গেছে কিনা। নেফ্রোটিক সিনড্রোম বা জানা কিডনি সমস্যা থাকলে মাসের পর মাস রিভিউ লাগতে পারে। বাচ্চা পুরোপুরি সুস্থ দেখালেও ফলোআপের তারিখ মিস করবেন না। পরীক্ষায় জটিল কিছু ধরা পড়লে উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা লাগতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বাবুর জ্বর আছে, ঠান্ডা-কাশি নেই। প্রস্রাবের ইনফেকশন হতে পারে?
হতে পারে। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট কারণ ছাড়া জ্বরের পেছনে প্রস্রাবের ইনফেকশনই অনেক সময় থাকে। নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় প্রস্রাব পরীক্ষা।
ন্যাপি পরা বাবুর প্রস্রাবের নমুনা কীভাবে নেব?
ডাক্তার বা ল্যাব থেকে পদ্ধতিটা জেনে নিন। সাধারণত পরিষ্কার কালেকশন ব্যাগ বা জীবাণুমুক্ত পাত্রে সরাসরি নমুনা নেওয়া হয়। ন্যাপি চিপে প্রস্রাব নিলে নমুনা নষ্ট হয়ে যায়, ওটা করবেন না।
রুটিন পরীক্ষার পাশাপাশি কালচার লাগে কেন?
রুটিন পরীক্ষায় ইনফেকশনের ইঙ্গিত মেলে। কালচারে আসল জীবাণুটা ধরা পড়ে, কোন ওষুধে কাজ হবে তাও জানা যায়। বারবার ইনফেকশন হলে এই তথ্যটাই সবচেয়ে দরকারি।
প্রস্রাবের ইনফেকশনে বাবুর কিডনির ক্ষতি হতে পারে?
সময়মতো চিকিৎসা পেলে সাধারণত স্থায়ী ক্ষতি হয় না। কিন্তু বারবার হওয়া বা অবহেলিত ইনফেকশন ধীরে ধীরে কিডনিতে দাগ ফেলতে পারে। তাই ফিরে আসা ইনফেকশনকে ডাক্তার গুরুত্ব দেন।
নেফ্রোটিক সিনড্রোম সহজ করে বললে কী?
এটা কিডনির এক ধরনের সমস্যা, যেখানে প্রোটিন প্রস্রাব দিয়ে বেরিয়ে যায়। শরীরে বাড়তি পানি জমে মুখ ও শরীর ফুলে ওঠে। এতে শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞের দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ লাগে।
বিছানা ভেজানো নিয়ে কখন চিন্তা করব?
বেশিরভাগ বাচ্চা নিজে নিজেই ছেড়ে দেয়। ছয়-সাত বছর পেরিয়েও প্রায় প্রতি রাতে ভেজালে একবার ডাক্তারকে জানান। প্রস্রাব পরীক্ষায় ইনফেকশন বা অন্য কারণ আছে কিনা বোঝা যাবে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.