সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - লক্ষ্মীপুর

ফোলাটা কমে গিয়েছিল, আবার ফিরে এলো

সকালে নাশতার টেবিলেই চোখে পড়ে। চোখের পাতা দুটো ফোলা ফোলা, ঠিক যেমনটা কয়েক মাস আগে ছিল। ওষুধ শুরু হওয়ার আগের সেই চেহারা। সন্ধ্যা নাগাদ মুখটা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু পরদিন সকালে ফোলা আবার, আগের দিনের চেয়ে একটু বেশি।

নেফ্রোটিক সিনড্রোমে ভোগা শিশুর ক্ষেত্রে এই ধারাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই রোগে কিডনি দিয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বেরিয়ে যায়। তখন শরীরে পানি জমতে থাকে, আর ফোলা প্রথম দেখা যায় মুখে, সকালে চোখের চারপাশে। চিকিৎসায় কাজ হলে ফোলা মিলিয়ে যায়। রোগটা আবার মাথা তুললে প্রথম ইঙ্গিতটা আসে এই ফোলা দিয়েই, যেটা বাড়িতে বসেই দেখা যায়।

অভিভাবকরা ধীরে ধীরে ছোট ছোট বদল খেয়াল করতে শেখেন। জুতা হঠাৎ টান টান লাগা। মোজার দাগ পায়ে গভীর হয়ে বসা। খাওয়া না বদলালেও দুই-তিন দিনে ওজন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া। আলাদা করে কোনোটাই প্রমাণ নয়। কিন্তু একসঙ্গে দেখা দিলে আরও এক সপ্তাহ দেখা যাক ভাবা ঠিক নয়, আগেই জানানো ভালো।

ডাক্তারকে বলুন কবে প্রথম খেয়াল করেছেন, আর সঙ্গে আর কী বদলেছে। সম্প্রতি সর্দি বা জ্বর হয়েছিল কিনা। প্রস্রাবে আবার ফেনা দেখা যাচ্ছে কিনা। কেউ কেউ বাড়িতে ডিপস্টিক দিয়ে প্রস্রাবে প্রোটিন দেখেন। তবে সেটা করবেন তখনই, যখন ডাক্তার নিজে পরামর্শ দিয়েছেন এবং ফল পড়তে শিখিয়ে দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ খুঁজতে হলে লক্ষ্মীপুরের ডাক্তারদের তালিকা থেকে শুরু করতে পারেন।

0 available specialists found

🏜️

No Specialists Found

We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.

রোগটা আবার ফিরলে যেভাবে বোঝা যায়

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফোলা একবারে বাড়ে না। প্রথমে সকালে চোখের পাতা সামান্য ফোলে, বিকেলে মিলিয়ে যায়। দুই-এক দিন পর ফোলা বেশিক্ষণ থেকে যায়। এরপর পা আর পেটেও পানি জমতে শুরু করতে পারে।

ওজন এই সময়ে অনেকটা বলে দেয়। শরীরে জমা পানি ভারী। খাওয়া একই থাকলেও কয়েক দিনে ওজন চোখে পড়ার মতো বেড়ে যেতে পারে। তাই নেফ্রোটিক সিনড্রোমের শিশুদের বাবা-মাকে ডাক্তার অনেক সময় নিয়মিত ওজন মেপে লিখে রাখতে বলেন।

রোগ ফেরার ঠিক আগে অনেক শিশুর সর্দি, জ্বর বা অন্য কোনো ইনফেকশন হয়। সেটা সামান্য মনে হলেও ভিজিটে বলুন। সময়টা মিলিয়ে দেখলে ডাক্তারের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।

বাড়িতে যেভাবে খেয়াল রাখবেন

প্রতিদিন সকালে চোখের দিকে তাকান। ফোলা সবচেয়ে পরিষ্কার বোঝা যায় এই সময়টাতেই। পায়ের হাড়ের ওপর আঙুল দিয়ে কয়েক সেকেন্ড চেপে ধরুন। গর্ত থেকে গেলে বুঝবেন পানি জমছে।

কোনো কোনো পরিবার বাড়িতে প্রস্রাবের ডিপস্টিক ব্যবহার করেন। এটা কাজে লাগে তখনই, যখন ডাক্তার নিজে বলেছেন এবং রঙ মিলিয়ে ফল পড়তে শিখিয়ে দিয়েছেন। ভুল পড়লে অযথা ভয় পাবেন, কিংবা নিশ্চিন্ত থাকবেন যখন ফোন করা উচিত ছিল।

একটা খাতায় সব লিখে রাখুন। সকালের ওজন, ফোলার কথা, ডিপস্টিকের ফল যদি ডাক্তার দেখতে বলে থাকেন, আর জ্বর বা অসুখ হলে তার তারিখ। ফলোআপে খাতাটা সঙ্গে নিন।

শুধু নেফ্রোটিক সিনড্রোমই নয়

শরীর ফোলা মানেই সবসময় নেফ্রোটিক সিনড্রোম নয়। গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস নামের কিডনির প্রদাহেও মুখ ফুলতে পারে। সেখানে অনেক সময় চায়ের রঙের প্রস্রাব হয় আর রক্তচাপ বেড়ে থাকে। বারবার প্রস্রাবের ইনফেকশন, জন্ম থেকে থাকা কিডনির ত্রুটি, ছয়-সাত বছর পেরিয়েও বিছানা ভেজানো, এসবও এই বিশেষজ্ঞই দেখেন।

ভিজিটে সাধারণত প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা ও কালচার করা হয়। রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন দেখা হয়, রক্তচাপ মাপা হয়। কিডনির গঠন দেখতে আলট্রাসনোগ্রামও লাগতে পারে। সমস্যাটা কিডনির কিনা নিশ্চিত না হতে পারলে একজন লক্ষ্মীপুরের শিশু বিশেষজ্ঞ প্রথমে দেখে সঠিক দিকটা দেখিয়ে দিতে পারবেন।

কখন অপেক্ষা না করে যোগাযোগ করবেন

ফোলা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রস্রাব স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেলেও তাই। শ্বাসকষ্ট, পেট বেশি ফুলে যাওয়া, কিংবা এক-দুই দিনে হঠাৎ অনেকটা ওজন বেড়ে যাওয়া, এসবেও দেরি করা ঠিক নয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা বদলে দিলেই ফোলা আবার নিয়ন্ত্রণে আসে। শিশুকে দেখে পুরোপুরি সুস্থ মনে হলেও ফলোআপ চালিয়ে যেতে হয়। কারণ ফোলা ফেরার আগেই প্রস্রাবে প্রোটিন ফিরে আসতে পারে। অল্প কিছু শিশুর ক্ষেত্রে আরও পরীক্ষা বা চিকিৎসার জন্য উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ফোলাটা রোগের ফেরা কিনা, বুঝব কীভাবে?

বাড়িতে বসে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না। নেফ্রোটিক সিনড্রোমের শিশুর সকালে চোখ ফোলা আর দ্রুত ওজন বাড়া একসঙ্গে হলে ফেরার আশঙ্কা বেশি। প্রস্রাবে প্রোটিনের পরীক্ষাই নিশ্চিত করে।

ভিজিটের মাঝখানে বাড়িতে কী খেয়াল রাখব?

প্রতিদিন সকালে চোখের দিকে তাকান। নিয়মিত ওজন মেপে লিখে রাখুন। জুতা বা মোজা হঠাৎ টান লাগছে কিনা, সেটাও খেয়াল করুন।

বাড়িতে প্রস্রাবের ডিপস্টিক ব্যবহার করা উচিত?

শুধু ডাক্তার পরামর্শ দিলে। ঠিকভাবে শিখে নিলে প্রোটিন বাড়াটা আগেভাগে ধরা পড়ে। না শিখে করলে ফল ভুল পড়ার আশঙ্কা থাকে।

রোগ ফিরে আসা মানেই কি চিকিৎসা ব্যর্থ?

না। অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই নেফ্রোটিক সিনড্রোম মাঝে মাঝে ফিরে আসে। তখন ওষুধের মাত্রা ঠিক করে দেওয়া হয়, ফলোআপে প্রোটিন আবার কমে আসে সাধারণত।

দুই দিনে সন্তানের ওজন হঠাৎ বেড়ে গেল, এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

দ্রুত ওজন বাড়া সাধারণত শরীরে পানি জমার লক্ষণ। ফোলা চোখে পড়ার আগেই ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই আগেভাগে ডাক্তারকে জানান।

কোন অবস্থায় সেদিনই ডাক্তারকে জানাব?

ফোলা দ্রুত ছড়ালে, প্রস্রাব অনেক কমে গেলে, কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে। হঠাৎ অনেকটা ওজন বেড়ে গেলেও সেদিনই ফোন করা উচিত।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.