সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - কুষ্টিয়া

রাতে বারবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে ওঠা

রাত দুইটা। আবার ছোট পায়ের শব্দ। আপনার সন্তান ঘুম থেকে উঠে বাথরুমের দিকে যাচ্ছে। আজ রাতে এই নিয়ে তৃতীয়বার। সকালে চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ, স্কুলে যাওয়ার আগেই হাই উঠছে।

মাঝে মাঝে এমন হলে চিন্তার কিছু নেই। ঘুমানোর আগে এক গ্লাস বেশি পানি খেলেই এমন হতে পারে। কিন্তু রাতের পর রাত যদি একই ঘটনা ঘটে, আর প্রস্রাবের পরিমাণও বেশি হয়, তাহলে কারণটা খুঁজে দেখা দরকার।

সুস্থ কিডনি ঘুমের সময় প্রস্রাব তৈরির গতি কমিয়ে দেয়। প্রস্রাব ঘন করে রাখে, যাতে সকাল পর্যন্ত মূত্রথলিতে ধরে রাখা যায়। এই ছন্দটা ভেঙে গেলে কারণ থাকতে পারে কিডনিতে কিংবা প্রস্রাবের নালিতে। ইনফেকশন থেকেও এমন হয়। কিডনি ঠিকমতো প্রস্রাব ঘন করতে না পারলেও হয়।

শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ শুধু রাতের ঘটনা দেখেন না। তিনি পুরো চিত্রটা দেখেন। দিনে কতবার প্রস্রাব হয়, পানি কতটুকু খাওয়া হয়, জ্বালাপোড়া বা জ্বর আছে কিনা, বিছানা ভেজে কিনা। কয়েকটা সহজ পরীক্ষাতেই বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর মিলে যায়।

ডাক্তার খুঁজতে কুষ্টিয়ার ডাক্তারদের তালিকা দেখতে পারেন। যাওয়ার সময় কয়েক রাতের হিসাব লিখে নিয়ে গেলে ডাক্তারের জন্য বুঝতে সুবিধা হবে।

1 available specialists found

Dr. ASM Farhad Khan

Qualifications MBBS, BCS (Health), MD (Nephrology)
অবস্থান সাভার, ঢাকা

রাতে বারবার প্রস্রাব করতে ওঠা কীসের লক্ষণ হতে পারে

সবচেয়ে সাধারণ কারণটা একদম সাধারণ। সন্ধ্যার পর বেশি পানি বা তরল খাওয়া। আবার কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলেও মূত্রথলির ওপর চাপ পড়ে। জায়গা কমে যাওয়ায় রাতে বারবার উঠতে হয়।

কিছু লক্ষণ থাকলে বিষয়টা আলাদা। প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, জ্বর, কোমর বা তলপেটে ব্যথা থাকলে ইনফেকশনের কথা ভাবতে হয়। মুখ বা চোখ ফুলে গেলে, প্রস্রাবে ফেনা দেখা দিলে কিংবা রঙ বদলে গেলে কিডনির সমস্যা থাকতে পারে।

আরেকটা বিষয় খেয়াল করুন। রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বেশি, সঙ্গে দিনেও ঘন ঘন প্রস্রাব আর অতিরিক্ত পিপাসা থাকলে ডাক্তার রক্তে সুগারসহ আরও পরীক্ষা করতে পারেন। সব রাতজাগার কারণ কিডনি নয়। তাই পরীক্ষা ছাড়া সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়।

ডাক্তার যেসব পরীক্ষা করেন

প্রথমে আসে প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা আর কালচার। রুটিন পরীক্ষায় প্রোটিন, রক্ত বা পুঁজ আছে কিনা বোঝা যায়। কালচারে ধরা পড়ে কোন জীবাণু ইনফেকশন করেছে, সেই অনুযায়ী ওষুধ বাছাই করা যায়।

রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন দেখে কিডনি কতটা কাজ করছে তার ধারণা মেলে। আলট্রাসনোগ্রামে কিডনি ও মূত্রথলির গঠন দেখা হয়। জন্ম থেকে থাকা কোনো ত্রুটি অনেক সময় এতেই প্রথম ধরা পড়ে। ভিজিটে রক্তচাপও মাপা হয়। শিশুদের কিডনির সমস্যায় রক্তচাপ বেড়ে থাকতে পারে, আর সেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।

ভিজিটের আগে কী লিখে রাখবেন

তিন-চার দিনের একটা ছোট হিসাব রাখুন। রাতে কতবার উঠল, সন্ধ্যায় কতটা তরল খেল, বিছানা ভিজল কিনা। দিনে কতবার প্রস্রাব হয়, সেটাও পাশে লিখে রাখুন।

সঙ্গে নিন আগের সব রিপোর্ট আর প্রেসক্রিপশন। ওজন আর উচ্চতার পুরনো রেকর্ড থাকলে তাও নিন। মাসের পর মাস বৃদ্ধি কমে যাওয়া কিডনির সমস্যার নীরব লক্ষণ হতে পারে। পুরনো হিসাব থাকলে ডাক্তার ধারাটা সহজে বুঝতে পারেন। প্রথমে সাধারণ শিশু ডাক্তার দেখাতে চাইলে কুষ্টিয়ার শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা থেকে শুরু করতে পারেন।

ফলোআপ কেন জরুরি

একবারের ভিজিটে সবসময় পুরো চিত্রটা পরিষ্কার হয় না। চিকিৎসার পর আবার প্রস্রাব পরীক্ষা করে দেখা হয় ইনফেকশন সত্যিই গেল কিনা। বারবার ইনফেকশন হলে কারণ খোঁজা আরও জরুরি হয়ে পড়ে। চিকিৎসা ছাড়া থেকে গেলে ধীরে ধীরে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

চিকিৎসা চলাকালীন নতুন কিছু দেখা দিলে পরের ভিজিটের অপেক্ষায় থাকবেন না। জ্বর এলে, প্রস্রাব অনেক কমে গেলে বা শরীর ফুলে উঠলে আগেই যোগাযোগ করুন। কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তার উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করতে পারেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাচ্চা রাতে তিন-চারবার প্রস্রাব করতে ওঠে, এটা কি স্বাভাবিক?

মাঝে মাঝে হলে স্বাভাবিক, বিশেষ করে সন্ধ্যায় বেশি পানি খেলে। কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ প্রায় প্রতি রাতেই হলে পরীক্ষা করানো উচিত। সাধারণত প্রস্রাব পরীক্ষা দিয়েই শুরু হয়।

শুধু পানি বেশি খাওয়ার কারণেও কি এমন হতে পারে?

হতে পারে। এক সপ্তাহ তরলের বেশিরভাগটা দিনের বেলায় খাইয়ে দেখুন। তাতেও রাতে ওঠা না কমলে কারণটা সম্ভবত অন্য কিছু।

প্রথমে কোন পরীক্ষাগুলো করা হয়?

সাধারণত প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা ও কালচার। সঙ্গে রক্তে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, আলট্রাসনোগ্রাম আর রক্তচাপ মাপা হয় অনেক ক্ষেত্রে।

রাতে ঘুম ভেঙে ওঠা আর বিছানা ভেজানো কি একই সমস্যা?

না। যে বাচ্চা ঘুম ভেঙে উঠে বাথরুমে যায়, সে ঘুমের মধ্যে বিছানা ভেজানো বাচ্চার থেকে আলাদা। দুটোই ডাক্তারকে বলুন, কারণ কারণ দুটোর আলাদা হতে পারে।

প্রস্রাবের ইনফেকশন থেকে কি রাতে বারবার উঠতে হয়?

হয়। ইনফেকশন হলে মূত্রথলি অল্পতেই ভরে যাওয়ার অনুভূতি দেয়। সঙ্গে জ্বালাপোড়া, জ্বর বা ঘোলা প্রস্রাব থাকলে ইনফেকশনের সম্ভাবনা আরও বাড়ে।

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে কী লিখে রাখব?

কোন রাতে কতবার উঠল, সন্ধ্যায় কতটা পানি খেল, তা লিখুন। জ্বর, জ্বালাপোড়া বা বিছানা ভেজার কথাও যোগ করুন। নিখুঁত চার্টের চেয়ে সত্যি কয়েকটা লাইন বেশি কাজে লাগে।

Ad

Sponsor Space Available

Place your banner here to reach thousands of patients daily.

Sponsored

Grow Your Practice

Premium placement for hospitals & doctors.