সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - জামালপুর
একটা খাতাই মনে করিয়ে দেয় ভুলে যাওয়া তারিখগুলো
চেম্বারে ডাক্তার একটা সহজ প্রশ্ন করেন। এই বছর জ্বরটা কতবার ফিরে এসেছে? আপনি থমকে যান। দুবার? তিনবার? প্রতিটা পর্ব ঘরোয়া যত্ন আর ফার্মেসির ওষুধে গুলিয়ে গেলে তারিখ মনে রাখা সত্যিই কঠিন।
সাধারণ একটা খাতা এই সমস্যার সমাধান করে দেয়। তারিখ লিখুন, জ্বর সর্বোচ্চ কত উঠেছিল তা লিখুন, প্রস্রাব পরীক্ষায় কী এসেছিল তাও। কোন ওষুধ কতদিন চলেছে, সেটাও ছোট করে নোট করুন। খাতাটা রিপোর্টের ফাইলের সঙ্গেই রাখুন। পুরনো রিপোর্ট থাকলে সেগুলোও একই ফাইলে গুছিয়ে রাখুন। কয়েকটা পর্ব লিখলেই এমন একটা ধাঁচ চোখে পড়বে, যা শুধু মনে করে বলা সম্ভব নয়।
জামালপুরে শিশুদের কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর একটা বড় কারণ বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ। এই ডায়েরি দেখেই ডাক্তার বুঝতে পারেন সংক্রমণ আসলেই বারবার হচ্ছে কি না, আর কতটা ঘন ঘন হচ্ছে।
জ্বর ফিরে এলে প্রথম পরীক্ষার জন্য জামালপুরের ডাক্তারদের কাছে যান। তারপর একজন জামালপুরের শিশু বিশেষজ্ঞ দেখে বলতে পারবেন এই ধাঁচে কিডনিকেন্দ্রিক যত্ন লাগবে কি না।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
ডায়েরি দেখে ডাক্তার যা বুঝতে পারেন
তারিখগুলো পুরো চিত্র বদলে দেয়। চার মাসে তিনবার সংক্রমণ আর তিন বছরে তিনবার সংক্রমণ এক কথা নয়। খাতায় পর্বগুলোর ব্যবধান স্পষ্ট থাকে। প্রতিবার পরীক্ষা করে চিকিৎসা হয়েছে, নাকি অন্ধভাবে ওষুধ চলেছে, তাও বোঝা যায়।
কোন কোন ওষুধ দেওয়া হয়েছিল তাও তালিকায় থাকে। একই অ্যান্টিবায়োটিক বারবার এলে ডাক্তার বুঝতে পারেন জীবাণুটা হয়তো আর তাতে সাড়া দিচ্ছে না। পাশে কালচার রিপোর্ট থাকলে উত্তর মিলে যায়।
ছোট নোটও রাখুন: প্রস্রাবে জ্বালা, ঘোলা বা চায়ের রঙের প্রস্রাব। প্রতিটা পর্বে দুই লাইনই যথেষ্ট।
শুধু সংক্রমণ নয়, আরও যেসব সমস্যা দেখা হয়
সব শিশু জ্বর নিয়েই আসে না। কারো মুখ ও শরীর ফুলে যায়, এটা নেফ্রোটিক সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে, যেখানে প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যায়। কারো প্রস্রাবে রক্ত আসে গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস থেকে, সঙ্গে রক্তচাপও বেশি থাকে।
স্ক্যানে কখনো দেখা যায় জন্মের আগেই কিডনি বা প্রস্রাবের নালির গঠন একটু আলাদা হয়েছে। এসব শিশু সম্পূর্ণ ভালো বোধ করলেও পর্যবেক্ষণ লাগে, কারণ কিডনির কর্মক্ষমতা বছরের পর বছর নীরবে কমতে পারে।
ছয়-সাত বছর পেরিয়েও বিছানা ভেজানো চললে তাও ডায়েরিতে লিখুন। কোন রাতে ভিজল, খেয়াল করুন।
যেসব পরীক্ষা সাধারণত করানো হয়
প্রথমে প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা আর কালচার। রক্তের ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনে বোঝা যায় কিডনি কতটা কাজ করছে। আলট্রাসনোগ্রামে কিডনি আর মূত্রথলি দেখা হয়। ভিজিটে রক্তচাপও মাপা হয়, কারণ শিশুদের কিডনির সমস্যায় রক্তচাপ লক্ষণ ছাড়াই বেড়ে থাকতে পারে।
বেশিরভাগ শিশুর চিকিৎসা ওষুধ আর পরিকল্পিত ফলোআপেই চলে। অল্প কিছু ক্ষেত্রে বায়োপসি বা বিশেষ স্ক্যান লাগতে পারে, সেগুলোর জন্য উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে।
যেসব লক্ষণে দেরি করা যাবে না
শিশুর মুখ বা শরীর ফুলে গেলে অপেক্ষা করবেন না। প্রস্রাবে ফেনা, চায়ের মতো রং, কিংবা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম প্রস্রাব হলেও দ্রুত দেখান। ছোট শিশুর জ্বরের সঙ্গে বমি আর প্রস্রাবে ব্যথা থাকলে সেদিনই দেখানো উচিত। মাসের পর মাস বাড়ন কম থাকলেও একবার পরীক্ষা করান।
ডাক্তার বাছাই আর প্রস্তুতি
এমন ডাক্তার বাছুন যিনি নিয়মিত শিশুদের কিডনি ও প্রস্রাবের রোগী দেখেন, আর আপনার ডায়েরিটা মন দিয়ে পড়েন। প্রস্রাবের পরীক্ষা আর আলট্রাসনোগ্রাম কাছাকাছি করানো যায় কি না জেনে নিন। চেম্বার ছাড়ার আগেই পরের ফলোআপের তারিখ ঠিক করে আসুন।
আগের প্রস্রাব ও রক্তের রিপোর্ট, আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট আর পুরনো প্রেসক্রিপশন সঙ্গে আনুন। ওজন ও বাড়নের রেকর্ড থাকলে ডাক্তার দীর্ঘ সময়ের চিত্র বুঝতে পারেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ডায়েরিতে ঠিক কী কী লিখব?
তারিখ, জ্বরের সর্বোচ্চ মাত্রা, আর প্রস্রাবের লক্ষণ যেমন জ্বালা বা ঘোলা ভাব লিখুন। পরীক্ষার ফল, ওষুধের নাম আর কতদিন খাওয়া হয়েছে তাও যোগ করুন।
কতবার প্রস্রাবের সংক্রমণ হলে বেশি ধরা হবে?
ধাঁচটাই আসল: কত ঘন ঘন, কতটা কাছাকাছি সময়ে, আর প্রতিবার পরীক্ষায় ধরা পড়েছে কি না। ডায়েরি দেখে ডাক্তারই বিচার করবেন।
বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণে কি কিডনির ক্ষতি হয়?
হতে পারে। সংক্রমণ বারবার ফিরে এলে আর চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থাকলে ধীরে ধীরে কিডনিতে ক্ষত হতে পারে। তাই ধাঁচটা লিখে রাখা আর ফলোআপ পরীক্ষা করা এত জরুরি।
শিশুর প্রস্রাব একবার চায়ের রঙের হয়েছিল, চিন্তার বিষয়?
গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। চায়ের মতো রং মানে কিডনির ফিল্টারের প্রদাহ থেকে রক্ত যাচ্ছে হতে পারে। কাছাকাছি সময়ে প্রস্রাব পরীক্ষা আর রক্তচাপ মাপলেই বোঝা যাবে এটা একবারের ঘটনা নাকি আসল সমস্যা।
শরীর ফোলা মানেই কি নেফ্রোটিক সিনড্রোম?
না। অ্যালার্জি বা সংক্রমণসহ আরও কারণে শরীর ফুলতে পারে। প্রস্রাবে প্রোটিন আছে কি না পরীক্ষা করলেই দ্রুত নিশ্চিত হওয়া যায়, তাই বাড়িতে অনুমান না করে পরীক্ষা করান।
আমার শিশুকে কি বড় কেন্দ্রে নিতে হবে?
বেশিরভাগ শিশুর লাগে না। সাধারণ সমস্যাগুলো ওষুধ, পরীক্ষা আর ফলোআপেই সামলানো যায়। কিডনি বায়োপসির মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.