সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - হবিগঞ্জ
শিশুর প্রথম প্রস্রাবের রিপোর্ট হাতে পেলে
ল্যাব থেকে রিপোর্টটা এলো, আর আপনি তাকিয়ে আছেন অচেনা সব শব্দের দিকে। প্রোটিন: ট্রেস। পাস সেল: অনেক। এক লাইনে লেখা লোহিত রক্তকণিকা পাওয়া গেছে, দেখেই বুকটা ধড়ফড় করে উঠল। ভয় পাবেন না। বেশিরভাগ লাইনই রুটিন পরীক্ষার স্বাভাবিক ফল। শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ এই লাইনগুলো একটা পুরো চিত্র হিসেবে পড়েন, আলাদা আলাদা ভয়ের শব্দ হিসেবে নয়।
প্রস্রাবে প্রোটিন থাকলে নেফ্রোটিক সিনড্রোমের দিকে ইঙ্গিত হতে পারে, যেখানে কিডনি দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে গিয়ে শরীর ফুলে যায়। প্রস্রাবে রক্ত এলে কিডনির ফিল্টারের প্রদাহ, অর্থাৎ গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস থাকতে পারে, যাতে রক্তচাপও বেড়ে যায়। পাস সেল বেশি হলে সাধারণত সংক্রমণ বোঝায়, তখন কালচার পরীক্ষায় কোন জীবাণু দায়ী তা ধরা পড়ে।
হবিগঞ্জে অনেক বাবা-মা এই বিশেষজ্ঞের কাছে আসেন বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ হতে থাকলে। গল্পটা শুরু হয় ওই রিপোর্ট থেকেই। আপনার কাছে ছোট মনে হলেও রিপোর্টটা সঙ্গে আনুন।
প্রথম মতামতের জন্য হবিগঞ্জের ডাক্তারদের তালিকা দেখতে পারেন। রিপোর্টে কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত থাকলে একজন হবিগঞ্জের শিশু বিশেষজ্ঞ বলে দিতে পারবেন কিডনিকেন্দ্রিক ফলোআপ লাগবে কি না।
0 available specialists found
No Specialists Found
We couldn't find any doctors matching your exact criteria. Try removing some filters or checking back later.
রিপোর্টের কোন লাইনে কী বোঝায়
প্রোটিনের লাইনটাই ডাক্তাররা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। জ্বরের পর অল্প ট্রেস এলে তা নিজে নিজেই মিলিয়ে যেতে পারে। কিন্তু প্রোটিন থেকে গেলে, কিংবা মুখ ও শরীর ফোলা থাকলে কিডনির চিকিৎসা লাগে।
প্রস্রাবে রক্ত গেলে রং চায়ের মতো হয়ে যেতে পারে, আবার কখনো তা শুধু মাইক্রোস্কোপেই ধরা পড়ে। রক্তের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বুঝতে হয় কিডনির ফিল্টারে প্রদাহ আছে।
পাস সেল বেশি মানে সংক্রমণের দিকেই ইঙ্গিত। একবার সংক্রমণ শিশুদের ক্ষেত্রে খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু বারবার হতে থাকলে কারণটা খুঁজতে হয়, কারণ ভেতরে কিছু একটা সংক্রমণ ফিরে আসতে সাহায্য করছে হতে পারে।
কিছু শিশুর জন্ম থেকেই কিডনি বা প্রস্রাবের নালির গঠন একটু আলাদা থাকে। আলট্রাসনোগ্রামে এটা অনেক সময় লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই ধরা পড়ে।
প্রস্রাবের রিপোর্টের পর যেসব পরীক্ষা লাগে
কালচার পরীক্ষায় সংক্রমণের জীবাণুর নাম জানা যায়, ফলে ওষুধ ঠিকমতো বাছাই করা যায়। রক্তের ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন দেখে বোঝা যায় কিডনি বর্জ্য পরিষ্কার করতে পারছে কি না। আলট্রাসনোগ্রামে কিডনির আকার ও গঠন দেখা হয়, কোথাও বাধা আছে কি না তাও।
ভিজিটে রক্তচাপও মাপা হয়। শিশুদের কিডনির সমস্যায় রক্তচাপ প্রায়ই নীরবে বেড়ে থাকে, মাথাব্যথা বা অন্য কোনো অভিযোগ থাকে না। অল্প কিছু শিশুর আরও গভীর পরীক্ষা লাগতে পারে, সেক্ষেত্রে উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখলে অপেক্ষা করবেন না
শিশুর মুখ বা চোখ ফুলে গেলে, বিশেষ করে সকালে, দ্রুত ডাক্তার দেখান। প্রস্রাবে ফেনা, চায়ের মতো রং, কিংবা আগের চেয়ে অনেক কম প্রস্রাব হলেও দেখান। প্রস্রাবে জ্বালা নিয়ে বারবার জ্বর ফিরে এলেও তাই। ছয়-সাত বছর পেরিয়ে বিছানা ভেজানো আর বাড়ন থেমে যাওয়াও অবহেলা করার বিষয় নয়।
ফলোআপের জন্য ডাক্তার বাছাই
এমন ডাক্তার খুঁজুন যিনি নিয়মিত শিশুদের কিডনি ও প্রস্রাবের সমস্যা দেখেন। প্রস্রাবের পরীক্ষা আর আলট্রাসনোগ্রাম দেরি না করে করানো যায় কি না জেনে নিন, কারণ ফলোআপের সিদ্ধান্ত নতুন রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে। ফেরার সময় পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকা চাই: পরের পরীক্ষা কী, কবে আসবেন, আর বাড়িতে কোন পরিবর্তন দেখলে চিন্তা করবেন।
সঙ্গে যা নিয়ে যাবেন
শুধু সর্বশেষটা নয়, আগের সব প্রস্রাব ও রক্তের রিপোর্ট সঙ্গে নিন। আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট আর পুরনো প্রেসক্রিপশনও আনুন। ওজন বা বাড়নের রেকর্ড থাকলে তাও কাজে লাগে। পুরনো রিপোর্ট থাকলে ডাক্তার সংখ্যাগুলো মিলিয়ে দেখতে পারেন, অনুমান করতে হয় না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
শিশুর প্রস্রাবে প্রোটিন থাকলে কী বোঝায়?
কিডনির ফিল্টার দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে এটাই বোঝায়। নেফ্রোটিক সিনড্রোমে এমন হয়, আবার জ্বরের সময় সাময়িকভাবেও হতে পারে। আবার পরীক্ষা করলেই বোঝা যায় বিষয়টা কতটা গুরুতর।
পাস সেল মানেই কি প্রস্রাবের সংক্রমণ?
সাধারণত তাই বোঝায়, বিশেষ করে জ্বর বা প্রস্রাবে জ্বালা থাকলে। কালচার পরীক্ষায় জীবাণুটা নিশ্চিত হওয়া যায়। তারপর সেই অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয়।
শিশুর আবার রক্তচাপ মাপা হয় কেন?
কিডনির সমস্যায় রক্তচাপ কোনো লক্ষণ ছাড়াই বেড়ে থাকতে পারে। আগেভাগে ধরা পড়লে দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ক্ষতি ঠেকানো যায়। মাপতে এক মিনিটের বেশি লাগে না, ব্যথাও নেই।
সাত বছর বয়সেও বিছানা ভেজায়, এটা কি কিডনির সমস্যা?
বেশিরভাগ বিছানা ভেজানো কিডনির সমস্যা নয়। তবু ছয়-সাত বছর পেরিয়ে গেলে একবার প্রস্রাব পরীক্ষাসহ দেখিয়ে নেওয়া ভালো, যাতে সংক্রমণ বা কিডনির কারণ আছে কি না নিশ্চিত হওয়া যায়।
কিডনির আলট্রাসনোগ্রামে কী দেখা যায়?
কিডনির আকার ও গঠন দেখা যায়, প্রস্রাব ঠিকমতো বের হচ্ছে কি না তাও বোঝা যায়। জন্মগত গঠনের সমস্যা এতে ধরা পড়তে পারে। পরীক্ষাটা ব্যথাহীন আর সাধারণত তাড়াতাড়ি হয়ে যায়।
কতদিন পরপর ফলোআপে আসতে হবে?
রিপোর্টের ফলের ওপর নির্ভর করে। কারো একবার রিভিউ ভিজিটেই চলে যায়। আবার নেফ্রোটিক সিনড্রোমের মতো ক্ষেত্রে মাসের পর মাস নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা আর ফলোআপ লাগে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.