সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - গাজীপুর
বৃদ্ধির চার্টে রেখাটা থেমে গেলে
টিকার দিনে প্রতিবারই বাচ্চার ওজন নেওয়া হতো। গ্রোথ চার্টে রেখাটা বছর বছর উপরে উঠছিল। তারপর একসময় রেখাটা থেমে গেল। বাচ্চা খায়, খেলে, স্কুলে যায়। তবু উচ্চতা আর ওজন আগের মতো বাড়ছে না। গাজীপুরের অনেক পরিবার শুনে আসছেন, সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে।
অনেক সময় সত্যিই ঠিক হয়ে যায়। আবার অনেক সময় হয় না। শিশুদের কিডনির সমস্যার সবচেয়ে নীরব লক্ষণগুলোর একটি হলো বৃদ্ধি কমে যাওয়া। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে খিদে কমে, হাড়ের বৃদ্ধিতেও প্রভাব পড়ে। বাচ্চাকে দেখে অসুস্থ মনে হওয়ার আগেই এসব শুরু হতে পারে। শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ দেখেন, এর পেছনে কিডনি আছে কিনা।
পরীক্ষাগুলো ভয়ের কিছু নয়। বৃদ্ধির পুরনো রেকর্ড, প্রস্রাব পরীক্ষা আর কয়েকটা রক্ত পরীক্ষা দিয়েই শুরু হয়। রক্তচাপও মাপা হয়। কিডনি ভালো থাকলে দ্রুত নিশ্চিত হওয়া যায়। সমস্যা থাকলে আগেভাগে ধরা পড়াটাই বাচ্চার বাকি বৃদ্ধির বছরগুলো বাঁচিয়ে দেয়।
বাড়িতে থাকা গ্রোথ কার্ড বা ওজনের খাতাটা সঙ্গে নিন। গাজীপুরের ডাক্তারদের মধ্যে থেকে শিশুদের কিডনি সমস্যা নিয়মিত দেখেন এমন একজনকে বেছে নিন।
1 available specialists found
ডাঃ সাবরিনা শাহরিন
কিডনি যেভাবে বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে
সুস্থ কিডনি প্রতিদিন নীরবে অনেক কাজ করে। রক্ত পরিষ্কার রাখে, শরীরে পানি আর খনিজের ভারসাম্য ধরে রাখে। রক্ত তৈরি আর হাড়ের শক্তিতেও তার ভূমিকা আছে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে প্রথমে সাধারণত খিদে কমে যায়। বাচ্চা কম খায়, সহজে ক্লান্ত হয়। তারপর ধীরে ধীরে উচ্চতা বাড়াটা চার্টের হিসাবের চেয়ে পিছিয়ে পড়ে।
এই কারণেই কিডনির চিকিৎসায় গ্রোথ চার্ট জরুরি। অনুমানের দুশ্চিন্তা তখন মাপা তথ্যে বদলে যায়। ডাক্তার আজকের উচ্চতা আর ওজন আগের বছরগুলোর রেকর্ডের সঙ্গে মেলান। ধরনটা তখন পরিষ্কার বোঝা যায়।
শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ যেসব রোগ দেখেন
বারবার প্রস্রাবের ইনফেকশন রেফার হওয়ার সাধারণ কারণ। নেফ্রোটিক সিনড্রোমও আছে, যেখানে প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে শরীর ফুলে যায়। গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিসে প্রস্রাবে রক্ত আসতে পারে, রক্তচাপও বাড়তে পারে। কোনো বাচ্চা জন্ম থেকে কিডনি বা প্রস্রাবের নালির ভিন্ন গঠন নিয়ে আসে, তাদের দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। ছয়-সাত বছর পেরিয়ে বিছানা ভেজানো আর কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকাও এই বিশেষজ্ঞের আওতায় পড়ে।
আরও যেসব লক্ষণে চোখ রাখবেন
বৃদ্ধি কম হওয়া সাধারণত একা আসে না। সকালে চোখের চারপাশে ফোলা দেখলে খেয়াল করুন। প্রস্রাবে ফেনা, চায়ের মতো রং বা পরিমাণ অনেক কমে গেলে ডাক্তার দেখানো উচিত। প্রস্রাবের সময় জ্বালা নিয়ে জ্বর বারবার আসাটাও আরেকটা সংকেত। শিশুদের উচ্চ রক্তচাপের অনেক সময় কোনো লক্ষণই থাকে না, তাই ভিজিটে সেটা মেপে দেখা হয়।
গাজীপুরে ডাক্তার বাছাই
এমন ডাক্তার বাছুন, যাঁর চেম্বারে শিশুদের কিডনি সমস্যা সপ্তাহজুড়ে নিয়মিত আসে। প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা আর আলট্রাসনোগ্রাম সহজে করানোর ব্যবস্থা আছে কিনা জেনে নিন। লিখিত ফলোআপ পরিকল্পনা থাকলে ব্যস্ত মা-বাবার জন্যও হিসাব রাখা সহজ হয়। কবে আবার বৃদ্ধি মাপা হবে, সেটাও সেই পরিকল্পনায় থাকা উচিত। কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে না পারলে একজন গাজীপুরের শিশু বিশেষজ্ঞ প্রথম পরীক্ষাটা করে দিতে পারবেন।
যেসব রেকর্ড সঙ্গে রাখবেন
টিকার কার্ড বা গ্রোথ কার্ড থাকলে নিয়ে আসুন। আগের প্রস্রাব ও রক্তের রিপোর্ট, আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট আর পুরনো প্রেসক্রিপশনও যোগ করুন। স্কুলের স্বাস্থ্য রেকর্ডে উচ্চতা-ওজন লেখা থাকলে সেটাও ডাক্তারের কাজে লাগতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
কিডনির সমস্যায় সত্যিই কি বাচ্চার বৃদ্ধি কমে?
হ্যাঁ, কমতে পারে। কিডনি দুর্বল হলে খিদে, রক্ত তৈরি আর হাড়ের বৃদ্ধি, সবকটিতেই প্রভাব পড়ে। অন্য কোনো লক্ষণ আসার অনেক আগেই বাচ্চা গ্রোথ চার্টে পিছিয়ে পড়তে পারে।
বৃদ্ধি কমের জন্য ডাক্তার কোন পরীক্ষা দেবেন?
প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা, রক্তের ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন আর রক্তচাপ মাপা সাধারণত থাকেই। অনেক সময় কিডনির আলট্রাসনোগ্রামও করা হয়। এসব মিলিয়ে বোঝা যায় কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা।
বাচ্চাকে দেখে সুস্থ লাগে। তবু কি কিডনিই কারণ হতে পারে?
পারে। শিশুদের কিডনির রোগ অনেকদিন নীরবে থাকতে পারে। বাচ্চা স্বাভাবিকভাবে খায়, খেলে, পড়ে। এদিকে কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। জানার একমাত্র উপায় সহজ কয়েকটা পরীক্ষা।
বৃদ্ধির কোন রেকর্ডগুলো নিয়ে যাব?
টিকার কার্ড বা গ্রোথ চার্ট থাকলে সেটাই নিন। পুরনো ক্লিনিকের কাগজ, স্কুলের স্বাস্থ্য রেকর্ড, এমনকি খাতায় তারিখসহ লেখা ওজনও কাজে লাগে। ডাক্তারের দরকার একটা মাপ নয়, সময়ের ধারাবাহিক হিসাব।
চিকিৎসা হলে বাচ্চা কি বৃদ্ধিতে ধরে ফেলতে পারবে?
কারণ আর কত দেরিতে ধরা পড়েছে, তার ওপর নির্ভর করে। কিডনির চিকিৎসা শুরু হলে বৃদ্ধি আরও কমে যাওয়া ঠেকে। ফলোআপে ডাক্তার উচ্চতা-ওজন মেপে জানাবেন, কতটা অগ্রগতি আশা করা যায়।
বাড়িতে আর কোন লক্ষণে চোখ রাখব?
সকালে চোখের চারপাশে ফোলা খেয়াল করুন। প্রস্রাবে ফেনা, চায়ের মতো রং, পরিমাণ কমে যাওয়া আর জ্বালাসহ বারবার জ্বরও সংকেত। ছয়-সাত বছর পেরিয়ে বিছানা ভেজানো চলতে থাকলেও লিখে রাখুন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.