সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - ঢাকা
চেম্বার অনেক, ঠিক মানুষটা খুঁজে পাওয়াই কঠিন
ঢাকায় প্রায় সব এলাকাতেই শিশু ডাক্তারের চেম্বার আছে। শুনতে সহজ লাগে। বাস্তবে সন্তানের কিডনির সমস্যা হলে শুধু নামের লম্বা তালিকায় কাজ হয় না। দরকার এমন একজনকে, যিনি মাসের পর মাস কিডনির রোগীই দেখেন।
শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ শিশু ও কিশোরদের কিডনি আর প্রস্রাবের সমস্যার চিকিৎসা করেন। বারবার প্রস্রাবের ইনফেকশন, নেফ্রোটিক সিনড্রোম, প্রস্রাবে রক্ত, শিশুর উচ্চ রক্তচাপ, স্ক্যানে ধরা পড়া কিডনির গঠনগত ত্রুটি, সবই তার কাজের মধ্যে পড়ে। অনেক শিশুর কয়েকটা ভিজিট আর একটা পরিষ্কার প্রস্রাব রিপোর্টেই সমস্যা মিটে যায়।
আবার কারো চিকিৎসা চলে কয়েক মাস ধরে। রিপোর্ট অনুযায়ী ওষুধের মাত্রা বদলায়। বারবার রক্তচাপ মাপা হয়। বাড়ন খেয়াল রাখা হয়। এই ধরনের চিকিৎসায় ডাক্তারের রেকর্ড রাখার ধরন আর ফলোআপের তারিখ দেওয়ার অভ্যাস খুব জরুরি।
প্রথমে ঢাকার ডাক্তারদের মধ্যে বাসার কাছের চেম্বারগুলো দেখুন, বারবার যেতে হলে কাছে হওয়াটা সুবিধা। তারপর একটা প্রশ্নেই তালিকা ছোট করে ফেলুন। এই ডাক্তার কি নিয়মিত শিশুদের কিডনির রোগী দেখেন, নাকি এটা তার সাধারণ প্র্যাকটিসের ছোট্ট একটা অংশ?
112 available specialists found
সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মো. তারেক রহমান
ডাঃ মোঃ আব্দুর রহমান
Associate. Prof. Dr. Anwarul Haque Farazi
Dr. Md. Nabiul Hassan (Rana)
Dr. Tarannum Khondaker
Prof. Dr. Md. Golam Rabbani
Prof. Dr. Azmeri Sultana
Dr. Hasan Hafizur Rahman
কোন কোন সমস্যার চিকিৎসা হয় এখানে
নেফ্রোটিক সিনড্রোমের চিকিৎসা করেন শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ। এই অসুখে প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যায়, মুখ ও শরীর ফুলে ওঠে। গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিসও তিনি দেখেন, যেখানে প্রস্রাবের রং চায়ের মতো হয় আর রক্তচাপ বাড়ে। বারবার প্রস্রাবের ইনফেকশন, কিডনি ঠিকমতো কাজ না করা আর বয়স পেরিয়েও বিছানা ভেজানোও এই তালিকায় পড়ে।
কোনো শিশুর স্ক্যানে জন্মের আগেই কিডনি বা প্রস্রাবের নালির গঠনে পার্থক্য ধরা পড়ে। তাদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবে খেলে, খায়, বাড়ে। তবু নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা দরকার, কারণ কিডনির কার্যক্ষমতা ব্যথা ছাড়াই নীরবে কমতে পারে।
কখন দেখাতে যাবেন
সকালে সন্তানের চোখ বা মুখ ফুললে দ্রুত দেখান। সারা শরীর ফুলতে শুরু করলেও তাই। প্রস্রাব ফেনা ফেনা হলে, রং চায়ের মতো হলে বা পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কমে গেলে দেরি করবেন না। প্রস্রাবে জ্বালা নিয়ে জ্বর ফিরে ফিরে এলে কালচার ছাড়া বারবার ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়।
ছয়-সাত বছর পেরিয়ে বিছানা ভেজালে একবার ঠিকমতো পরীক্ষা করান। বাড়ন ধীর হলেও দেখান। শিশুর রক্তচাপ একবারও বেশি পাওয়া গেলে বিষয়টা গুরুত্ব দিন। এসব লক্ষণের সাধারণ কারণও আছে, তবে অনুমান করে বসে থাকা ঠিক নয়।
ঢাকায় ডাক্তার বাছাইয়ে সতর্কতা
চেম্বার অনেক বলেই বাছাইটা নামের বোর্ড দেখে করবেন না, উপযুক্ততা দেখে করুন। আগে থেকে কারো অধীনে না থাকলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ প্রথমে দেখে সৎভাবে বলে দিতে পারেন, কিডনি বিশেষজ্ঞ আদৌ লাগবে কি না। তারপর কিডনি ডাক্তারের মধ্যে তিনটা জিনিস খুঁজুন। নিয়মিত শিশু কিডনি রোগী দেখেন কি না, প্রস্রাব পরীক্ষা আর আলট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থা সহজ কি না, আর লিখিত ফলোআপ পরিকল্পনা দেন কি না।
জিজ্ঞেস করুন, ভিজিটের মাঝখানে রিপোর্ট ডাক্তারের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে। কোন লক্ষণ দেখলে আগেভাগে আসতে হবে, সেটাও জেনে নিন। যিনি সোজা উত্তর দেন, তিনি সময় নিয়ে রিপোর্টও দেখেন।
যাওয়ার আগে যা গুছিয়ে নেবেন
আগের সব প্রস্রাব ও রক্তের রিপোর্ট, আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট আর পুরনো প্রেসক্রিপশন নিন। ওজন ও বাড়নের রেকর্ড রাখলে সেগুলোও নিন। শিশু এখন যেসব ওষুধ খাচ্ছে তার তালিকা লিখুন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা ওষুধ থাকলেও লিখুন। শরীর ফোলা ওঠানামা করলে তারিখগুলো লিখে রাখুন। এসব থাকলে একই পরীক্ষা বারবার লাগে না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
শিশু বিশেষজ্ঞ আর শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞের পার্থক্য কী?
শিশু বিশেষজ্ঞ শিশুদের সব ধরনের অসুখ দেখেন। শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞের মনোযোগ কিডনি আর প্রস্রাবের ব্যবস্থায়, আর নেফ্রোটিক সিনড্রোমের মতো অসুখ তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফলোআপ করেন। অনেক শিশু দুজনের কাছেই যায়। সাধারণ যত্নে একজন, কিডনির সমস্যায় আরেকজন।
প্রথম ভিজিটে কোন কোন পরীক্ষা হয়?
সাধারণত প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা ও কালচার, রক্তের ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন, কিডনির আলট্রাসনোগ্রাম আর রক্তচাপ মাপা হয়। প্রথম সিদ্ধান্তের বেশির ভাগই আসে এগুলো থেকে। পরে অল্প কিছু শিশুর বড় কেন্দ্রে বায়োপসি বা বিশেষ স্ক্যান লাগতে পারে।
শিশুর প্রস্রাব ফেনা ফেনা। মানেই কি কিডনি নষ্ট?
সবসময় নয়। জোরে প্রস্রাব করলে বা শরীরে পানি কম থাকলেও ফেনা হতে পারে। তবে ফেনা থেকে গেলে প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন যাওয়ার সন্দেহ হয়। একটা পরীক্ষা করিয়ে নিন, উত্তর পেয়ে যাবেন।
শিশুর উচ্চ রক্তচাপ কি কিডনি থেকে হতে পারে?
হ্যাঁ, পারে। শিশুর রক্তচাপ বেশি পেলে ডাক্তাররা কিডনি পরীক্ষা করেন। কিডনির সমস্যা রক্তচাপ বাড়ায়, আবার বেশি রক্তচাপ কিডনির ওপর চাপ ফেলে। তাই এই ভিজিটগুলোতে দুটোই একসঙ্গে দেখা হয়।
কত দিন পরপর ফলোআপে যেতে হবে?
অসুখ আর রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে। একবারের প্রস্রাব ইনফেকশন সারলে একটা রিভিউ আর আরেকটা প্রস্রাব পরীক্ষাই যথেষ্ট হতে পারে। নেফ্রোটিক সিনড্রোমে প্রথমে কয়েক সপ্তাহ পরপর, পরে অবস্থা স্থির হলে ব্যবধান বাড়ে।
চিকিৎসা লম্বা হচ্ছে দেখে ডাক্তার বদলাব?
কিডনির চিকিৎসা স্বভাবেই ধীর, রিপোর্ট ধাপে ধাপে ভালো হয়। বারবার ডাক্তার বদলালে শিশুর পুরনো ইতিহাস হারিয়ে যায়। পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ থাকলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন পরের ধাপ কী। তারপর সিদ্ধান্ত নিন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.