সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - চট্টগ্রাম
প্রথম দেখাতেই বেশিরভাগ কাজ পরীক্ষা
অনেক বাবা-মা ভাবেন, ডাক্তার দেখালেই প্রেসক্রিপশন মিলবে আর কাজ শেষ। শিশু কিডনির বেলায় তা হয় না। ডাক্তার প্রথমে জানতে চান, শিশু কতবার প্রস্রাব করে, শরীর ফুলেছে কিনা, জ্বর বারবার আসে কিনা, আগের রিপোর্টে কী ছিল।
এরপর কয়েকটা সাধারণ পরীক্ষা। প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষায় প্রোটিন, রক্ত আর সংক্রমণের লক্ষণ ধরা পড়ে। কালচার পরীক্ষায় বোঝা যায় কোন জীবাণু আছে। রক্তের ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন দেখে কিডনি কেমন কাজ করছে তা জানা যায়। আলট্রাসনোগ্রামে দুই কিডনির আকার দেখা হয়। রক্তচাপও মাপা হয়, কারণ শিশুদের কিডনির সমস্যায় রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। রিপোর্ট হাতে পেলে তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে রাখুন, পরের ভিজিটে তুলনা করতে কাজে লাগবে। শিশুর ওজন-উচ্চতাও তখন নোট করা হয়।
এই পরীক্ষাগুলোতে ব্যথা নেই। শুধু প্রস্রাবের নমুনাটা পরিষ্কার করে দিতে হয়, মাঝপথের প্রস্রাব নিলে রিপোর্ট ভালো আসে। যাওয়ার আগে ডাক্তারের কাছে প্রতিটা রিপোর্টের মানে সহজ করে বুঝে নিন। শিশুকে সঙ্গে নিন, উপসর্গ এখন কম থাকলেও। কিডনি বিশেষজ্ঞের সিরিয়াল না পেলে শুরুটা করতে পারেন চট্টগ্রামের ডাক্তারদের তালিকা থেকে।
6 available specialists found
Dr. Noor Uddin Zahed
Dr. Satyajit Roy
Prof. Dr. M. A. Kashem
Prof. Dr. Emran Bin Yunus
Dr. Ratan Kanti Saha
Prof. Dr. Dipti Chowdhury
শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ যেসব সমস্যার চিকিৎসা করেন
বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ নিয়েই সবচেয়ে বেশি পরিবার আসে। আরেকটা বড় সমস্যা নেফ্রোটিক সিনড্রোম। এতে প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন বের হয়ে যায়, শরীর ফুলে ওঠে। গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিসে প্রস্রাবে রক্ত আসে, রক্তচাপ বেড়ে যায়, কিডনির ওপর চাপ পড়ে।
কিছু শিশুর জন্ম থেকেই কিডনি বা প্রস্রাবের নালিতে সমস্যা থাকে, স্ক্যানে ধরা পড়ে। আবার কারও বয়স পেরিয়ে গেলেও বিছানা ভেজানো থামে না। বৃদ্ধি কম হওয়া, রক্তচাপ বেশি থাকাও এই বিশেষজ্ঞের কাজের মধ্যে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে একবারের ওষুধে কাজ শেষ হয় না, ধারাবাহিক পরিকল্পনা লাগে।
যেসব লক্ষণ দেখলে দেরি করবেন না
সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ-মুখ ফোলা দেখলে ডাক্তার দেখান। সারা শরীর ফুললেও তাই। প্রস্রাব ফেনা ফেনা হলে, চায়ের মতো রঙ হলে, কিংবা পরিমাণ অনেক কমে গেলেও দেরি করা ঠিক নয়। প্রস্রাবে জ্বালা নিয়ে জ্বর বারবার ফিরে এলেও পরীক্ষা দরকার।
ডাক্তার বাছাই করবেন কীভাবে
এমন ডাক্তার খুঁজুন যিনি নিয়মিত শিশুদের কিডনি ও প্রস্রাবের সমস্যা দেখেন। জেনে নিন প্রস্রাব, রক্ত আর আলট্রাসনোগ্রাম একই চেম্বার থেকে বা কাছাকাছি করানো যায় কিনা। কিডনির চিকিৎসায় ফলো-আপ খুব জরুরি, তাই কতদিন পরপর দেখাতে হবে সেটা প্রথম দিনই জিজ্ঞেস করুন। শিশু যদি আগে থেকেই কোনো শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যায়, তিনিই প্রথম পরীক্ষাগুলো করে দিতে পারেন, প্রয়োজনে রেফারও করবেন।
যাওয়ার আগে প্রস্তুতি
আগের সব রিপোর্ট সঙ্গে নিন। প্রস্রাব ও রক্তের রিপোর্ট, আলট্রাসনোগ্রাম, পুরনো প্রেসক্রিপশন, সবই লাগতে পারে। সাম্প্রতিক ওজন ও উচ্চতা জানা থাকলে লিখে রাখুন, বৃদ্ধির হিসাব ডাক্তারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি ওষুধের নাম ও মাত্রাও নোট করুন। ছোট ছোট তথ্য, যেমন সপ্তাহে কয়রাত বিছানা ভেজে, রোগ ধরতে সাহায্য করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
কোন বয়স পর্যন্ত বিছানা ভেজানো স্বাভাবিক?
বেশিরভাগ শিশু পাঁচ-ছয় বছরেই বিছানা ভেজানো ছেড়ে দেয়। ছয়-সাত বছর পেরিয়েও চলতে থাকলে, বা মাঝে বন্ধ হয়ে আবার শুরু হলে পরীক্ষা করান। কিডনির সমস্যা একটা কারণ হতে পারে, তবে আরও অনেক কারণ আছে। আগে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
প্রতি ভিজিটেই কি প্রস্রাব পরীক্ষা লাগবে?
বেশিরভাগ সময়ই লাগে। সাধারণ এই পরীক্ষায় প্রোটিন, রক্ত আর সংক্রমণের লক্ষণ মিনিটেই বোঝা যায়। আগের রিপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে চিকিৎসা কাজ করছে কিনা তা পরিষ্কার হয়। পরীক্ষাটা সহজ, ব্যথাও নেই।
চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়া কীসের লক্ষণ?
সকালে চোখের পাতা ফোলা হতে পারে প্রস্রাব দিয়ে প্রোটিন যাওয়ার লক্ষণ, যেমন নেফ্রোটিক সিনড্রোমে হয়। অ্যালার্জি বা ঘুম কম হলেও এমন হতে পারে। প্রস্রাব পরীক্ষা একটা করলেই উত্তর মিলবে, তাই বসে থেকে অপেক্ষা করা ঠিক নয়।
প্রস্রাবের সংক্রমণে কি কিডনি নষ্ট হতে পারে?
সময়মতো চিকিৎসা পেলে সাধারণ সংক্রমণে স্থায়ী ক্ষতি হয় না। কিন্তু সংক্রমণ বারবার হলে বা চিকিৎসা না হলে কিডনিতে দাগ পড়তে পারে। তাই ছোট শিশুর প্রস্রাবের উপসর্গসহ জ্বর এলে অবহেলা করবেন না।
আমার শিশুর কি কিডনি বায়োপসি লাগবে?
বেশিরভাগ শিশুরই লাগে না। রিপোর্ট আর স্ক্যানে সমস্যা পরিষ্কার না হলে, কিংবা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত টিস্যুর রিপোর্টের ওপর নির্ভর করলে তখনই বায়োপসির কথা আসে। লাগলে ডাক্তার হয়তো বড় কোনো সেন্টারে রেফার করবেন, যেখানে শিশুদের জন্য এই ব্যবস্থা আছে।
ফলো-আপে কতদিন পরপর যেতে হবে?
রোগ অনুযায়ী ঠিক হয়। সাধারণ সংক্রমণে ওষুধ শেষে একবার দেখালেই চলতে পারে। নেফ্রোটিক সিনড্রোম বা দুর্বল কিডনিতে মাসের পর মাস নিয়মিত দেখাতে হয়, রিপোর্টও বারবার করতে হয়। প্রথম ভিজিটেই ডাক্তার সময়টা বলে দেবেন।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.