সেরা শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ - চট্টগ্রাম
আট বছর বয়সেও বিছানা ভেজালে পরীক্ষা করানো উচিত
অনেক বাবা-মা লজ্জা নিয়ে আসেন, যেন এটা শৃঙ্খলার ঘাটতি। ছয়-সাত বছর পেরিয়ে নিয়মিত বিছানা ভেজানো আসলে চিকিৎসার প্রশ্ন, আচরণের নয়। শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ, যাঁকে পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজিস্ট বলা হয়, তিনি বের করেন এর পেছনে কিডনি বা প্রস্রাবের নালির ভূমিকা আছে কি না।
এ ছাড়া তিনি দেখেন বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ আর নেফ্রোটিক সিনড্রোম, যেখানে প্রস্রাবে প্রোটিন গিয়ে শরীর ফুলে যায়। কিডনির ফিল্টারের প্রদাহও দেখেন, যাতে প্রস্রাব চায়ের মতো রঙ হয়। জন্ম থেকে থাকা কিডনি বা প্রস্রাবের ত্রুটিও এর আওতায় পড়ে। কিডনির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া আর শিশুদের উচ্চ রক্তচাপও তাঁর চিকিৎসার মধ্যে পড়ে।
মুখ বা শরীর ফোলা, প্রস্রাবে ফেনা বা রক্ত দেখলে দেরি করবেন না। প্রস্রাব আগের চেয়ে অনেক কম হলেও দেখাবেন, প্রস্রাবের সংক্রমণের সঙ্গে বারবার জ্বর হলেও তাই। বৃদ্ধি কম হওয়া আর বিছানা ভেজানো চলতে থাকলেও দেখানো দরকার।
বন্দরনগরী এই বিভাগীয় শহরে প্রথম পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের ডাক্তারদের তালিকা দেখতে পারেন। কিডনির নির্দিষ্ট যত্নের জন্য একজন চট্টগ্রামের শিশু বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা আর ফলোআপের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন।
18 available specialists found
Dr. Noor Uddin Zahed
Dr. Md. Kamrul Hasan
Dr. Satyajit Roy
Dr. Munir Ahsan Khan
Prof. Dr. M. A. Kashem
Prof. Dr. Emran Bin Yunus
Dr Merina Arjumand
Dr. Susmita Biswas
Dr. Mohammed Maruf-Ul-Quader
Prof. Dr. Md. Nurul Huda
পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাধারণত যেভাবে এগোয়
প্রথম আলোচনাটা বিস্তারিত হয়। ডাক্তার জানতে চাইবেন দিনে-রাতে প্রস্রাবের অভ্যাস, পানি খাওয়ার পরিমাণ, আগের সংক্রমণ আর বৃদ্ধির কথা। ফোলা বা প্রস্রাবের রঙে বদল খেয়াল করেছেন কি না, তাও জানতে চাইবেন। বিছানা ভেজানোর ক্ষেত্রে ভেজা আর শুকনো রাতের সাধারণ একটা ডায়েরি অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি কাজে দেয়।
পরীক্ষা শুরু হয় সাধারণভাবে। প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষায় সংক্রমণ, প্রোটিন আর রক্ত দেখা হয়, সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকলে কালচারও করা হয়। রক্তের ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনে কিডনি কেমন কাজ করছে বোঝা যায়। কিডনি আর মূত্রথলির আলট্রাসনোগ্রামে আকার, গঠন আর জন্মগত সমস্যা দেখা হয়।
রক্তচাপ মাপা হয় শিশুর মাপের কাফ দিয়ে। কিডনিজনিত উচ্চ রক্তচাপ প্রায় নিজে থেকে ধরা দেয় না, তাই এই নীরব পরীক্ষাটা ভিজিটের অন্যতম মূল্যবান অংশ।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধ, অভ্যাসের পরিবর্তন আর পরিকল্পিত ফলোআপেই কাজ চলে। অল্প কিছু শিশুর কিডনি বায়োপসি বা বিশেষ স্ক্যান লাগতে পারে, সেজন্য উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হতে পারে। আপনার শিশু কোন দলে পড়ছে আর কেন, ডাক্তারের কাছ থেকে তা পরিষ্কার করে জেনে নিন।
কিডনির যত্নের জন্য ডাক্তার বাছাই
এমন ডাক্তার বাছুন যাঁর চেম্বারে শিশুদের কিডনি ও প্রস্রাবের রোগী নিয়মিত আসে। প্রস্রাবের পরীক্ষা আর কিডনির আলট্রাসনোগ্রাম সহজে করানো যায় কি না জিজ্ঞেস করুন। প্রতি ফলোআপে আগের রিপোর্ট কীভাবে দেখা হবে, তাও জেনে নিন।
পরিকল্পনাটা শিশুকেও বুঝিয়ে বললে সে ভালো সাড়া দেয়। যে ডাক্তার শিশুর সঙ্গে কথা বলেন, শুধু শিশুকে নিয়ে নয়, তিনি সাধারণত পরীক্ষা, ওষুধ আর পানি খাওয়ার অভ্যাসে ভালো সহযোগিতা পান।
যেসব রেকর্ড সঙ্গে রাখবেন
আগের প্রস্রাব ও রক্তের রিপোর্ট, আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট আর পুরনো প্রেসক্রিপশন আনুন। ওজন বা বৃদ্ধির রেকর্ড থাকলে সেটাও যোগ করুন। বিছানা ভেজানোর জন্য দুই সপ্তাহের রাতের ডায়েরি সত্যিই কাজে লাগে। পুরনো কাগজপত্র অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়, নইলে পরীক্ষা আবার করতে হতো।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
আমার শিশুর বয়স আট, এখনো বিছানা ভেজায়। বিশেষজ্ঞ দেখাব?
হ্যাঁ, পরীক্ষা করানো ভালো। এই বয়সে বেশিরভাগ বিছানা ভেজানোর সহজ ব্যাখ্যা থাকে, তবে ডাক্তার প্রথমে প্রস্রাবের সংক্রমণ, কিডনির কারণ আর কোষ্ঠকাঠিন্য আছে কি না দেখবেন। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা হয়, শুরুটা প্রায়ই অভ্যাস আর রাতের ডায়েরি দিয়ে।
শিশুদের নেফ্রোটিক সিনড্রোম কী?
এটা কিডনির এমন অবস্থা যেখানে প্রস্রাবে প্রোটিন বেরিয়ে যায়, প্রস্রাবে ফেনা ওঠে, আর শরীরে পানি জমে মুখ ও পা ফুলে যায়। প্রস্রাব ও রক্তের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, সাধারণত ওষুধ আর ঘনিষ্ঠ ফলোআপে চিকিৎসা চলে।
শিশুর উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে কীভাবে?
শুধু মেপেই, কারণ শিশুরা সাধারণত টের পায় না। কিডনির ভিজিটে শিশুর মাপের কাফ দিয়ে রক্তচাপ মাপা হয়। বারবার বেশি আসলে ডাক্তার কিডনি আর প্রস্রাবের রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখেন।
কিডনির আলট্রাসনোগ্রামে কী দেখা যায়?
কিডনির আকার ও গঠন, প্রস্রাবের পথে ফোলা, পাথর, আর জন্ম থেকে থাকা কিছু সমস্যা দেখা যায়। এতে ব্যথা নেই, রেডিয়েশনও নেই, তাই কিডনির লক্ষণ থাকা শিশুদের প্রথম স্ক্যান হিসেবে এটাই সাধারণ।
কিডনির সমস্যা কি লক্ষণ ছাড়াই নীরবে থাকতে পারে?
কিছু ক্ষেত্রে পারে। শিশু সুস্থ বোধ করলেও প্রস্রাব পরীক্ষায় প্রোটিন বা রক্ত মিলতে পারে, কিংবা রক্তচাপ বেশি থাকতে পারে। তাই বারবার সংক্রমণ, বৃদ্ধি কম, অথবা জন্মের স্ক্যানে পাওয়া কোনো বিষয় থাকলে শিশু ভালো থাকলেও ফলোআপ করা উচিত।
কখন শিশুকে উচ্চতর পর্যায়ের কেন্দ্রে রেফার করা হয়?
যখন বায়োপসি, বিশেষ স্ক্যান বা এমন চিকিৎসা দরকার হয় যা কাছাকাছি পাওয়া যায় না। আপনার বিশেষজ্ঞ রেফারের কারণ বুঝিয়ে বলবেন আর শিশুর রিপোর্টগুলো সঙ্গে দেবেন, যাতে পরের দল পুরো চিত্র নিয়ে শুরু করতে পারে।
Sponsor Space Available
Place your banner here to reach thousands of patients daily.
Grow Your Practice
Premium placement for hospitals & doctors.